ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানে আরও বড় হামলার হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর


ইরানে আরও বড় হামলার হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়ে দিয়েছেন, যদি ইরান ইসরায়েলের ওপর অভিযান চালায়, তবে এর জবাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হামলা চালানো হবে। খবরটি বিবিসি থেকে সংগৃহীত।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের নেতাদের তিনি স্পষ্ট করে বলতে চাইছেন, আপনারা যদি আমাদের ওপর হামলা চালান, তাহলে পরিস্থিতি শান্ত থাকবে এমনটি কেউ ভাববেন না।

নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের পূর্বের হামলার জবাবে ইসরায়েল যেভাবে পাল্টা হামলা চালিয়েছিল, এবার তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। বরং এবার তার থেকেও বেশি শক্তিশালী এবং বৃহৎ একটি জবাব দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

তিনি আরও জানান, আমাদের ওপর কেউ হামলা করলে এবং আমরা তার দ্বিগুণ জবাব দেব না, সেই সময়টি এখন খুবই শেষ হয়ে এসেছে।

এছাড়াও, তিনি বলেন, আমরা যেভাবে ইরানের তথাকথিত অ্যাক্সিস অব অ্যাভিল-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি, যারা আমাদের ক্ষতি করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা তেমনভাবেই ব্যবস্থা নিতে থাকব। এটি আমাদের নীতি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এআই অলিম্পিয়াডের স্বর্ণজয়ীদের সংসদ অধিবেশন দেখার ইচ্ছা পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১২ পি.এম


এআই অলিম্পিয়াডের স্বর্ণজয়ীদের সংসদ অধিবেশন দেখার ইচ্ছা পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এশিয়া-প্যাসিফিক এআই অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদকজয়ী বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের জন্য জাতীয় সংসদের ভিভিআইপি গ্যালারি থেকে অধিবেশন দেখার সুযোগ করে দিয়ে তাদের ইচ্ছা পূরণ করেছেন।

আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থীরা সংসদের অধিবেশন সরাসরি দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের জন্য ভিভিআইপি গ্যালারি থেকে অধিবেশন দেখার ব্যবস্থাপনা করতে নির্দেশ দেন। পরে প্রতিনিধিদলটি সংসদের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি জাতীয় সংসদ ভবনও পরিদর্শন করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প, পড়াশোনা, গবেষণা কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। নতুন উদ্ভাবন ও উৎকর্ষ সাধনে কাজ চালিয়ে যেতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।

শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানিয়েছেন, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এশিয়া-প্যাসিফিক এআই অলিম্পিয়াডে অসাধারণ সাফল্যের সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আনার জন্য শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের কোচ ড. মোহাম্মদ আজম খান, একাডেমিক সমন্বয়ক ও মেন্টর তাসনিম মাহফুজ নাফিস, স্বর্ণপদকজয়ী ত্রিদিব রায় আর্য এবং দলের সদস্য নাইরা নাওয়ার আহমেদ, অনন্য যারিফ আকন্দ, নাওফিল রহমান, মুবতাসিম চৌধুরী পিয়ম ও মুরতাজা আব্দুল্লাহ। এ সময় তাদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ্মার ভাঙনে হুমকিতে নদী রক্ষা বাঁধ ও বসতভিটা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৫ পি.এম


পদ্মার ভাঙনে হুমকিতে নদী রক্ষা বাঁধ ও বসতভিটা

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর এলাকায় পদ্মা নদী ব্যাপকভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে। এর ফলে পানির উন্নয়ন বোর্ডের রায়টা-মহিষকুন্ডি বেড়িবাঁধ, ফসলি জমি, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয়দের বসতভিটা হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। ভাঙনপ্রবণ স্থান থেকে বেড়িবাঁধের দূরত্ব মাত্র ৫০ মিটার।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই), ফয়জুল্লাহপুর এলাকার রায়টা-মহিষকুন্ডি বেড়িবাঁধের পাশে নানা স্থানে এক কিলোমিটারের মধ্যে ভাঙন দেখা গেছে।

স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানি বাড়ানোর কারণে এবং কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির ফলে এই ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাউবোর নদী রক্ষা বেড়িবাঁধের পাশে রাইটা-ফয়জুল্লাহপুরে পদ্মা নদীর তীরে এক কিলোমিটারের বিভিন্ন অংশে ভাঙন খুব স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে। আতঙ্কের বিষয় হলো যে, এই অঞ্চলে নদী ভাঙনে বহু একর ফসলি জমি ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙন কবলিত স্থান থেকে নদী রক্ষা বাঁধের দূরত্ব মাত্র ৪০-৫০ মিটার।

কিছু স্থানীয় এলাকায়, দূরত্ব এমনকি এর চেয়েও কম। বসতবাড়িগুলোও গভীর হুমকিতে রয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকাবাসী মানসিক আতঙ্ক আর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই নিজেদের বসতভিটা হারিয়ে ফেলেছেন। অনেকে আবার নিজেদের শেষ সম্বলটি রক্ষার জন্য ভাঙন প্রতিরোধে নিজ উদ্যোগে চেষ্টা চালাচ্ছেন। পদ্মা পাড়ের মানুষ অভিযোগ করছেন, তারা একপ্রকার নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

ভাঙনে ভিটে হারিয়েছেন আফতাবুল সরদার। তিনি বলেন, "পদ্মা নদীর ভাঙনে আমার বাড়ির পেছনের ভিটাটুকু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়ির সমস্ত মালামাল বের করে নিয়েছি। যেকোনো সময় বাকিটুকুও শেষ হয়ে যাবে।"

ভাঙন কবলিত কবিরাজপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফরিদা পারভীন ও ময়না খাতুন কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, "স্বামীর রেখে যাওয়া এই ভিটেটুকুই শেষ সম্বল। বাড়ি ভাঙার চিন্তায় সারারাত ঘুমাতে পারি না। এটুকু না থাকলে ছেলে-সন্তান নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না।"

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কবিরাজ বলেছেন, "নদী রক্ষা বাঁধের পাশে অবস্থিত প্রায় ৫০-৬০টি বাড়ি নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে আফতাবুল, টিক্কা, নাজিম, কালু মজনু, হান্নান ও খোকনের বাড়ির পিছনের আঙিনা নদীতে বিলীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অবস্থা ভয়াবহ হবে।"

জুনিয়াদহ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান হাসান বলেছেন, "গত ধরে ফয়জুল্লাহপুর এলাকার নদী রক্ষা বাঁধের পাশে বেশ কিছু জায়গা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে শুনেছি। নদী তীরবর্তী এলাকা রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী রক্ষা বাঁধ যদি কোনো ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়, তবে গোটা কুষ্টিয়া জেলা পানিবন্দি হয়ে যাবে।"

ভেড়ামারা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিরুল আরাফাত জানান, "ফয়জুল্লাপুরে নদী ভাঙনের বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ভাঙন কবলিত এলাকাটি পরিদর্শন করে সেখানে তাদের সাহায্য করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেব।"

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, "আমরা নদী ভাঙনের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এ অঞ্চলটি পূর্বে ভাঙনের শিকার হয়েছে। আমরা প্রস্তাবনা পাঠিয়ে রেখেছি। সেটি পাশ হলে আমরা দ্রুতই কাজ শুরু করতে পারব।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
দক্ষিণ চট্টগ্রামের ‘মৎস্য ও পোনার ভাণ্ডার’

পটিয়ায় বন্যার তাণ্ডবে ১৪০০ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৯ পি.এম


পটিয়ায় বন্যার তাণ্ডবে ১৪০০ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে

 

দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম মৎস্য ও পোনা উৎপাদনের কেন্দ্র পটিয়া উপজেলা। উপজেলার শত শত বাণিজ্যিক মাছের খামার ও রেণু উৎপাদন কেন্দ্র থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার মাছ ও পোনা সরবরাহ হয় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

এই খাতকে ঘিরেই জীবিকা নির্বাহ করেন হাজারো পরিবার। কিন্তু এবারের টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় সেই সম্ভাবনাময় মৎস্য খাত নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রাথমিক হিসাব বলছে, বন্যায় প্রায় ১ হাজার ৪০০টি পুকুর দুযোর্গের শিকার হয়েছে। এতে অন্তত ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তবে এটি কেবল প্রাথমিক হিসাব। ইউনিয়নভিত্তিক তালিকা তৈরির কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পুকুরের পানি উপচে পড়ে মাছ ও পোনা পাশের খাল, বিল ও নদীতে চলে গেছে। কোথাও বাঁধ ভেঙে গেছে, কোথাও আবার পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে কয়েক মাসের লালন-পালন করা বাজারজাত মাছ।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন রেণু উৎপাদনকারী খামারিরা।

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হাইদগাঁও, কেলিশহর, দক্ষিণ ভূর্ষি এবং ধলঘাট ইউনিয়নে রেণু উৎপাদনকারী খামারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে খরনা, শোভনদণ্ডী, কচুয়াই, ছনহরা, আশিয়া, কাশিয়াইশ, কুসুমপুরা ও পটিয়া পৌরসভা এলাকার বাণিজ্যিক মাছচাষিদের অধিকাংশ পুকুর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া, পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। শুধু মাছ হারানোই নয়, পুকুরের বাঁধ, স্লুইস, জাল, পাম্প, খাদ্য এবং অন্যান্য অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ফলে উৎপাদন পুনরায় শুরু করতেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। বহু চাষি এক মৌসুমের পুরো বিনিয়োগ হারিয়েছেন। পটিয়ায় মোট পুকুরের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার ৫০০, পুরো চট্টগ্রামের দুই-তৃতীয়াংশ নার্সারি পটিয়াতে। পটিয়া থেকেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় মাছ চাষিরা পোনা নিয়ে যায়।

পটিয়া পৌরসভার হক ফিশারিজের মালিক এনামুল হক বলেন, ‘এক রাতের বন্যায় আমার কয়েকটি পুকুরের প্রায় সব মাছ বেরিয়ে গেছে। শুধু মাছ নয়, পুকুরের অবকাঠামোও নষ্ট হয়েছে। লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন সরকারি সহযোগিতা ছাড়া নতুন করে উৎপাদনে ফেরা কঠিন।’

মৎস্যচাষি রকিব হাসান বলেন, ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলাম। বিক্রির সময় ঘনিয়ে এসেছিল। কিন্তু বন্যার পানিতে সব মাছ ভেসে গেছে। এখন ঋণের কিস্তি দেব কিভাবে, সংসার চালাব কিভাবে—সেটাই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।

খামারিদের অভিযোগ, বন্যার আগাম সতর্কতা থাকলেও অধিকাংশ এলাকায় মাছ রক্ষায় কোনো কার্যকর কারিগরি সহায়তা বা জরুরি প্রস্তুতি ছিল না। ফলে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ পুকুরের মাছ বেরিয়ে যায়। তবে উপজেলা মৎস্য বিভাগ বলছে, এবারের পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রম।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, ‘গত কয়েক বছরে এমন অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের ঘটনা ঘটেনি। ফলে অনেক চাষির পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। যেসব পুকুর এখনো পুরোপুরি তলিয়ে যায়নি, সেখানে জাল বা বাঁশের বানা দিয়ে মাছ আটকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বন্যার পর পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় মাছের রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রতি শতাংশে ১ থেকে ১.৫ কেজি চুন প্রয়োগ এবং আপাতত সম্পূরক খাদ্য ও সার প্রয়োগ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের প্রকৃত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে, যাতে সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।’

মৎস্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘পটিয়ার রেণু উৎপাদন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এর প্রভাব শুধু উপজেলাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী মৌসুমে পোনার সংকট দেখা দিলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলাসহ আশপাশের জেলার মাছচাষও ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে উৎপাদন কমে গেলে বাজারে মাছের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

স্থানীয় চাষিদের দাবি, ক্ষতির তালিকা তৈরির পাশাপাশি দ্রুত আর্থিক অনুদান, বিনা মূল্যে পোনা ও মাছের খাদ্য বিতরণ, সহজ শর্তে পুনর্বাসন ঋণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর সংস্কারের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। অন্যথায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম ‘মৎস্য ও পোনার ভাণ্ডার’ হিসেবে পরিচিত পটিয়ার এই সম্ভাবনাময় খাত দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়ে যেতে পারে। এদিকে পটিয়ার মৎস্য খাত শুধু মাছ উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রেণু উৎপাদন, মাছের খাদ্য ব্যবসা, পরিবহন, বরফকল, আড়ত, খুচরা বিক্রেতা এবং হাজারো শ্রমজীবী মানুষ। ফলে এই বন্যার প্রভাব পুরো স্থানীয় অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের দ্রুত পুনর্বাসন করা না গেলে আগামী মৌসুমে মাছ উৎপাদন কমে যেতে পারে। এতে স্থানীয় বাজারে মাছের সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দামও বাড়তে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিদের দাবি, শুধু ক্ষতির তালিকা করলেই হবে না জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক অনুদান, বিনা মূল্যে পোনা বিতরণ, মাছের খাদ্য সহায়তা এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে এবারের বন্যার ক্ষত কাটিয়ে ওঠা অনেক খামারির পক্ষেই সম্ভব হবে না।

অন্যদিকে কৃষি ও প্রাণিসম্পদের পর এবার মৎস্য খাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে পটিয়ায়। প্রাথমিক ক্ষতির অঙ্ক ৩ কোটি টাকা হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, ইউনিয়নভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের পর ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বাড়তে পারে। তাই দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির নিরপেক্ষ মূল্যায়ন এবং কার্যকর পুনর্বাসনই এখন পটিয়ার মৎস্য খাতকে টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পটুয়াখালীতে ‘প্রাণ সংহতি’ সম্মাননা পেলেন এসিল্যান্ড ইয়াসীন সাদেক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৯ পি.এম


পটুয়াখালীতে ‘প্রাণ সংহতি’ সম্মাননা পেলেন এসিল্যান্ড ইয়াসীন সাদেক

জেলার কলাপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেককে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ‘প্রাণ সংহতি’ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

মালিকানাবিহীন কুকুর-বিড়াল এবং বন্যপ্রাণী উদ্ধার, সংরক্ষণ ও বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে তার অবদানকে স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে কলাপাড়া উপজেলা ভূমি অফিস কার্যালয়ে ‘অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী’র কলাপাড়া শাখার পক্ষ থেকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। এ সময় ইয়াসীন সাদেককে সম্মাননার স্মারক হিসেবে একটি ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার টিম লিডার বায়জিদ মুন্সী, সদস্য আল মনজির, মাসুদ হাসান, কাউছারসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বায়জিদ মুন্সী বলেন, ইয়াসীন সাদেক কলাপাড়ায় যোগদানের পর থেকেই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। তিনি বিপদগ্রস্ত বন্যপ্রাণী উদ্ধারে সবসময় সংগঠনকে সহযোগিতা করেছেন। তার এই অবদান আগামীকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সম্মাননা গ্রহণের পর ইয়াসীন সাদেক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ছোটবেলা থেকে পশু-পাখি ও গাছপালার প্রতি আমার বিশেষ অনুরাগ রয়েছে। এই সম্মান তিনি অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার সদস্যদের উৎসর্গ করছেন। তাদের উৎসাহ এবং সহযোগিতাই তাকে এ কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে।

তিনি আরও জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন সময়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন। ইতোমধ্যে কলাপাড়ায় ১৬টি মহিষের লড়াই বন্ধ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সংলগ্ন এলাকায় একটি অ্যানিমেল শেড নির্মাণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কুয়াকাটায় একটি অ্যানিমেল মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও প্রাণিকল্যাণে প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%