০৯:১১ পি.এম
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) দুগ্ধ ও গরুর মাংস উৎপাদনের আধুনিকায়ন, সঠিক পুষ্টি, ফিড ব্যালেন্সিং, পশুর কল্যাণ, এবং টেকসই খামার ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক কর্মশালা শুরু হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে 'ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কশপ অন ডেইরি অ্যান্ড বিফ প্রোডাকশন সিস্টেমস: নিউট্রিশন, ফিড ব্যালেন্সিং, ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি' শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। ২০ ও ২১ জুলাই এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা যৌথভাবে আয়োজন করেছে বাকৃবির ডেইরি সায়েন্স বিভাগ ও পশু পুষ্টি বিভাগ।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) ডা. মো. বয়জার রহমান। ডেইরি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ার মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. পিয়েত্রো চেলি, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাটের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস উদ্দিন এবং বাকৃবির পশু পুষ্টি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শফিকুর রহমান শিশির। এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, প্রাণিসম্পদ খাতের কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এতে অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: অবকাঠামো উন্নয়নে গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে : সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী
এ কর্মশালায় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা শুধুমাত্র দুগ্ধ ও গরুর মাংস উৎপাদনের আধুনিকায়ন, সুষম পুষ্টি, ফিড ব্যালেন্সিং, পশুর কল্যাণ, এবং টেকসই খামার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণালব্ধ তথ্য উপস্থাপন করেন। দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালার গ্লোবাল একাডেমিক পার্টনার হিসেবে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মারডক বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাট এবং অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক বিশ্ববিদ্যালয়। কর্মশালার কী ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্পন্সর হলো নারিশ, এবং কী পার্টনার স্পন্সর হলো প্রোভেট রিসোর্সেস লিমিটেড।
মূল প্রবন্ধে ড. পিয়েত্রো চেলি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিট স্ট্রেস গবাদিপশুর উৎপাদনশীলতার জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। অতিরিক্ত তাপ পশুর শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম এবং বিপাক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে, ফলে দুধ ও মাংস উৎপাদন কমে যায় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তিনি উল্লেখ করেন যে, এ সমস্যা মোকাবিলায় কেবল একটি পদ্ধতি যথেষ্ট নয়; সুষম পুষ্টি, বিজ্ঞানভিত্তিক ফিড ব্যালেন্সিং, শীতলীকরণ ব্যবস্থা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, এবং প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল গবাদিপশু নির্বাচনকে সমন্বিতভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। এটি উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি খামার ব্যবস্থাপনাকেও আরও টেকসই করে তুলবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক কর্মশালা তরুণ গবেষক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য শেখার, নতুন জ্ঞান অর্জনের, এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনাচিন্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে তারা জানতে এবং বুঝতে সক্ষম হবে কীভাবে বাংলাদেশের ডেইরি ও বিফ উৎপাদন ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের চাহিদা এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নত করা যায়। কাজটি গঠনমূলক আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে গবেষণা, শিক্ষা, এবং শিল্প খাতের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। এছাড়াও, মাঠপর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তি এবং গবেষণার ফলাফল বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে। এর ফলে, দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুগ্ধ ও গরুর মাংসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন: জামায়াত নিজেদের কর্মীদের ছাড়া একজন ফকিরকেও ভিক্ষা দেয় না: মীর শাহে আলম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন