১১:১৫ পি.এম
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর এলাকায় পদ্মা নদী ব্যাপকভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে। এর ফলে পানির উন্নয়ন বোর্ডের রায়টা-মহিষকুন্ডি বেড়িবাঁধ, ফসলি জমি, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয়দের বসতভিটা হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। ভাঙনপ্রবণ স্থান থেকে বেড়িবাঁধের দূরত্ব মাত্র ৫০ মিটার।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই), ফয়জুল্লাহপুর এলাকার রায়টা-মহিষকুন্ডি বেড়িবাঁধের পাশে নানা স্থানে এক কিলোমিটারের মধ্যে ভাঙন দেখা গেছে।
স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানি বাড়ানোর কারণে এবং কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির ফলে এই ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। পাউবোর নদী রক্ষা বেড়িবাঁধের পাশে রাইটা-ফয়জুল্লাহপুরে পদ্মা নদীর তীরে এক কিলোমিটারের বিভিন্ন অংশে ভাঙন খুব স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে। আতঙ্কের বিষয় হলো যে, এই অঞ্চলে নদী ভাঙনে বহু একর ফসলি জমি ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙন কবলিত স্থান থেকে নদী রক্ষা বাঁধের দূরত্ব মাত্র ৪০-৫০ মিটার।
আরও পড়ুন: নাব্যতা সংকটে হবিগঞ্জের সুতাং নদী মরা খালে পরিণত
কিছু স্থানীয় এলাকায়, দূরত্ব এমনকি এর চেয়েও কম। বসতবাড়িগুলোও গভীর হুমকিতে রয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকাবাসী মানসিক আতঙ্ক আর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই নিজেদের বসতভিটা হারিয়ে ফেলেছেন। অনেকে আবার নিজেদের শেষ সম্বলটি রক্ষার জন্য ভাঙন প্রতিরোধে নিজ উদ্যোগে চেষ্টা চালাচ্ছেন। পদ্মা পাড়ের মানুষ অভিযোগ করছেন, তারা একপ্রকার নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
ভাঙনে ভিটে হারিয়েছেন আফতাবুল সরদার। তিনি বলেন, "পদ্মা নদীর ভাঙনে আমার বাড়ির পেছনের ভিটাটুকু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়ির সমস্ত মালামাল বের করে নিয়েছি। যেকোনো সময় বাকিটুকুও শেষ হয়ে যাবে।"
ভাঙন কবলিত কবিরাজপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফরিদা পারভীন ও ময়না খাতুন কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, "স্বামীর রেখে যাওয়া এই ভিটেটুকুই শেষ সম্বল। বাড়ি ভাঙার চিন্তায় সারারাত ঘুমাতে পারি না। এটুকু না থাকলে ছেলে-সন্তান নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই থাকবে না।"
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কবিরাজ বলেছেন, "নদী রক্ষা বাঁধের পাশে অবস্থিত প্রায় ৫০-৬০টি বাড়ি নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে আফতাবুল, টিক্কা, নাজিম, কালু মজনু, হান্নান ও খোকনের বাড়ির পিছনের আঙিনা নদীতে বিলীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অবস্থা ভয়াবহ হবে।"
আরও পড়ুন: বরিশালে দুই যুবককে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতা ফারুকের বিরুদ্ধে
জুনিয়াদহ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান হাসান বলেছেন, "গত ধরে ফয়জুল্লাহপুর এলাকার নদী রক্ষা বাঁধের পাশে বেশ কিছু জায়গা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে শুনেছি। নদী তীরবর্তী এলাকা রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী রক্ষা বাঁধ যদি কোনো ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়, তবে গোটা কুষ্টিয়া জেলা পানিবন্দি হয়ে যাবে।"
ভেড়ামারা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিরুল আরাফাত জানান, "ফয়জুল্লাপুরে নদী ভাঙনের বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ভাঙন কবলিত এলাকাটি পরিদর্শন করে সেখানে তাদের সাহায্য করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেব।"
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, "আমরা নদী ভাঙনের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এ অঞ্চলটি পূর্বে ভাঙনের শিকার হয়েছে। আমরা প্রস্তাবনা পাঠিয়ে রেখেছি। সেটি পাশ হলে আমরা দ্রুতই কাজ শুরু করতে পারব।"
আরও পড়ুন: ডাকাতিয়ায় সেতু না থাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন