১০:১০ পি.এম
সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ছোটখাটো চুরি ও অনিয়মের খবর গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশ পেলেও লুটেরা গোষ্ঠীর দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না।
তিনি রাজনৈতিক মন্তব্য করে বলেন, সাফ ফুটবলের নেতৃত্ব, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেছেন। আসিফের দাবি হলো, এসব বিষয় ‘একই সূত্রে গাঁথা পুরোনো নকশার অংশ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
সোমবার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সেসব মন্তব্য তুলে ধরেন আসিফ আকবর।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
পোস্টে তিনি লেখেন, স্কুলের টিফিন সরানোর অপরাধে এক শিক্ষককে পাকড়াও ও হেনস্তা করা হয়। পত্রিকা আর সোশ্যাল মিডিয়ায় অহরহ ছোটখাটো চুরি ও অন্যায়ের খবর খুব ফলাও করে প্রচার করা হয়। নড়ে ওঠে তথাকথিত নেটিজেনরা, পাবলিক রিঅ্যাকশনও থাকে খুব তীব্র। সামান্য খাবার চুরির অপরাধে এ দেশে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয় মানুষ কিংবা বোবা প্রাণী।
তিনি আরো লেখেন, ওদিকে লুটেরা গোষ্ঠী লুটেই যাচ্ছে দেশটাকে। রাজনীতিকে হাতিয়ার বানিয়ে দেশটাকে খোকলা করে এরাই আবার হয়ে যায় জনপ্রতিনিধি। সাধারণ জনতাই তাদের নেতা বানায়, অভিভাবক বানায়, প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়ে পেছনে পেছনে ঘোরে আর ‘আমার ভাই, তোমার ভাই’ বলে চিৎকার করে। তারাই আন্দোলন-সংগ্রাম করে ত্যাগী ও মজলুম হয়, পরে তারাই আবার নিজেদের তৈরি ফ্রাঙ্কেনস্টাইনকে নেতার পদ ফিরিয়ে দিয়ে প্যাদানি খায়।
আসিফ বলেন, এই চক্রেই চলছে বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থা। উচ্চশিক্ষিত চর্বিওয়ালারা জানে চুরির সব অভিনব কৌশল, কাঙালের দল সেই কৌশলের ফাঁদে পড়ে লোভী হয়ে ওঠে; তারাই আবার সেই চোরকে দেয় প্রাতিষ্ঠানিক অবয়ব।
পোস্টে আসিফ ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম সবাক বাংলা চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি পাশাপাশি ২০২৪ সালের ৩ আগস্টের একটি রাজনৈতিক ঘটনার সঙ্গে তুলনা টেনে নিজের মতামত তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে দেখলাম, সাফ ফুটবলের বসও হলেন সেই ফ্যাসিস্টেরই রেপ্লিকা। নির্বাচিত বাফুফে আর অথর্ব ক্রীড়ামন্ত্রণালয় ‘স্পিকটি নট’। খুব হিসাব কষে চলছে তাদের নতুন নির্বাক ছবির শুটিং। এগুলো সাধারণ কোনো ঘটনা নয়, একই সূত্রে গাঁথা পুরোনো ডিজাইন।
নিজের পোস্টের শেষাংশে আসিফ লেখেন, এই দেশের মানুষের শত্রুর প্রয়োজন নেই, নিজেদের বিনাশে নিজেরাই যথেষ্ট। বিষাক্ত কালচারাল ফ্যাসিস্ট আর তেলের মতো ভেসে থাকা কিছু দালাল মিডিয়া দেশের অভ্যন্তরের ফ্রন্টলাইন শত্রু। এই সত্যটা বুঝলে ভালো, না বুঝলে পরিস্থিতি একই রকম আছে, সমস্যার কিছু নেই। প্রাণ দেবে তারুণ্য, ভুগবে তার পরিবার, এনজয় করবে এলিট শ্রেণি, আর হাততালি দেবে কাঙালের দল—এটাই নিয়ম।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন