১২:৪৭ পি.এম
সদ্য সমাপ্ত গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে পাকিস্তানের ভরাডুবি ঘটেছে। ৩৬ সদস্যের পাকিস্তান দলকে মাত্র একটি ব্রোঞ্জ পদক নিয়েই ঘরে ফিরতে হয়েছে।
১৯৯০ সালের পরের কমনওয়েলথ গেমসে এটি পাকিস্তানের সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স। এই ভরাডুবির জন্য পাকিস্তানের ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের অবহেলাকেই দায়ী করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের বড় ভরসা জ্যাভলিন থ্রোয়ার আরশাদ নাদিমই সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছেন। ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে ৯০ দশমিক ১২ মিটার ছুঁড়িয়ে স্বর্ণপদক জেতা আরশাদ এবারের গেমসে ৮০ মিটারের গণ্ডিও পার করতে পারেননি। তিনি নবম হয়ে ৮ জনের ফাইনাল রাউন্ডেও উঠতে ব্যর্থ হয়েছেন, আর অলিম্পিকে ৯২ দশমিক ৯৭ মিটারের রেকর্ড থ্রো করে স্বর্ণপদক জেতা এই তারকাকে ৮০ মিটার পার করতেই এভাবে সংগ্রাম করতে দেখা তার ভক্তদের জন্য ছিল এক মস্ত বড় ধাক্কা।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আরশাদের এই ব্যর্থতার জন্য তার অনুশীলনের ঘাটতি ও পাকিস্তান ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর উপেক্ষাকেই দায়ী করা হচ্ছে। আরশাদের দীর্ঘদিনের কোচ সালমান বাট স্বীকার করেছেন যে, কমনওয়েলথ গেমসে আরশাদ কোনোভাবেই তার সেরা ফর্মে ছিলেন না এবং তার প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল।
তার এই ছন্দপতনের জন্য আংশিকভাবে আরশাদ নিজেও দায়ী, কারণ ফাইনালের সময় তাকে শতভাগ ফিট মনে হচ্ছিল না। তবে ট্র্যাকের বাইরেও তাকে অনেক সমস্যার সাথে লড়াই করতে হয়েছে।
আরশাদের এবারের ফলাফল মোটেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। কারণ এবারের কমনওয়েলথ গেমসের প্রস্তুতি হিসেবে আরশাদ সুইজারল্যান্ডে মাত্র একটি ইভেন্টে অংশ নিতে পেরেছিলেন। এছাড়া তিনি কোনো বিদেশী কোচ বা ট্রেইনারের সরাসরি সাহায্য ছাড়াই লাহোরের তীব্র গরমের মধ্যে একা একা অনুশীলন করে পুরো সময় পার করেন।
আরশাদ আগে দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ টারসিয়াস লিবেনবার্গের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, এবার তিনি স্থানীয় কোচ সালমান বাট এবং স্থানীয় ট্রেইনারদের সাথেই অনুশীলন করেন। লাহোরের তীব্র গরমে অনুশীলনের ফলে গ্লাসগোর আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নেয়ার কোনো সুযোগই পাননি তিনি।
আরও পড়ুন: সবজি কিনতে গেলে মনে হয় মাংস কিনছি, গরু-ইলিশের কথা মানুষ ভুলে যাবে: আসিফ মাহমুদ
গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে জ্যাভলিন থ্রো ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতেছেন শ্রীলঙ্কার রুমেশ পাথিরাগে। ভারতের নীরজ চোপড়া ও যশবীর সিং যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। আরশাদ লাহোরের তীব্র গরমে একা একা অনুশীলন করতে গিয়ে দেশের বাইরে উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা পাওয়া ভারতীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়েন। ভারতের নীরজ সুইজারল্যান্ডের বিয়েনে তার প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে চূড়ান্ত প্রস্তুতি এবং রিহ্যাবিলিটেশন ক্যাম্প করেছেন। এবং তার সতীর্থ রোহিত যাদব ও যশবীর সিং পোল্যান্ডের স্পালায় বিদেশী কোচ ও ট্রেইনারদের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।
পাকিস্তান ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের সাথে আরশাদের মূল বিরোধটা কোচ হিসেবে সালমান বাটকে বহাল রাখা নিয়ে। এ বিরোধের কারণে পাকিস্তান অ্যামেচার অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন আরশাদকে পুরোপুরি ত্যাগ করে। আরশাদের ঘনিষ্ঠ একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের শেষের দিকে কমনওয়েলথ গেমসের প্রস্তুতি শুরু করার সময় অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন এবং পাকিস্তান স্পোর্টস বোর্ড এই জ্যাভলিন থ্রোয়ারের পাশে দাড়াননি। উক্ত সূত্রটি আরও জানায়, ফেডারেশন আরশাদের প্রস্তুতি থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে নেয় এবং তাকে তার ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেয়। এখান পর্যন্ত, তার প্রশিক্ষণের ব্যাপারে করা কয়েকটি অনুরোধও তারা রাখেনি। একইভাবে, লাহোরে নিজের মত অনুশীলনের সময়ও আরশাদের জন্য কোনো বিদেশী কোচ বা ট্রেইনারের তহবিলের অর্থ ছাড় করেনি পাকিস্তান স্পোর্টস বোর্ড।
পাকিস্তানের সাবেক অলিম্পিক বক্সিং ব্রোঞ্জ পদক জয়ী হুসেন শাহ হতাশ কণ্ঠে বলেন, 'তিনি (আরশাদ) এমন একজন ক্রীড়াবিদ, যিনি সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায় গড়ে উঠেছেন। একটি গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন এবং একটি নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তান। তারপরও নিজের স্বর্ণপদক দিয়ে তিনি পাকিস্তানের জন্য এত গৌরব বয়ে এনেছেন। অথচ তিনি কমনওয়েলথ গেমসের জন্য ঠিকমতো প্রস্তুতিই নিতে পারলেন না। এটি আমাদের ক্রীড়া কাঠামোর একটি দুঃখজনক প্রতিফলন।'
হতাশা পাকিস্তানের হয়ে একমাত্র পদকজয়ী নারী বক্সার ফাতিমা জেহরার কণ্ঠেও। ফাতিমার দাবি, আরও ভালো প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে, তিনি তার ওজন শ্রেণীতে স্বর্ণপদক জিততে পারতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফাতিমাকে ব্রোঞ্জ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
আরও পড়ুন: এনসিপির নতুন কমিটিতে ৩ নেতার পদাবনতি, কারণ অজানা
অলিম্পিক রেকর্ডধারী জ্যাভলিন থ্রোয়ার নাদিম কমনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের পতাকা বহন করলেও সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের পতাকা ছিল ফাতিমার হাতে। ফাতিমা কমনওয়েলথ গেমসে পাকিস্তানের ইতিহাসে সর্বপ্রথম নারী পদকজয়ী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন