ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০৮:৫৪ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঘোড়ার গাড়ি দুর্ঘটনায় মাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে এক ছেলে। এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও। ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির বিখ্যাত সেন্ট্রাল পার্কে, যেখানে দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে মর্মান্তিক এই খবর উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবারের সঙ্গে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্ক ভ্রমণে এসেছিলেন ১৮ বছর বয়সী তরুণ রোমাঞ্চ মহাজন। গত বুধবার (১৭ জুন) সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়িতে ঘুরছিল তারা। একসময় গাড়িচালক তাদের ছবি তোলার জন্য গাড়ি থামান। ঠিক সেই সময়ই হঠাৎ ঘোড়াটি ভয় পেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দৌড় শুরু করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘোড়াটি ফুটপাতে উঠে যায় এবং ঘাসের ওপর দিয়ে দ্রুত গতিতে ছুটতে থাকে, চালক তার পেছনে দৌড়াতে থাকেন। রোমাঞ্চের বাবা দীপক মহাজন বলেন, ‘আমরা চিৎকার করছিলাম, ‘বাঁচাও, বাঁচাও!’
পরিবারের সদস্যরা চেষ্টা করলেও এক পর্যায়ে রোমাঞ্চের মা প্রিয়া মহাজন গাড়ি থেকে পড়ে যান। মাকে বাঁচানোর জন্য সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থেকে লাফ দেন রোমাঞ্চ। দীপক মহাজন বলেন, ‘আমার ছেলে শুধু তার মাকে বাঁচানোর জন্যই লাফ দিয়েছিল, সে পড়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সে ‘মা! মা!’ বলে চিৎকার করে ডাকছিল।’ সেন্ট্রাল পার্কের কাছে অবস্থিত ট্যাভার্ন অন দ্য গ্রিন রেস্তোরাঁর কর্মী তাতিয়ানা ব্রেসলার নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ‘ঘোড়াটি ভয় পেয়ে খুব দ্রুত দৌড়াতে শুরু করেছিল।’
দুর্ঘটনাটি দেখে তিনি সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। ব্রেসলারের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন প্রত্যক্ষদর্শী নিয়ন্ত্রণহীন ঘোড়াটির গতি কমাতে সক্ষম হন। তবে এর আগেই গাড়িটি উল্টে যায়।
গাড়ি থেকে পড়ে গিয়ে রোমাঞ্চের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকেন। পরবর্তীতে, তাকে নিউইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান ওয়েইল কর্নেল মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে গেলে রাতেই তার মৃত্যু হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোমাঞ্চের বাবা-মা এবং ছোট ভাই সামান্য আহত হন। তবে তাদের গাড়িটি আরেকটি ঘোড়ার গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায় এবং ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়।
এই দুর্ঘটনার পরে নিউইয়র্কে ঘোড়ার গাড়ি পরিচালনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ে ঘোড়ার গাড়ি-সংক্রান্ত একাধিক দুর্ঘটনার সর্বশেষ ঘটনা। ঘোড়ার গাড়িচালকদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন বলেছে, এমন ঘটনা কখনোই ঘটার কথা ছিল না।
ইউনিয়নের সহসভাপতি আলেকজান্ডার কেম্প এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘দেখা যাচ্ছে চালক তার ঘোড়া থেকে অন্তত এক হাত দূরে ছিলেন। এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। কোনো চালকেরই ছবি তোলার জন্য গাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কথা নয়। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পক্ষে।’
তিনি জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত চালকের নাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে ঘোড়ার গাড়িটির মালিক তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। এদিকে ঘটনার পর সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধের দাবিও আবার জোরালো হয়েছে। বর্তমানে ম্যানহাটনে ১০০টিরও বেশি ঘোড়ার গাড়ি চলাচল করে।
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য ক্রিস্টোফার মার্ট, যিনি আগামী বছরের শেষে ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধের একটি বিল উত্থাপন করেছেন, বলেন, ‘এটিকে আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখা যাবে না। এই ট্র্যাজেডি যে জরুরি পদক্ষেপ দাবি করছে, সিটি কাউন্সিলকে তা নিতে হবে।’
পার্ক পরিচালনাকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে সেন্ট্রাল পার্ক বা এর আশপাশে অন্তত আটটি ‘ঘোড়া-সংশ্লিষ্ট’ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত মাসে একটি ঘোড়া আরেকটি গাড়িকে ধাক্কা দিলে সেটিও উল্টে গিয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের একটি ফল ও সবজির দোকানে দেখা মিলেছে এক রহস্যময়, বিরল এবং খুব চমৎকার আপেলের। আপেলটির অর্ধেক অংশ উজ্জ্বল লাল এবং বাকি অর্ধেক অংশ নিখুঁতভাবে হলুদ রঙে বিভক্ত। এই অবিকল মাঝখান থেকে দুই রঙে ভাগ হয়ে আছে এমন আপেলটি বর্তমানে দোকানটিতে অসংখ্য দর্শনার্থীর ভিড় আকৃষ্ট করছে।
গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে, ক্রাইস্টচার্চের মাইরেহাউ উপশহরের 'সানশাইন কর্নার মার্কেট' নামক দোকানে পাকা, রসালো ও মিষ্টি লাল আপেলের একটি চালানে এই অদ্ভুত ফলটি খুঁজে পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দুই রঙের আপেল পাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং এটি প্রায় ১০ লাখে একটি ঘটে। মূলত, এটি একটি বিশেষ জেনেটিক মিউটেশন বা জিনগত পরিবর্তনের কারণে ঘটে থাকে। ফলটি যখন বড় হতে শুরু করে, তখন এর কোষগুলো দুটি ভিন্ন জিনগত বৈশিষ্ট্যে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার ফলেই এমন রঙের নিখুঁত পার্থক্য তৈরি হয়।
স্থানীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে দোকানের মালিক হিদার জানান, আপেলটি এখন এলাকার মানুষের মধ্যে এক বিরাট কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, ‘যারা এটি দেখছেন, তারা বাড়ি গিয়ে তাদের জীবনসঙ্গীকে জানালে অনেকেই তা বিশ্বাস করতে চান না। ফলে অনেকেই সত্যতা প্রমাণ করতে তাদের সাথে নিয়ে পুনরায় দোকানে ফিরে আসছেন।’ ইতোমধ্যে প্রচুর দর্শনার্থী এই অদ্ভুত সুন্দর ফলের ছবি তুলে নিয়ে গেছেন।
হিদার আরও বলেন, বহু বছর ধরে ফলের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও তিনি এর আগে কখনো এমন নিখুঁত দুই রঙের আপেল দেখেননি। এমনকি কিছু ক্রেতা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আগে নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষার জন্য এই আপেলটি একবার ছুঁয়ে দেখারও অনুরোধ করছেন।
অপরূপ এই আপেলের পচন রোধ করতে এবং স্থায়িত্ব বাড়াতে সেটিকে একটি রেফ্রিজারেটরে যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। তবে দোকান মালিক জানিয়েছেন, এটি স্থায়ীভাবে কোনো উপায়ে সংরক্ষণ করা হবে নাকি কেটে এর ভেতরের অংশটি পরীক্ষা করে দেখা হবে—সে বিষয়ে খুব শীঘ্রই তারা একটি নির্দেশনা নেবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম জানিয়েছেন, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে ইকো-ট্যুরিজম এবং কমিউনিটি বেইজড পর্যটন উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
তিনি আজ সংসদে সাতক্ষীরা-২ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুল খালেকের টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক প্রণীত খসড়া পর্যটন মহাপরিকল্পনায় পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও নিরাপদ পর্যটন উন্নয়নের রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মহাপরিকল্পনায় সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরা জেলায় ১০টি, বাগেরহাট জেলায় ২২টি এবং খুলনা জেলায় ২১টি পর্যটন আকর্ষণ চিহ্নিত করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, মহাপরিকল্পনা চূড়ান্তভাবে গৃহীত হলে সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে ইকো-ট্যুরিজম ও কমিউনিটি বেইজড পর্যটন উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা মহাপরিকল্পনা অনুমোদন ও পরবর্তী প্রকল্প গ্রহণের ওপর নির্ভরশীল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ