১২:২৮ পি.এম
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশ সরকারপ্রধান তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন তার নিজ কার্যালয়ে। গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে তাকে কার্যালয় প্রাঙ্গণে পা রাখার পর।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৯টায় মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবন প্রাঙ্গণে এই অভ্যর্থনার সম্মান লাভ করেন। এ সময় তার সঙ্গী ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান।
এই উষ্ণ অভ্যর্থনার পর, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্যালয় ভবনের পঞ্চম তলায় একান্ত বৈঠকে বসেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
একান্ত এই বৈঠকের পর, দুই দেশ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়াম প্রমুখ।
বৈঠক চলাকালে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন দুই সরকারপ্রধান। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, “কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোই আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছি। আমি বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের শক্তিশালী সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি এবং সেই সুযোগগুলো অন্বেষণের জন্য মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।”
আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী
সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “প্রথম বিদেশ সফরের সময়, আমার বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন। তার সফর রাজনৈতিক সম্পর্ককে জোরদার করেছে এবং শ্রমিক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছে। আমি মনে করি, আমার মা বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালে প্রধানমন্ত্রীরূপে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন। তার সফরের ফলে আমাদের বন্ধুত্ব গভীর হয়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারিত হয়েছে। উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য আমি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও জনগণকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।”
বাংলাদেশের সরকারপ্রধান তার বক্তব্যে আরও জানান, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং মানুষে-মানুষে নিবিড় সম্পর্কের ভিত্তিতে তাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও তারেক রহমান বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়। তারা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক জোরদারে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এরপর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিষয়ে মন্তব্য করে তিনি জানান, যৌথ কমিশনের বৈঠক এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বৃদ্ধির জন্য তারা সম্মত হয়েছেন। তারা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার অঙ্গীকার করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আইসিটি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের খাত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তা দুটি দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান দেশের অর্থনীতি ও সমাজ উভয়েরই উপকারে আসে।
আরও পড়ুন: ক্যাবের সিলিন্ডার গ্যাসের দাম না বাড়ানোর দাবি, বিইআরসির গণশুনানি বৃহস্পতিবার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন