০৯:১৪ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, ঘুষের বিনিময়ে প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে শিক্ষার মান কখনোই উন্নত হতে পারে না। তিনি বলেছেন, ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে কেউ শিক্ষক হলে, তিনি শিক্ষার্থীদের কী শেখাবেন এবং তার নিজের নৈতিকতা কোথায় থাকবে? এই ঘাটতির কারণে আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার মতো নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারছি না।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বার্ষিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী এই মন্তব্য করেন। অতীতের শিক্ষকদের উৎসর্গ ও নৈতিকতার কথা স্মরণ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আজ থেকে ৫০, ৬০ বা ৭০ বছর আগে শিক্ষকদের মধ্যে যে একধরনের প্রাণউৎসর্গকারী প্রেরণা ছিল, সেটি এখন নেই। এখন শিক্ষকেরা পাড়া-মহল্লায় গিয়ে খোঁজ নেন না, ছাত্ররা ঠিকমতো পড়াশোনা করছে কিনা। বর্তমানে রাতারাতি ধনী হওয়ার প্রতিযোগিতায় মানুষ নীতি-নৈতিকতা ও সত্যকে বিসর্জন দিয়েছে।
এই সত্য বিসর্জনের কারণে আজ আমরা আদর্শ বা প্রশিক্ষিত শিক্ষক পাচ্ছি না। সমাজে মাদকের বিস্তারের পেছনেও এই নৈতিকতার অবক্ষয়কে দায়ী করেন রিজভী। তিনি বলেন, সমাজে আজ নানা ধরনের অধঃপতন, মোরাল ব্রেকডাউন এবং চারিদিকে মাদকের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে, যা অতীতে ভাবা যেত না। আজকে যদি নৈতিকতার উৎকর্ষ থাকত, তাহলে চক্রান্তকারীরা কখনো চেষ্টা করেও সমাজে মাদক, ফেনসিডিল বা ইয়াবার প্রসার ঘটাতে পারত না।
আরও পড়ুন: দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, এক পয়সাও নয়ছয় সহ্য করা হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
রিজভী মাঠপর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, সংবাদপত্রেও দেখা যায়, তৃণমূল বা মাঠপর্যায়ে একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক হতে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক হতে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ঘুষ প্রদান করতে হচ্ছে। ঘুষের বিনিময়ে স্কুলের শিক্ষক হওয়া আজ থেকে ৩০ বা ৫০ বছর আগেও ভাবা যেত না।
শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের যোগ্যতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষক যদি প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত, প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ না হন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত না হন, তবে শিক্ষার্থীরা কখনোই আলোকিত হবে না। তিনি মন্তব্য করেন, ‘কাগজের নৌকা দিয়ে কখনো নদী পার হওয়া যায় না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন