ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পদ্মার ভাঙনে হুমকিতে নদী রক্ষা বাঁধ ও বসতভিটা


পদ্মার ভাঙনে হুমকিতে নদী রক্ষা বাঁধ ও বসতভিটা

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর এলাকায় পদ্মা নদী ব্যাপকভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে। এর ফলে পানির উন্নয়ন বোর্ডের রায়টা-মহিষকুন্ডি বেড়িবাঁধ, ফসলি জমি, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয়দের বসতভিটা হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। ভাঙনপ্রবণ স্থান থেকে বেড়িবাঁধের দূরত্ব মাত্র ৫০ মিটার।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই), ফয়জুল্লাহপুর এলাকার রায়টা-মহিষকুন্ডি বেড়িবাঁধের পাশে নানা স্থানে এক কিলোমিটারের মধ্যে ভাঙন দেখা গেছে।

স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানি বাড়ানোর কারণে এবং কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির ফলে এই ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাউবোর নদী রক্ষা বেড়িবাঁধের পাশে রাইটা-ফয়জুল্লাহপুরে পদ্মা নদীর তীরে এক কিলোমিটারের বিভিন্ন অংশে ভাঙন খুব স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে। আতঙ্কের বিষয় হলো যে, এই অঞ্চলে নদী ভাঙনে বহু একর ফসলি জমি ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙন কবলিত স্থান থেকে নদী রক্ষা বাঁধের দূরত্ব মাত্র ৪০-৫০ মিটার।

আরও পড়ুন: নাব্যতা সংকটে হবিগঞ্জের সুতাং নদী মরা খালে পরিণত

কিছু স্থানীয় এলাকায়, দূরত্ব এমনকি এর চেয়েও কম। বসতবাড়িগুলোও গভীর হুমকিতে রয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকাবাসী মানসিক আতঙ্ক আর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই নিজেদের বসতভিটা হারিয়ে ফেলেছেন। অনেকে আবার নিজেদের শেষ সম্বলটি রক্ষার জন্য ভাঙন প্রতিরোধে নিজ উদ্যোগে চেষ্টা চালাচ্ছেন। পদ্মা পাড়ের মানুষ অভিযোগ করছেন, তারা একপ্রকার নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

ভাঙনে ভিটে হারিয়েছেন আফতাবুল সরদার। তিনি বলেন, "পদ্মা নদীর ভাঙনে আমার বাড়ির পেছনের ভিটাটুকু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়ির সমস্ত মালামাল বের করে নিয়েছি। যেকোনো সময় বাকিটুকুও শেষ হয়ে যাবে।"

ভাঙন কবলিত কবিরাজপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফরিদা পারভীন ও ময়না খাতুন কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, "স্বামীর রেখে যাওয়া এই ভিটেটুকুই শেষ সম্বল। বাড়ি ভাঙার চিন্তায় সারারাত ঘুমাতে পারি না। এটুকু না থাকলে ছেলে-সন্তান নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না।"

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কবিরাজ বলেছেন, "নদী রক্ষা বাঁধের পাশে অবস্থিত প্রায় ৫০-৬০টি বাড়ি নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে আফতাবুল, টিক্কা, নাজিম, কালু মজনু, হান্নান ও খোকনের বাড়ির পিছনের আঙিনা নদীতে বিলীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অবস্থা ভয়াবহ হবে।"

আরও পড়ুন: বরিশালে দুই যুবককে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতা ফারুকের বিরুদ্ধে

জুনিয়াদহ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান হাসান বলেছেন, "গত ধরে ফয়জুল্লাহপুর এলাকার নদী রক্ষা বাঁধের পাশে বেশ কিছু জায়গা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে শুনেছি। নদী তীরবর্তী এলাকা রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী রক্ষা বাঁধ যদি কোনো ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়, তবে গোটা কুষ্টিয়া জেলা পানিবন্দি হয়ে যাবে।"

ভেড়ামারা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিরুল আরাফাত জানান, "ফয়জুল্লাপুরে নদী ভাঙনের বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ভাঙন কবলিত এলাকাটি পরিদর্শন করে সেখানে তাদের সাহায্য করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেব।"

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, "আমরা নদী ভাঙনের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এ অঞ্চলটি পূর্বে ভাঙনের শিকার হয়েছে। আমরা প্রস্তাবনা পাঠিয়ে রেখেছি। সেটি পাশ হলে আমরা দ্রুতই কাজ শুরু করতে পারব।"

আরও পড়ুন: ডাকাতিয়ায় সেতু না থাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
দক্ষিণ চট্টগ্রামের ‘মৎস্য ও পোনার ভাণ্ডার’

পটিয়ায় বন্যার তাণ্ডবে ১৪০০ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৯ পি.এম


পটিয়ায় বন্যার তাণ্ডবে ১৪০০ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে

 

দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম মৎস্য ও পোনা উৎপাদনের কেন্দ্র পটিয়া উপজেলা। উপজেলার শত শত বাণিজ্যিক মাছের খামার ও রেণু উৎপাদন কেন্দ্র থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার মাছ ও পোনা সরবরাহ হয় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

এই খাতকে ঘিরেই জীবিকা নির্বাহ করেন হাজারো পরিবার। কিন্তু এবারের টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় সেই সম্ভাবনাময় মৎস্য খাত নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রাথমিক হিসাব বলছে, বন্যায় প্রায় ১ হাজার ৪০০টি পুকুর দুযোর্গের শিকার হয়েছে। এতে অন্তত ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তবে এটি কেবল প্রাথমিক হিসাব। ইউনিয়নভিত্তিক তালিকা তৈরির কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পুকুরের পানি উপচে পড়ে মাছ ও পোনা পাশের খাল, বিল ও নদীতে চলে গেছে। কোথাও বাঁধ ভেঙে গেছে, কোথাও আবার পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে কয়েক মাসের লালন-পালন করা বাজারজাত মাছ।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন রেণু উৎপাদনকারী খামারিরা।

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হাইদগাঁও, কেলিশহর, দক্ষিণ ভূর্ষি এবং ধলঘাট ইউনিয়নে রেণু উৎপাদনকারী খামারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে খরনা, শোভনদণ্ডী, কচুয়াই, ছনহরা, আশিয়া, কাশিয়াইশ, কুসুমপুরা ও পটিয়া পৌরসভা এলাকার বাণিজ্যিক মাছচাষিদের অধিকাংশ পুকুর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া, পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। শুধু মাছ হারানোই নয়, পুকুরের বাঁধ, স্লুইস, জাল, পাম্প, খাদ্য এবং অন্যান্য অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ফলে উৎপাদন পুনরায় শুরু করতেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। বহু চাষি এক মৌসুমের পুরো বিনিয়োগ হারিয়েছেন। পটিয়ায় মোট পুকুরের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার ৫০০, পুরো চট্টগ্রামের দুই-তৃতীয়াংশ নার্সারি পটিয়াতে। পটিয়া থেকেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় মাছ চাষিরা পোনা নিয়ে যায়।

পটিয়া পৌরসভার হক ফিশারিজের মালিক এনামুল হক বলেন, ‘এক রাতের বন্যায় আমার কয়েকটি পুকুরের প্রায় সব মাছ বেরিয়ে গেছে। শুধু মাছ নয়, পুকুরের অবকাঠামোও নষ্ট হয়েছে। লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন সরকারি সহযোগিতা ছাড়া নতুন করে উৎপাদনে ফেরা কঠিন।’

মৎস্যচাষি রকিব হাসান বলেন, ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলাম। বিক্রির সময় ঘনিয়ে এসেছিল। কিন্তু বন্যার পানিতে সব মাছ ভেসে গেছে। এখন ঋণের কিস্তি দেব কিভাবে, সংসার চালাব কিভাবে—সেটাই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।

খামারিদের অভিযোগ, বন্যার আগাম সতর্কতা থাকলেও অধিকাংশ এলাকায় মাছ রক্ষায় কোনো কার্যকর কারিগরি সহায়তা বা জরুরি প্রস্তুতি ছিল না। ফলে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ পুকুরের মাছ বেরিয়ে যায়। তবে উপজেলা মৎস্য বিভাগ বলছে, এবারের পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রম।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, ‘গত কয়েক বছরে এমন অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের ঘটনা ঘটেনি। ফলে অনেক চাষির পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। যেসব পুকুর এখনো পুরোপুরি তলিয়ে যায়নি, সেখানে জাল বা বাঁশের বানা দিয়ে মাছ আটকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বন্যার পর পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় মাছের রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রতি শতাংশে ১ থেকে ১.৫ কেজি চুন প্রয়োগ এবং আপাতত সম্পূরক খাদ্য ও সার প্রয়োগ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের প্রকৃত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে, যাতে সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।’

মৎস্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘পটিয়ার রেণু উৎপাদন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এর প্রভাব শুধু উপজেলাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী মৌসুমে পোনার সংকট দেখা দিলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলাসহ আশপাশের জেলার মাছচাষও ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে উৎপাদন কমে গেলে বাজারে মাছের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

স্থানীয় চাষিদের দাবি, ক্ষতির তালিকা তৈরির পাশাপাশি দ্রুত আর্থিক অনুদান, বিনা মূল্যে পোনা ও মাছের খাদ্য বিতরণ, সহজ শর্তে পুনর্বাসন ঋণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর সংস্কারের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। অন্যথায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম ‘মৎস্য ও পোনার ভাণ্ডার’ হিসেবে পরিচিত পটিয়ার এই সম্ভাবনাময় খাত দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়ে যেতে পারে। এদিকে পটিয়ার মৎস্য খাত শুধু মাছ উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রেণু উৎপাদন, মাছের খাদ্য ব্যবসা, পরিবহন, বরফকল, আড়ত, খুচরা বিক্রেতা এবং হাজারো শ্রমজীবী মানুষ। ফলে এই বন্যার প্রভাব পুরো স্থানীয় অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের দ্রুত পুনর্বাসন করা না গেলে আগামী মৌসুমে মাছ উৎপাদন কমে যেতে পারে। এতে স্থানীয় বাজারে মাছের সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দামও বাড়তে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিদের দাবি, শুধু ক্ষতির তালিকা করলেই হবে না জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক অনুদান, বিনা মূল্যে পোনা বিতরণ, মাছের খাদ্য সহায়তা এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে এবারের বন্যার ক্ষত কাটিয়ে ওঠা অনেক খামারির পক্ষেই সম্ভব হবে না।

অন্যদিকে কৃষি ও প্রাণিসম্পদের পর এবার মৎস্য খাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে পটিয়ায়। প্রাথমিক ক্ষতির অঙ্ক ৩ কোটি টাকা হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, ইউনিয়নভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের পর ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বাড়তে পারে। তাই দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির নিরপেক্ষ মূল্যায়ন এবং কার্যকর পুনর্বাসনই এখন পটিয়ার মৎস্য খাতকে টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পটুয়াখালীতে ‘প্রাণ সংহতি’ সম্মাননা পেলেন এসিল্যান্ড ইয়াসীন সাদেক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৯ পি.এম


পটুয়াখালীতে ‘প্রাণ সংহতি’ সম্মাননা পেলেন এসিল্যান্ড ইয়াসীন সাদেক

জেলার কলাপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেককে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ‘প্রাণ সংহতি’ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

মালিকানাবিহীন কুকুর-বিড়াল এবং বন্যপ্রাণী উদ্ধার, সংরক্ষণ ও বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে তার অবদানকে স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে কলাপাড়া উপজেলা ভূমি অফিস কার্যালয়ে ‘অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী’র কলাপাড়া শাখার পক্ষ থেকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। এ সময় ইয়াসীন সাদেককে সম্মাননার স্মারক হিসেবে একটি ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার টিম লিডার বায়জিদ মুন্সী, সদস্য আল মনজির, মাসুদ হাসান, কাউছারসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বায়জিদ মুন্সী বলেন, ইয়াসীন সাদেক কলাপাড়ায় যোগদানের পর থেকেই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। তিনি বিপদগ্রস্ত বন্যপ্রাণী উদ্ধারে সবসময় সংগঠনকে সহযোগিতা করেছেন। তার এই অবদান আগামীকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সম্মাননা গ্রহণের পর ইয়াসীন সাদেক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ছোটবেলা থেকে পশু-পাখি ও গাছপালার প্রতি আমার বিশেষ অনুরাগ রয়েছে। এই সম্মান তিনি অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার সদস্যদের উৎসর্গ করছেন। তাদের উৎসাহ এবং সহযোগিতাই তাকে এ কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে।

তিনি আরও জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন সময়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন। ইতোমধ্যে কলাপাড়ায় ১৬টি মহিষের লড়াই বন্ধ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সংলগ্ন এলাকায় একটি অ্যানিমেল শেড নির্মাণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কুয়াকাটায় একটি অ্যানিমেল মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও প্রাণিকল্যাণে প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারীর স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল অ্যাপের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২২ পি.এম


নারীর স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল অ্যাপের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর

দেশে নারী স্বাস্থ্য ও কল্যাণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে ডিজিটাল স্বাস্থ্য অ্যাপ চালু এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি তরুণ চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক উচ্চতর প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

তিনি এই সময় বলেন, ‘নারী স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে আমাদের দল সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর জন্য আমাদের যে ম্যান্ডেট দিয়েছেন, আমরা তাদের দোরগোড়ায় সেই সেবা পৌঁছে দেব।’

আজ মঙ্গলবার, রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘হার হেলথ বাংলাদেশ : নারীদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ ত্বরান্বিতকরণ জাতীয় মাতৃস্বাস্থ্য এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার কর্মসূচি শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক-এর যৌথ অর্থায়নে এবং ইউএনএফপিএ-এর সহযোগিতায় এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত আরও বলেন, প্রজেক্টের ‘ডিজিটাল হেলথ অ্যান্ড ইনোভেশন’ স্তম্ভটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। এই কর্মসূচির আওতায় একটি দ্বি-মুখী ডিজিটাল অ্যাপ তৈরি করা প্রয়োজন, যার একটি ইন্টারফেস ব্যবহার করবেন রোগীরা এবং অন্যটি ব্যবহার করবেন সেবাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীরা। এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের ডেটা বা তথ্য যেমন সহজে সংগ্রহ করা যাবে, ঠিক তেমনি রোগীরাও অ্যাপের মাধ্যমে তাদের পরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলো-আপ রিমাইন্ডার ও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক শিক্ষা লাইভও সরাসরি পেয়ে যাবেন।

সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা ঢেলে সাজানোর একটি রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমাদের বর্তমানে তিন ধরনের ফ্রন্টলাইন কর্মী রয়েছেন। আমরা এদের সবাইকে একত্রিত করে 'কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার' নামে একটি একক ও সমন্বিত বাহিনী গড়ে তুলছি।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) শাহ ইমাম আলী রেজা, ইউএনএফপিএ-বাংলাদেশের প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন ক্যামকং এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চৌরঙ্গী জামে মসজিদে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ, নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৪ পি.এম


চৌরঙ্গী জামে মসজিদে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ, নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি

রাজশাহী জেলার কাজিহাটা এলাকার চৌরঙ্গী জামে মসজিদে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চলমান নির্মাণকাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ও বেজমেন্টে দোকান ও অন্যান্য বাণিজ্যিক স্থাপনার নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন মুসল্লি ও এলাকার কিছু বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোঃ আমিনুর রহমান বাচ্চু লিখিত বক্তব্যে হাজির হন। তিনি নিজেকে এলাকার প্রতিনিধিত্বকারী, মসজিদের সাধারণ মুসল্লি, চলমান মামলাগুলোর বাদী এবং আন্দোলনকারী হিসেবে পরিচয় দেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের আগস্টে সাধারণ মুসল্লিদের সমর্থনে তৈরি হওয়া একটি নতুন আহ্বায়ক কমিটিকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে তিনি বিভিন্ন হামলা, মারধর এবং মামলা দিয়ে হেনস্থার অভিযোগ তোলেন। দাবি করেন যে এসব বিষয়ে একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয় যে আদালতের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) বজায় রাখার নির্দেশ এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) নির্দেশনা উপেক্ষা করে মসজিদের বেজমেন্টে দোকান, টয়লেট এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে দুটি ভায়োলেশন মামলাও বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানানো হয়।

আমিনুর রহমান বাচ্চু সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন যে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট মামলা নম্বর-১৫১১২/২০২৩-এর আওতায় নতুন নির্মাণের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে। এছাড়া রাজশাহী জেলা সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের মূল মামলা নম্বর-১৩১/২০২৩ (বর্তমান ২৯৮/২০২৬)-তে মসজিদের অবকাঠামোয় মার্কেট নির্মাণের বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এর পরেও নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে, বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি জানান আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে ভায়োলেশন মামলা নম্বর-৮১/২০২৩ ও ২১/২০২৫ দায়ের করা হয়েছে। আদালত রাজপাড়া থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় দায়ের করা ফৌজদারি মামলা নম্বর-২৫৬/২০২৩ ও ১০২/২০২৫-ও বিচারাধীন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে অবিলম্বে সব নির্মাণকাজ বন্ধ করা, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বেজমেন্টের দোকানগুলো সিলগালা করা, আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা তদন্ত ও বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা।

আমিনুর রহমান বাচ্চু এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, 'আমরা কোনো সংঘাত চাই না। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই আমাদের একমাত্র দাবি।'

তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন মসজিদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মসজিদের খতিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি কমিটির কেউ নই।' পরে তিনি মসজিদ পরিচালনা কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

বর্তমান কমিটির সভাপতি ডা. আব্দুর রশিদও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আমি তখন রোগী দেখায় ব্যস্ত ছিলাম।' মসজিদের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি। সাবেক সভাপতি ডা. ইকবাল বারীও অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। এ সম্পর্কে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল তারিক বলেন, 'সেই সময় আমি ইমারত কমিটির সদস্য ছিলাম। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়নি।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%