ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে পূর্ণমন্ত্রী চেয়ে ৩২ বিশিষ্ট নাগরিকের আহ্বান


পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে পূর্ণমন্ত্রী চেয়ে ৩২ বিশিষ্ট নাগরিকের আহ্বান

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর পদত্যাগের পর সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দেশের ৩২ জন বিশিষ্ট নাগরিক একটি আবেদন জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের একজন আস্থাভাজন প্রতিনিধিকে অবিলম্বে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত। এই নাগরিকদের দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দিনেই পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একজন পূর্ণমন্ত্রীর হাতে অর্পণ করার ফলে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি যে আস্থা তৈরি হয়েছিল, তা নষ্ট হওয়া উচিত নয়। কিন্তু কর্মকর্তার পদত্যাগের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সেই আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ সম্পর্কে শুক্রবার (২৬ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। এ বিবৃতিতে সাইন করেছেন মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, শিক্ষক, গবেষক, লেখক এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাদের মধ্যে সুলতানা কামাল, খুশী কবির, ড. ইফতেখারুজ্জামান, জেড আই খান পান্না, ব্যারিস্টার সারা হোসেন,ড. শহিদুল আলম, ড. গীতি আরা নাসরিন, ড. জোবাইদা নাসরীন, পাভেল পার্থ, সালমা আলী, কাজল দেবনাথ, রেজাউল করিম চৌধুরী, দীপায়ন খীসা, মুক্তাশ্রী চাকমা, মেইনথিন প্রমীলা প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এ ঘটনায় পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। কিছু বিশেষ মহল দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাধা সৃষ্টি করছে বলে মনে হচ্ছে। তাই পাহাড়ি জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। তারা আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহাসিকভাবে বৈষম্য এবং বঞ্চনার শিকার রয়েছে। তাদের স্বতন্ত্র জীবনধারা, সংস্কৃতি এবং অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সই হয়েছিল। তারা উল্লেখ করেছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারেও পাহাড় এবং সমতলের আদিবাসীদের অধিকার বিবেচনায় নিয়ে ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে শূন্যতা সৃষ্টি হওয়া পাহাড়ি জনগণের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করছে, যা সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ইতিবাচক নয়। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দ্রুত বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিধান অনুযায়ী পাহাড়ি জনগণের মধ্য থেকে তাদের আস্থাভাজন একজনকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত। বিবৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ‘ঘ’ খণ্ডের ১৯ ধারার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সেখানে উপজাতীয়দের মধ্যে একজন মন্ত্রী নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। তাদের কাছে এই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অতীতে বিএনপি সরকারের সময়ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর একজন সদস্যকে উপমন্ত্রী করা হয়েছিল এবং মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দায়িত্ব ওই সদস্যের ওপরেই ন্যস্ত ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়ানক বিপর্যয়ের হাত থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করুন এবং বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোনো কালক্ষেপণ না করে সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি উল্লেখ করেন, অনেক পরিকল্পনা ও আলোচনা করা হয়েছে, এখন আর আইডিয়া বা কথার কথা শোনার সময় নেই। মানুষের জীবন বাঁচাতে আমাদের এখনই কার্যকর কাজ দেখাতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ফ্রান্সের প্যারিসে দেশটর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ‘অ্যালায়েন্স ফর ট্রান্সফরমেটিভ অ্যাকশনস অন ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথ’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত সভায় সুপারিশ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলসহ ‘জলবায়ু-সহনশীল ও স্বল্প-কার্বন নিঃসরণকারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি’ নিয়ে তিনি বক্তৃতা করেন।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ‘অ্যালায়েন্স ফর ট্রান্সফরমেটিভ অ্যাকশনস অন ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথ’ এর যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী এই সভার আয়োজন করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন তার বক্তব্যে ফ্রান্সে চলমান তীব্র গরমে প্রাণহীন হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার এবং ভেনেজুয়েলায় সম্প্রতি ঘটিত ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

উপকূলীয় অঞ্চলের সুপেয় পানির তীব্র সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, কক্সবাজার থেকে শুরু করে দীর্ঘ দক্ষিণবঙ্গের বিশাল উপকূলীয় এলাকায় বেশ গভীর পানির অভাব দেখা দিয়েছে। চারপাশের পানি লবণাক্ত ও দূষিত হয়ে গেছে, যা পানযোগ্য তো নয়ই, গোসল অথবা নিত্যদিনের কাজে ব্যবহারের জন্যও অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এতটাই নিচে নেমে গেছে যে সাধারণ কিংবা গভীর নলকূপ দিয়েও এখন পৃষ্ঠতলে পানি তোলা যাচ্ছে না। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিটি বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর নিবিড় নজরে নিতে এবং সমাধানের জন্য এগিয়ে আসা উচিত।

দরিদ্র এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে রোগব্যাধির প্রকোপ কমাতে এবং অর্থায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর স্পষ্টভাবে পড়ছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই অঞ্চলে ইতোমধ্যে সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগব্যাধী মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

উন্নত দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে থাকা রাষ্ট্রগুলোর রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ স্বাস্থ্য তহবিল গঠন করার দাবি জানান তিনি।

দেশে বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োজনে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের মতো অনেক দেশ এখনও উন্নত পদ্ধতির পরিবর্তে পুরনো পদ্ধতিতে কয়লা পুড়িয়ে ইটভাটায় কাজ করতে শুরু করেছে, যার ফলে প্রচুর ক্ষতিকর ধোঁয়া ও গ্যাস সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আধুনিক ব্লক তৈরির কৌশল গ্রহণ করা আবশ্যক। আর এই রূপান্তরের জন্য বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

বহুমুখী সমন্বয় ও কারিগরি সহায়তার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন পরিমাপের জন্য ব্যবহারিক নির্দেশিকা তৈরি এবং স্বাস্থ্য, পরিবেশ, জ্বালানি ও পানি খাতের মধ্যে বহুমুখী সমন্বয় গড়ে তোলার জন্য বিশ্ব সংস্থাকে আরও সক্রিয় ভূমিকায় থাকতে হবে। আক্রান্ত দেশগুলোর সরকারি পর্যায়ে আলোচনা পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন ও প্রশিক্ষিত করতে প্রতিনিধিদল পাঠানোর সুপারিশ করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, আমরা জলবায়ু-সহনশীল ও স্বল্প-কার্বন নিঃসরণকারী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজে রত আছি। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইতিমধ্যে আমাদের জনস্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে। যার ফলে রোগের প্রকোপ বাড়ছে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এর মোকাবিলায় আমরা বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। প্রথমে আমরা দেশে জলবায়ু ও স্বাস্থ্য বিষয়ক ঝুঁকির মূল্যায়ন করেছি এবং পরে ‘স্বাস্থ্য বিষয়ক জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৬-৩০’ প্রণয়ন করেছি। এটি জলবায়ু-সহনশীল ও স্বল্প-কার্বন নিঃসরণকারী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা প্রদান করে।

তিনি বলেন, আমরা সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের আকারে জলবায়ু-সংবেদনশীল প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছি। উদাহরণস্বরূপ, ডেঙ্গু ও অন্যান্য ভেক্টর-বাহিত রোগ, পানিবাহিত রোগ এবং তাপ ও বায়ুদূষণজনিত অসুস্থতাকে (যেমন-স্ট্রোকে ও সিওপিডি) এই অভিযোজন পরিকল্পনায় উচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা, মাতৃ-নবজাতক ও প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক চাপ, লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা এবং দুর্যোগ ও জলবায়ু-জনিত কারণে সৃষ্ট মানসিক আঘাত (ট্রমা) ও সামাজিক ঝুঁকির বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এসময় নেদারল্যান্ডসের স্বাস্থ্য কল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল অনিতা ভ্যান ডে এনডে এবং ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি ড. গ্লোরিয়া জে. বালবোয়া সহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইউনিসেফের আমন্ত্রণে ২১ জুন ডেনমার্কের কোপেনহেগেন যান বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য এবং সেখান থেকে ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আমন্ত্রণে ২৪ জুন ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস যান। আগামী ২৭ জুন শনিবার তিনি দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেতন আগরওয়াল হত্যার ঘটনায় দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


কেতন আগরওয়াল হত্যার ঘটনায় দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রীর

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস কেতন আগরওয়ালের হত্যাকারীদের জন্য কঠোরতম শাস্তির প্রতিশ্রuti দিয়েছেন।

শুক্রবার নিহত কেতন আগরওয়ালের পিতা বিশিষ্ট শিল্পপতি বিশাল আগরওয়াল পুনেতে যখন দেখা করতে যান, তখন মুখ্যমন্ত্রী এই আশ্বাস প্রদান করেন।

শুক্রবার পুনে সফরকালে, মুখ্যমন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে কেতনের পিতাকে ডেকে নেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারটিকে সান্তনা প্রদান করেন। সাক্ষাতে বিশাল আগরওয়াল কেমন দাবিগুলি জানালেন। প্রথমত, তিনি দাবি করেন যেন সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট উজ্জ্বল নিকমকে বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করা হয়।

দ্বিতীয়ত, তিনি দাবি করলেন এই মামলার বিচারের জন্য একটি দ্রুত বিচার আদালত গঠন করার জন্য। মুখ্যমন্ত্রী উভয় দাবি বিষয়েও তাতক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয়ের এক্স (সাবেক টুইটার) একাউন্টে দেখা যায়, সাক্ষাতের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'কেতন আগরওয়ালের বাবা বিশাল আগরওয়াল আজ পুনেতে দেবেন্দ্র ফড়নবিসের সঙ্গে দেখা করেন এবং ছেলের হত্যার বিচার দাবি করেন।' এরপর, মুখ্যমন্ত্রী পরিবারটিকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, 'আমরা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে এই মামলার দোষীরা যেন কঠোরতম শাস্তি পায়।'

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'তাদের ন্যায়বিচার দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো খামতি রাখা হবে না।' মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক্স-এর পোস্টে আরও জানানো হয়, 'একটি দ্রুত বিচার আদালত গঠন এবং উজ্জ্বল নিকমকে বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে নিয়োগের পরিবারের দাবিও তাৎক্ষণিকভাবে মেনে নেওয়া হয়েছে।' উজ্জ্বল নিকমও এই মামলায় বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে কাজ করার সম্মতি দিয়েছেন। ফড়নবিস আইন ও বিচার বিভাগের সচিবকে একটি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দেন।

মুম্বাইয়ে ২৬/১১ সন্ত্রাসী হামলা মামলায় বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে উজ্জ্বল নিকম দেশজুড়ে পরিচিতি অর্জন করেন। এছাড়া, তিনি বেশ কয়েকটি আলোচিত মামলার শুনানীতেও নেতৃত্ব দেন।

কেতনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের কাছে দেবেন্দ্র ফড়নবীস বলেন, 'এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং অবিশ্বাস্য একটি ঘটনা। সমাজ হিসেবে আমাদের আত্মোপলব্ধি করা দরকার যে কেন ভালো পরিবারের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এমন প্রতিহিংসামূলক ও বিকৃত মানসিকতা তৈরি হচ্ছে।'

তিনি আরও মন্তব্য করেন, 'এটি কেবল একটি অপরাধই নয়, এটি একটি সামাজিক সমস্যা যা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা দরকার।' তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'তরুণ ছেলে-মেয়েদের মধ্যে যাতে এই ধরনের প্রতিহিংসামূলক প্রবণতা এবং বিকৃত চিন্তাভাবনা গড়ে না ওঠে, তা নিশ্চিত করার জন্য সমাজকে একটি শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।' সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক, গুরুতর এবং সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে পুনের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান কেতন আগরওয়ালের সাথে সিয়া গোয়েলের বাগদান হয়। আগামী নভেম্বরে তাদের জমকালো বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। এরই মধ্যে গত ১৮ জুন সিয়া গোয়েল ও তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী লোহাগড় দূগ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে কেতন আগরওয়ালকে হত্যা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে স্থানীয় কৃষকদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশ শ্রমমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৫ পি.এম


কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে স্থানীয় কৃষকদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশ শ্রমমন্ত্রীর

কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরো ফলপ্রসূ করতে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং কৃষকদের সমস্যার দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন।

আজ জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে কৃষি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন কৃষকদের সম্পৃক্ত করে তাদের চাহিদার ভিত্তিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে।

মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে, সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে ফসলভিত্তিক সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করতে হবে। প্রতিটি ইউনিয়নের ব্লক সুপারভাইজারকে জানানোর পাশাপাশি এলাকায় মাটি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, উপযোগী ফসল, কৃষকদের চাহিদা এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য সহায়তার ক্ষেত্র চিহ্নিত করে পৃথক প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে।

স্থানীয়ভাবে সমাধানযোগ্য সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে, আর অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তা উপস্থাপন করতে হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, সবজি ও ফল চাষ এবং নিরাপদ কৃষি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে মাঠপর্যায়ে উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভা আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সভায় উপজেলার পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতের সার্বিক অবস্থা, ভ্যাকসিন সরবরাহ, প্রাণিসম্পদ সেবা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুতের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় জৈন্তাপুর উপজেলার কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন কৃষককে আমন ধানের বীজ ও সার, ৫০০ জন কৃষককে গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির বীজ ও সার, ৩০ জন কৃষককে লেবুর চারা, ৩০ জন কৃষককে গ্রীষ্মকালীন বেগুনের বীজ এবং ৫০ জন কৃষককে মরিচের বীজ প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি ৭৪ জন কৃষক ও ৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাছের চারা দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানা, জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হাফিজসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

এর আগে মন্ত্রী জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি ইসিজি মেশিন হস্তান্তর করেন এবং হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুর সদর উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার দাবি স্থানীয়দের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১৮ পি.এম


গাজীপুর সদর উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার দাবি স্থানীয়দের

গাজীপুর সদর উপজেলায় ৫০ শয্যার একটি সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনসহ সকল নাগরিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকালে উপজেলা হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ডে সচেতন নাগরিক সমাজের আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন।

তারা উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন ঘোষণার পর নতুন করে ভাওয়ালগড়, পিরুজালী, মির্জাপুর ও বাড়িয়া ইউনিয়ন নিয়ে গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদ গঠন করা হয়। যদিও আয়তনের দিক থেকে এটি ছোট, তবে শিল্পায়নের কারণে এখানে অতিরিক্ত লোকবসতি সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রতিষ্ঠার পরও এই এলাকায় বাস করা মানুষের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নেই। এর কারণ হলো, এখানে কোনো সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেই।

চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমানের একমাত্র ভরসা হলো শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যা প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

তারা আরও জানান, গাজীপুর সদর উপজেলার প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম সিটি করপোরেশনের পুরনো অফিস থেকে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে সরকারি সুযোগ সুবিধা পেতে নানা ভোগান্তি শিকার হতে হচ্ছে। তারা এই ভোগান্তির অবসান চাচ্ছেন।

তারা জানান, আমরা নিজেদের উপজেলা বহনের জন্য একটি প্রশাসনিক ভবন এবং ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনের জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ সময় বক্তব্য দেন গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য জয়নাল আবেদীন রিজভী, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য এমদাদুল হক মুসুল্লি, আহ্বায়ক সদস্য বাতেন বিএসসি, জেলা যুবদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহীদ, সদস্য জাহাঙ্গীর সিকদার, কাওছার আহমেদ মোল্লা, উপজেলা যুবদল নেতা শরিফুল বাশার স্বজল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) সোহাগ হোসেন, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম খোকনসহ অনেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%