০২:৫৯ পি.এম
জালিয়াতি এবং প্রতারণার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বিনিয়োগকারীদের একটি দল, যাদের অভিযোগে আছেন আমেরিকান পপতারকা ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ এবং তার মানসিক স্বাস্থ্যভিত্তিক স্টার্টআপ সংস্থা ‘ওয়ান্ডারমাইন্ড’।
পূর্ববর্তী বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের আদালতে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয় ভুয়া আশ্বাস দিয়ে, যে সেলেনার ব্যক্তিগত সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে এবং ওয়ান্ডারমাইন্ডের সাফল্য হবে। ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মটিতে সেলেনা গোমেজ সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে ও ‘চিফ ইমপ্যাক্ট অফিসার’ এবং মার্কেটিং প্রধানের পদে থাকলেও, কোম্পানির কার্যক্রম নিয়ে বিগত তিন বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের অন্ধকারে রাখা হয়েছিল।
মামলার নথির মধ্যে, পাঁচজন বিনিয়োগকারী যে যৌথভাবে এই অভিযোগ এনেছেন, তারা ২০২২ সালে সেলেনার খ্যাতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিশাল অনুসারীদের প্রভাবের ভিত্তিতে সংস্থাটিতে ১২ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪ কোটিরও বেশি) বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু গত তিনটি বছরে প্রতিষ্ঠানটি ধসে পড়ার উপক্রম হওয়া সত্ত্বেও কোন প্রতিষ্ঠাতা, নির্বাহী কর্মকর্তা বা পরিচালক বিনিয়োগকারীদের কিছু বলেননি। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিনিয়োগকারীদের অর্থ ব্যবহার করে নিজেদের কোম্পানির পতনকে দীর্ঘায়িত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলাম: আইজিপির দায়িত্ব থেকে দ্রুত সরে যাওয়া উচিত
এই মামলায় সেলেনা গোমেজের সঙ্গে তার মা ম্যান্ডি টিফি এবং সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার ড্যানিয়েল পিয়ারসনকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। আসামীদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, কমন ল জালিয়াতি ও চুক্তি ভঙ্গের মতো মারাত্মক অভিযোগ আনা হয়েছে। বাদীরা তাদের বিনিয়োগের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ ও আইনি খরচ দাবি করেছেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালে বিনিয়োগের সময় কোম্পানির বাজারমূল্য ৯৫ মিলিয়ন ডলার দাবি করা হয়েছিল। বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিত করা হয়েছিল যে, বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং একটি যুগান্তকারী অ্যাপ নির্মাণের কাজ চলমান ছিল। কিন্তু মামলার নথিতে বলা হয়েছে, এসব অংশীদারত্ব বা বিজ্ঞাপনী চুক্তির কোনো অস্তিত্ব ছিল না এবং শেষ পর্যন্ত ওই অ্যাপও তৈরি হয়নি।
অবশ্য, গত বছর ‘দ্য কাট’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পর বিনিয়োগকারীরা প্রথমবার অভ্যন্তরীণ সংকটের কথা জানতে পারেন। সেখানে বলা হয়েছিল, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সম্পর্কের টানাপোড়েন ফ্ল্যাটফর্মটিকে সংকটে ফেলে দিয়েছে। মামলাটিতে উল্লেখ রয়েছে যে, সেলেনা তার মায়ের সাথে ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
কোম্পানির প্রায় ৯০ শতাংশ শেয়ার সেলেনা, তার মা ম্যান্ডি এবং সাবেক সঙ্গী পিয়ারসনের যৌথ মালিকানায় ছিল। মামলার কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্যে জানা যায়, সেলেনার মা টিফি বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছিলেন যে, তাদের সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার পিয়ারসন নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার ডলার (বাংলাদেশি প্রায় ৭২ লাখ টাকা) বাড়িভাড়া মেটাতে বিনিয়োগকারীদের তহবিল ব্যবহার করেছেন, এবং তিনি ২০২৩ সালে ওয়ান্ডারমাইন্ড ছেড়ে যান।
আরও পড়ুন: শাহরুখের ৬১তম জন্মদিনে ‘মান্নাত’-এ দেখা মিলবে না
তবে, বৃহস্পতিবার পিয়ারসন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, তিনি আদালতের সামনে গিয়ে প্রমাণ করার জন্য প্রস্তুত আছেন যে, তিনি কখনো বিনিয়োগকারীদের অর্থ ব্যক্তিগত খরচে ব্যবহার করেননি। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সেলেনা, ম্যান্ডি বা ওয়ান্ডারমাইন্ডের কর্তৃপক্ষের থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন