প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়ানক বিপর্যয়ের হাত থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করুন এবং বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোনো কালক্ষেপণ না করে সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি উল্লেখ করেন, অনেক পরিকল্পনা ও আলোচনা করা হয়েছে, এখন আর আইডিয়া বা কথার কথা শোনার সময় নেই। মানুষের জীবন বাঁচাতে আমাদের এখনই কার্যকর কাজ দেখাতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ফ্রান্সের প্যারিসে দেশটর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ‘অ্যালায়েন্স ফর ট্রান্সফরমেটিভ অ্যাকশনস অন ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথ’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত সভায় সুপারিশ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলসহ ‘জলবায়ু-সহনশীল ও স্বল্প-কার্বন নিঃসরণকারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি’ নিয়ে তিনি বক্তৃতা করেন।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ‘অ্যালায়েন্স ফর ট্রান্সফরমেটিভ অ্যাকশনস অন ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথ’ এর যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী এই সভার আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন তার বক্তব্যে ফ্রান্সে চলমান তীব্র গরমে প্রাণহীন হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার এবং ভেনেজুয়েলায় সম্প্রতি ঘটিত ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
উপকূলীয় অঞ্চলের সুপেয় পানির তীব্র সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, কক্সবাজার থেকে শুরু করে দীর্ঘ দক্ষিণবঙ্গের বিশাল উপকূলীয় এলাকায় বেশ গভীর পানির অভাব দেখা দিয়েছে। চারপাশের পানি লবণাক্ত ও দূষিত হয়ে গেছে, যা পানযোগ্য তো নয়ই, গোসল অথবা নিত্যদিনের কাজে ব্যবহারের জন্যও অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর এতটাই নিচে নেমে গেছে যে সাধারণ কিংবা গভীর নলকূপ দিয়েও এখন পৃষ্ঠতলে পানি তোলা যাচ্ছে না। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিটি বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর নিবিড় নজরে নিতে এবং সমাধানের জন্য এগিয়ে আসা উচিত।
দরিদ্র এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে রোগব্যাধির প্রকোপ কমাতে এবং অর্থায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর স্পষ্টভাবে পড়ছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই অঞ্চলে ইতোমধ্যে সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগব্যাধী মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
উন্নত দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে থাকা রাষ্ট্রগুলোর রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ স্বাস্থ্য তহবিল গঠন করার দাবি জানান তিনি।
দেশে বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োজনে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের মতো অনেক দেশ এখনও উন্নত পদ্ধতির পরিবর্তে পুরনো পদ্ধতিতে কয়লা পুড়িয়ে ইটভাটায় কাজ করতে শুরু করেছে, যার ফলে প্রচুর ক্ষতিকর ধোঁয়া ও গ্যাস সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আধুনিক ব্লক তৈরির কৌশল গ্রহণ করা আবশ্যক। আর এই রূপান্তরের জন্য বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।
বহুমুখী সমন্বয় ও কারিগরি সহায়তার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন পরিমাপের জন্য ব্যবহারিক নির্দেশিকা তৈরি এবং স্বাস্থ্য, পরিবেশ, জ্বালানি ও পানি খাতের মধ্যে বহুমুখী সমন্বয় গড়ে তোলার জন্য বিশ্ব সংস্থাকে আরও সক্রিয় ভূমিকায় থাকতে হবে। আক্রান্ত দেশগুলোর সরকারি পর্যায়ে আলোচনা পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন ও প্রশিক্ষিত করতে প্রতিনিধিদল পাঠানোর সুপারিশ করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, আমরা জলবায়ু-সহনশীল ও স্বল্প-কার্বন নিঃসরণকারী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজে রত আছি। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইতিমধ্যে আমাদের জনস্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে। যার ফলে রোগের প্রকোপ বাড়ছে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এর মোকাবিলায় আমরা বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। প্রথমে আমরা দেশে জলবায়ু ও স্বাস্থ্য বিষয়ক ঝুঁকির মূল্যায়ন করেছি এবং পরে ‘স্বাস্থ্য বিষয়ক জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৬-৩০’ প্রণয়ন করেছি। এটি জলবায়ু-সহনশীল ও স্বল্প-কার্বন নিঃসরণকারী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা প্রদান করে।
তিনি বলেন, আমরা সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের আকারে জলবায়ু-সংবেদনশীল প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছি। উদাহরণস্বরূপ, ডেঙ্গু ও অন্যান্য ভেক্টর-বাহিত রোগ, পানিবাহিত রোগ এবং তাপ ও বায়ুদূষণজনিত অসুস্থতাকে (যেমন-স্ট্রোকে ও সিওপিডি) এই অভিযোজন পরিকল্পনায় উচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা, মাতৃ-নবজাতক ও প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক চাপ, লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা এবং দুর্যোগ ও জলবায়ু-জনিত কারণে সৃষ্ট মানসিক আঘাত (ট্রমা) ও সামাজিক ঝুঁকির বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এসময় নেদারল্যান্ডসের স্বাস্থ্য কল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল অনিতা ভ্যান ডে এনডে এবং ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি ড. গ্লোরিয়া জে. বালবোয়া সহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইউনিসেফের আমন্ত্রণে ২১ জুন ডেনমার্কের কোপেনহেগেন যান বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য এবং সেখান থেকে ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আমন্ত্রণে ২৪ জুন ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস যান। আগামী ২৭ জুন শনিবার তিনি দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন