প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পটুয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের রাঙ্গাবালী রেঞ্জের মৌডুবি বিট কর্মকর্তা শোহেব খানের বিরুদ্ধে জেলেদের ৩০ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছে। এই অভিযোগে গতকাল সোমবার ভুঁইয়াকান্দা বাজারে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন পালন করেছেন ভুক্তভোগী জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী বাদল হাওলাদার, মহসিন ভুঁইয়া, মনির তালুকদাসসহ অর্ধশতাধিক জেলে তাদের অভিযোগ তুলে ধরছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বন বিভাগ ইতোমধ্যে কর্মকর্তাকে বদলি করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, বিট কর্মকর্তা চর হেয়ার, চর তুফানিয়া, চর তালুকদার, চর তালেব, চর বগলা, চর আশাবাড়িয়া, জাহাজমারা, চর তোফাজ্জেল, গ্যাপের চর, মৌডুবির ভাঙারখাল, কেউর হাওলা, কাজিকান্দাসহ নিজকাটা এলাকার নদী তীরবর্তী চরের অববাহিকায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ স্ট্রিপ বনায়ন (বেড়িবাঁধ বনাঞ্চল) ইজারা দিয়ে ঘুষ বাণিজ্য করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, অর্ধশতাধিক জেলের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। জেলেরা চর ও নদীর মোহনায় ইলিশ, কোরাল, চিংড়ি সহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ ধরেন এবং জীবিকা নির্বাহ করেন; অথচ বিট কর্মকর্তা শোহেব খান এই সব সাগরের জেগে উঠা চরগুলো লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে ইজারা দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
বক্তারা আরও বলেন, একটি চর দেওয়ার নামে অন্তত ২ থেকে ৫ জনের কাছে ঘুষ নিয়েছেন। স্থানীয় জেলে মহসীন ভুঁইয়ার কাছ থেকে নিয়েছেন দেড় লাখ, বাদল হাওলাদারের কাছ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার, মিজানুর ভুঁইয়ার কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার, মনির তালুকদারের কাছ থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার, কালাম ভুঁইয়ার কাছ থেকে ৬০ হাজার, নজরুল হাওলাদারের কাছে ৭০ হাজার, মোশাররফের (হাফেজকান্দা) কাছ থেকে আশারবাড়িয়ার চরের জন্য ২ লাখ ২০ হাজার, মোশারফ মাতব্বরের কাছে খালের জন্য ২৫ হাজার, ইলিয়ার পাটোয়ারির কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার, মহিবুল্লাহ ভুঁইয়ার কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য জেলেদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে চর দিয়েছেন বিট কর্মকর্তা শোহেব খান।
মানববন্ধনে সামসুল আলম হাওলাদারের ছেলে শামীম হাওলাদার বলেন, বিট কর্মকর্তা শোহেব খান ১ লক্ষ টাকা নিয়েছে চর তালুকদার দিবে বলেছিল। সরকারি হিসাব তো আমরা বুঝি না। তিনি আমাদের ‘মদন’ বানিয়ে টাকা নিয়েছেন। একই চর দেখিয়ে একাধিক লোকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন। গোপনে বন কর্মকর্তা ১ লাখ, দেড় লাখ, দুই লাখ এমনকি তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন।
মানববন্ধনে আরেক জেলে বলেন, আমি সুদের উপর টাকা নিয়ে এসে ৬০ হাজার টাকা দিয়েছি। যদি টাকা না দিই তাহলে তিনি বলেন যে গাছ কাটার মামলা দিবে, বিষ দেওয়ার মামলা দিবে। বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে কায়দা করে তিনি টাকাগুলো নিয়ে গেছেন। টাকা না দিলে টোটালি ঢুকতে দিবে না চরে। আমরা সাধারণ মানুষ কি করতে পারি? এমনকি কাঁকড়া ধরতে গেলেও টাকা দিতে হয়।
মৌডুবির ৬ নং ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মহসিন ভুঁইয়ার কাছ থেকে বিট কর্মকর্তা শোহেব খান মোট সাড়ে ৩ লাখ টাকা নিয়েছেন। প্রথমে দেড় লাখ পরে ২ লাখ টাকা নিয়েছেন। মহসিন ভুঁইয়া বলেন, আমরা মাছ ধরেই খেয়ে জীবন ধারণ করি। আমার কাছে মোট সাড়ে ৩ লাখ টাকা নিয়েছে বিট কর্মকর্তা শোহেব খান। চর তুফানিয়া দেওয়ার নামে টাকা নিয়েছে প্রথমে দেড় লাখ পরে ২ লাখ। আমার জানা আছে, একই চরের জন্য বাদল হাওলাদারের কাছ থেকেও টাকা নিয়েছে। এখন আমরা চাই, আমাদের কাছে টাকা নিয়ে চর দেওয়ার কথা ছিল- দিতে পারে নাই। এখন টাকা ফেরত চাই। গতবছর একই কর্মকর্তা নিয়ে গিয়েছিলেন পৌঁনে ৩ লাখ টাকা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মৌডুবি বিট কর্মকর্তা শোহেব খান বলেন, যেসব চর যাকে দেওয়ার কথা ছিল, তাদেরকে সেসব চর দেওয়া হয়েছে। উর্দ্ধতন কোনো কর্মকর্তাকে টাকা দেওয়ার কথা হয়নি। আর আপনারা যা খুশি করেন।
রাঙ্গাবালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আমির হোসেন বলেন, জেলেরা যদি কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে থাকেন তাহলে তারা অন্যায় করেছেন। ঘুষ দেওয়া-নেওয়া সমান অপরাধ। বন বিভাগ তার অপরাধ জানার পর তাকে সরিয়ে দিয়েছে। আমার হাতে বিট কর্মকর্তার অনিয়মের অভিযোগ আসার পর আমি তাকে সরিয়ে দিয়েছি। টাকা যদি জেলেরা পায় তাহলে তার কাছে ব্যক্তিগতভাবে আদায় করবে। আর বন আইনে যে শাস্তির বিধান রয়েছে সেটাই করা হবে।
এর আগে একই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপকূলীয় অঞ্চলের (বরিশাল) বন রক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করীম বলেন, আমার কাছে টাকা নেওয়ার কোনো অভিযোগ আসেনি। আর আমাকে সে টাকা দেয় বলছেন- আমাকে সেই কর্মকর্তা কি চিনে? আমি ওই ধরনের কোনো কর্মকর্তাকে চিনি না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন