শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৫ পি.এম
ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণ ও ‘বাংলা কিউআর’ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) প্রথমবারের মতো ‘মিট দ্য গভর্নর’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যেও প্রথমবারের মতো বাকৃবিতে এ আয়োজন করা হয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে ‘এক দেশ এক কিউআর, লেনদেন বাংলা কিউআর’ স্লোগানে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহতেশামুল হক খান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ডিজিটাল লেনদেন ও ‘বাংলা কিউআর’ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। গভর্নর এসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরামর্শ দেন।
অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশও দ্রুত ক্যাশলেস ও ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন ব্যাপকভাবে চালু হয়েছে। বাংলাদেশও গভর্নরের রূপরেখা অনুযায়ী দ্রুত ক্যাশলেস সমাজের দিকে এগিয়ে যাবে। বাকৃবি দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে গবেষণায় অনেক দূর এগিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার গতি বজায় রাখতে এবং নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ ব্যাংকিং খাতকে সিএসআর ফান্ডের মাধ্যমে এগিয়ে আসতে হবে।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহতেশামুল হক খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে দেশে ক্যাশলেস লেনদেন আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে রিকশা ও ছোট দোকানেও যেন সহজে ‘বাংলা কিউআর’-এর মাধ্যমে লেনদেন করা যায়, সে সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের পাশাপাশি বাকৃবির শিক্ষক ও গবেষকদের গবেষণা এবং সিএসআর ফান্ডের আওতায় বিভিন্ন টেকসই উদ্যোগে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক সহযোগিতা করবে।
অনুষ্ঠানে ‘বাংলা কিউআর’-এর বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো এবং নগদ অর্থের ব্যবহার কমাতে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের লেনদেন করা সম্ভব হওয়ায় খুচরা টাকার সমস্যাও থাকবে না। একই সঙ্গে লেনদেনের খরচ কমবে। বর্তমানে দেশের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের কম, যা একসময় ১০ শতাংশ ছিল। কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন বাড়লে বছরে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায় সম্ভব হতে পারে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে কিউআর লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) শূন্য করা হবে। ফলে কোনো গ্রাহক ১০০ টাকা দিলে মার্চেন্টও ১০০ টাকা পাবেন। এ ছাড়া বর্তমানে নোট ছাপানো ও ব্যবস্থাপনায় বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। কিউআর কোড সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এ ব্যয় অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটি, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আজ জেলার বিভিন্ন ধর্মীয় আচার ও ভাবগাম্ভীর্যের মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভ মধু পূর্ণিমা উদযাপন করা হচ্ছে।
আজ শনিবার সকাল থেকে রাঙামাটি রাজ বনবিহারে মধু পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের জন্য বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এই অনুষ্ঠানে অষ্টপরিষ্কার দান, বুদ্ধমূর্তি দান, মধু দান, বুদ্ধ পূজা, সংঘদান এবং ধর্মীয় দেশনার আয়োজন করা হয়। এছাড়া, পঞ্চশীল গ্রহণের মাধ্যমে ধর্মীয় প্রার্থনা ও আচার অনুষ্ঠানও সম্পন্ন করা হয়।
এ সময় রাজ বনবিহারের আবাসিক ভিক্ষু সংঘের প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির ধর্ম দেশনা প্রদান করেন।
রাজ বনবিহারে অনুষ্ঠিত এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সকাল থেকে হাজারো বৌদ্ধ ধর্মালম্বী নারী ও পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভিক্ষুসংঘের ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রতের দ্বিতীয় পূর্ণিমা তিথি এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। ভাদ্র মাসের পূর্ণিমার তিথিতে অনুষ্ঠিত হওয়ায়, এটি ভাদ্র পূর্ণিমা নামেও পরিচিত।
উল্লেখ্য, বহু বছর আগে পূর্ণিমা তিথিতে একটি বুনোহাতি বন থেকে ফলমূল সংগ্রহ করে এবং একটি বানর মৌচাকের মধু নিয়ে তপস্যারত বুদ্ধকে দান করেছিলেন। এই ঘটনাকে স্মরণ করেই প্রতি বছর ভাদ্র মাসের পূর্ণিমার এই তিথিতে মধু পূর্ণিমা উদযাপন করা হয়। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা দেশ, জাতি ও সকলের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন এবং নানাবিধ দানানুষ্ঠান সম্পন্ন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলা প্রশাসন এবং সাতক্ষীরা পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে আজ ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ উপলক্ষে র্যালি ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে, যা জেলা শহরকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে সহায়ক হবে।
শনিবার সকালে শহরের ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’ প্রাঙ্গণ থেকে সচেতনতামূলক একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন এবং পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান।
এছাড়া সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আলী হায়দার, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন তালুকদার, সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, উপ সহকারী প্রকৌশলী সাগর দেবনাথ, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রবিউল আলমসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
র্যালি শেষে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ পৌরসভার সহযোগিতায় রেড ক্রিসেন্ট, বিডি ক্লিন ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীদের সাথে নিয়ে শহরের বিভিন্ন ড্রেন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে পথচারী, সাধারণ নাগরিক ও যানবাহন চালকদের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সংবলিত সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন।
জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ এসময় বলেন, "ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ।" তিনি উল্লেখ করেন, এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে আমাদের নিজ নিজ আঙিনা ও চারপাশ সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেন যেন কোথাও পানি জমে না থাকে। জেলা প্রশাসক বলেন, "আমাদের সম্মিলিত সচেতনতাই পারে সাতক্ষীরা শহরকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের একটি জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় বিস্ফোরণের ফলে একটি আবাসিক ভবন ধসে গিয়ে একজন নারী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার দেশটির ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার কেন্দ্রীয় এথেন্সের প্লাকা এলাকায় দুই তলা ভবনটিতে বিস্ফোরণ ঘটে, যার পর ভবনটি ধসে পড়ে। এটি একটি জনপ্রিয় এলাকা, যেখানে অ্যাক্রোপলিস ও জিউসের মন্দিরের নিকটবর্তী অবস্থান রয়েছে। বিস্ফোরণের ফলে তিনজন আহত হয়েছেন এবং আশপাশের বেশ কিছু বাড়ি, দোকান ও গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের পর থেকে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান করা হচ্ছে।
আরো পড়ুন
ইসলাম মানুষকে স্বপ্ন বড় দেখতে শেখায়
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিস্ফোরণের কারণে ভবনটি প্রায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে পেঁচানো ধাতব অংশ, ভাঙা বারান্দা এবং ঝুলে থাকা কংক্রিটের টুকরা পড়ে রয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরাতে উদ্ধারকর্মীদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা একটি ফ্ল্যাটে থাকা এক বয়স্ক দম্পতি এবং অন্য একটি ফ্ল্যাটে থাকা চার পর্যটককে খুঁজছেন। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিখোঁজ চার পর্যটকের জাতীয়তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
শুক্রবার বিকেল ৩টায় এথেন্স বিমানবন্দর থেকে ওই চার পর্যটকের একটি ফ্লাইট ধরার কথা ছিল। সেজন্য তাদের ওই দিন থাকার জায়গা ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা নির্ধারিত সময়ে সেখানে উপস্থিত হননি। এরপর তাদের নিখোঁজ হিসেবে ধরে নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনার প্রকৃতি সম্পর্কে তদন্ত শুরু হয়েছে।
আরো পড়ুন
মিরপুরে ক্লিনিক ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪
প্লাকা এথেন্সের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত। সেখানে অনেক হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং স্বল্পমেয়াদে ভাড়া দেওয়া বাসা রয়েছে। এই কারণে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এথেন্সের মেয়র হারিস দুকাস শুক্রবার মন্তব্য করেছেন, বিস্ফোরণের সঙ্গে গ্যাস সরবরাহব্যবস্থার কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে। তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর এবং কোনো একটি জায়গায় বড় ধরনের ভুল হয়ে থাকতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ