০৫:৪৭ পি.এম
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সাম্প্রতিক সময়ে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তান সৌদি আরব-সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে। ইসলামাবাদ দেশটিকে সামরিক সহায়তার অংশ হিসেবে চারটি কার্গো বিমানে অস্ত্র পাঠিয়েছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিরোধী সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাকিস্তানের পাঠানো অস্ত্র ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে পৌঁছেছে। এর ফলে ইয়েমেনের চলমান যুদ্ধে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ইয়েমেনে সৌদি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টারাও কাজ করছেন। ইয়েমেন সংঘাতে পাকিস্তান ও তুরস্কের সৌদি সমর্থনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আগস্ট মাসে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইয়েমেন পরিস্থিতিকে ওই সহযোগিতার প্রাথমিক পরীক্ষাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমনে কলকাতার হাসপাতাল ও পর্যটন ব্যবসায় ধস
মিডল ইস্ট আইকে পশ্চিমা ও আরব বিশ্বের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হুতির বড় ধরনের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরব উচ্চমাত্রার সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা জানিয়েছেন, হুতি ইতিমধ্যে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব বিমান হামলা জোরদার করেছে। গত বৃহস্পতিবার হুতিরা দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরব তাদের অবস্থানে ৯৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা সানায় একটি ‘উচ্চমূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে’ অভিযান চালিয়েছে এবং সাদায় ১১টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, তাইজে একটি ‘সমন্বিত সামরিক ব্যবস্থা’র ওপর ২৭টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে, হুতিরা সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রিয়াদ বিমানবন্দরও রয়েছে। সৌদি আরবের অভিযোগ, পবিত্র নগরী মদিনায় একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রেও হুতিরা হামলা চালিয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন জোট জানিয়েছে, তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে একটি ড্রোন আঘাত হানে। কেন্দ্রটি মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। তবে হুতিরা এ হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন: ভারত বাংলাদেশে শ্রমিক বিক্ষোভের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে
গত মাসে হুতিরা লোহিত সাগর দিয়ে অগ্রসর হয়ে সৌদি জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করলেও পাকিস্তান ও তুরস্ক সরাসরি এতে অংশ নেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নিজেদের নিরাপত্তা উদ্বেগ—দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হচ্ছে দেশ দুটিকে। পাকিস্তানের প্রতিবেশী ইরান হুতিদের অস্ত্র, গোয়েন্দা সহায়তা ও সামরিক পরামর্শ দিয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র হলেও হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো প্রকাশ্যে কোনো ভূমিকা নেয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রও পাকিস্তানের মতো সৌদি আরবে সামরিক পরামর্শক ও অস্ত্রব্যবস্থা পাঠিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন