০৫:৫৬ পি.এম
ঢাকা, ১০ আগস্ট, ২০২৬ : সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ১৬ বাংলাদেশি কর্মীর পরিচয় শনাক্ত করতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষাও করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে হাজির হন। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে মোট ১৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। উদ্ধার অভিযানটি সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ১১টায় শেষ হয়।
প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমী উপলক্ষে আজ সারা দেশে বন্ধ স্বর্ণ বেচাকেনা
বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। দূতাবাস জানায়, কারখানাটির একমাত্র জীবিত কর্মী হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে চুল কাটানোর জন্য সেলুনে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি কারখানায় আগুন জ্বলতে দেখতে পান।
হাবিবুরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের পরিচালনাধীন ওই কারখানায় মোট ১৭ জন বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের ফলে তাদের মধ্যে ১৬ জনই ঘটনাস্থলে মারা যান।
সম্পর্কিত স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে আটজন সরাসরি আগুনের শিকার হয়ে মারা যান এবং অপর আটজন কালো ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান। নিহত সবাই কারখানার একটি অংশে বসবাস করতেন।
দূতাবাস জানায়, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের সবার পাসপোর্ট ও ইকামা পুড়ে গেছে। এ কারণে মৃতদের পরিচয় শনাক্তে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
আরও পড়ুন: আমি খুবই চিন্তিত: নেতানিয়াহু আসন্ন নির্বাচনে জয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন
শিফা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ফয়সাল আলউতাইবি জানিয়েছেন, নিহতদের পরিচয়ক্রান্ত ডকুমেন্ট নষ্ট হয়ে যাওয়ার জন্য প্রথমত আঙুলের ছাপ দিয়ে তাদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত সম্ভব না হলে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।
পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষ মৃতদের অনুকূলে মৃত্যু সনদ ইস্যু করবে। এরপর মৃতদেহগুলো সৌদি আরবে দাফন অথবা বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়ে নিহতদের পরিবারের লিখিত মতামতের ভিত্তিতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে।
দূতাবাস এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও পরবর্তী প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
আরও পড়ুন: আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, ৪৭.৪২% পরিবার ঋণের চাপের মধ্যে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন