ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফ্রান্সিস হালজেন পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন নিউট্রিনো গবেষণার জন্য


ফ্রান্সিস হালজেন পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন নিউট্রিনো গবেষণার জন্য

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন ফ্রান্সিস হালজেন। তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক উৎস থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ।

বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস নতুন বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।

ফ্রান্সিস হালজেনকে এই পুরস্কার দেওয়ার কারণ হলো, ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ।’ তিনি দেখিয়েছেন যে, দক্ষিণ মেরুর বরফ নিউট্রিনো শনাক্তের জন্য কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তার দূরদৃষ্টি ও নেতৃত্বে গড়ে ওঠে আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি।

আরও পড়ুন: জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় থমকে গেল বিলাসবহুল প্রমোদতরি, কম্বোডিয়ায় আটকা ২০০ যাত্রী

দক্ষিণ মেরুর প্রায় এক ঘনকিলোমিটার বরফে স্থাপিত এই পর্যবেক্ষণাগারে আলোক সংবেদকের মাধ্যমে মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও শক্তিশালী জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করা হয়।

নিউট্রিনো সর্বত্র বিদ্যমান, তবে তাদের শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। প্রতিনিয়ত অসংখ্য নিউট্রিনো আমাদের শরীর ও পৃথিবীর ভেতর দিয়ে চলে যায় এবং কোনো প্রতিক্রিয়া ছাড়াই। কিন্তু খুবই বিরল ক্ষেত্রে কোনো নিউট্রিনো পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে। তখন বিশেষায়িত যন্ত্রের সাহায্যে তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

বিজ্ঞানীরা বহু আগে থেকেই জানেন যে, মহাবিশ্বে এমন প্রাকৃতিক কণা ত্বরণকারী রয়েছে। এগুলো পৃথিবীর গবেষণাগারে উৎপাদিত শক্তির চেয়েও প্রায় ১০ লাখ গুণ বেশি শক্তিশালী কণা ছড়িয়ে দেয়। তবে এসব মহাজাগতিক উৎসের প্রকৃতি, অবস্থান এবং সেখানে সংঘটিত প্রধান প্রক্রিয়াগুলো এখনো অনেকটাই রহস্যময়।

অত্যন্ত উচ্চশক্তির নিউট্রিনো অন্যান্য কণার মতো একই মহাজাগতিক পরিবেশে তৈরি হয়। তবে অন্য কণার বিপরীতে নিউট্রিনো মহাকাশে চলার সময় সাধারণত দিক পরিবর্তন করে না বা উল্লেখযোগ্য শক্তি হারায় না। ফলে এগুলো সরাসরি তাদের উৎস সম্পর্কে তথ্য বহন করে এবং মহাবিশ্বের শক্তিশালী জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক উৎস সম্পর্কে এমন তথ্য দিতে পারে, যা অন্য কোনো উপায়ে পাওয়া সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: নেপালে পর্বতজয়ের পর ৫০০০ ফুট নিচে পড়ে জার্মান পর্বতারোহীর মৃত্যু

১৯৮৮ সালে ফ্রান্সিস হালজেন দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো শনাক্তের পরিকল্পনা প্রথম উপস্থাপন করেন। কোনো নিউট্রিনো পারমাণবিক নিউক্লিয়াসের সঙ্গে সংঘর্ষ করলে যে ক্ষীণ আলোর ঝলক তৈরি হয়, তা স্বচ্ছ বরফের মধ্যে স্থাপিত বিশেষ সেন্সরের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব।

দক্ষিণ মেরুর বরফ এ ধরনের গবেষণার জন্য উপযোগী, কারণ এটি ভূতাত্ত্বিকভাবে স্থিতিশীল এবং বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা থেকে তুলনামূলকভাবে মুক্ত। হালজেনের ধারণাটি দ্রুত অন্য গবেষকদের সমর্থন পায় এবং কয়েক বছরের মধ্যেই বরফের মধ্যে সেন্সর স্থাপনের প্রাথমিক পরীক্ষা শুরু হয়।

অত্যন্ত উচ্চশক্তির মহাজাগতিক নিউট্রিনো খুবই বিরল। তাই পর্যাপ্ত সংখ্যক নিউট্রিনোর মিথস্ক্রিয়া শনাক্ত করতে বিপুল পরিমাণ বরফের প্রয়োজন হয়। এ কারণেই প্রায় এক ঘনকিলোমিটার বরফজুড়ে আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি নির্মাণ করা হয়। এর কাজ ২০১১ সালে সম্পন্ন হয়।

এরপর গবেষকেরা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করতে সক্ষম হন। কয়েক বছর পর এমন নিউট্রিনোর সন্ধানও পাওয়া যায়, যেগুলোর উৎস আমাদের সৌরজগতের অনেক দূরে। এর মাধ্যমে মহাবিশ্বের নিউট্রিনোর উৎস অনুসন্ধানে নতুন যুগের সূচনা হয়।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ১৯ আসন নিয়ে কিংমেকার ফিলিস্তিনি দলগুলো

আইসকিউবের মাধ্যমে নিয়মিত সংগৃহীত তথ্য গবেষকদের উচ্চশক্তির নিউট্রিনো সৃষ্টির পেছনে থাকা চরম মহাজাগতিক পরিবেশ সম্পর্কে নতুন ধারণা দিচ্ছে। একই সঙ্গে এসব পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে অজানা মহাজাগতিক ঘটনাও উন্মোচন করতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চতুর্থ শ্রেণিতে খেলাধুলার বই সংযোজনের পরিকল্পনা ঘোষণা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ পি.এম


চতুর্থ শ্রেণিতে খেলাধুলার বই সংযোজনের পরিকল্পনা ঘোষণা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

আগামী শিক্ষাবর্ষে খেলাধুলাবিষয়ক পাঠ্যপুস্তক সংযোজনের জন্য সরকারের একটি পরিকল্পনা রয়েছে, যা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, চতুর্থ শ্রেণি থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নবনির্মিত ক্রিকেট একাডেমির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক এবং সামাজিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এই উদ্দেশ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ এবং শহরের ওয়ার্ড পর্যায়ে ফুটসাল বা ছোট মাঠ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লক্ষ্য তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় কেবল অংশগ্রহণই নয়, বাংলাদেশ এখন সরাসরি পদকের জন্য লড়াই করতে চায়। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অলিম্পিক, এশিয়ান ও কমনওয়েলথ গেমসের মতো বড় আসরে শক্তিশালী অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি এবং বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন অবকাঠামো নির্মাণের আগে বিদ্যমান মাঠ ও স্টেডিয়ামগুলোকে সর্বোচ্চ ব্যবহারোপযোগী করার উপর সরকারের প্রধান লক্ষ্য। দেশের সব জেলা স্টেডিয়ামকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি জেলা স্টেডিয়ামে পূর্ণাঙ্গ গ্যালারি, আধুনিক ড্রেসিং রুম ও প্রেস বক্সসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

শুধু ফুটবল বা ক্রিকেট নয়, বরং সাঁতার, ভলিবল, টেবিল টেনিস, দাবা, আর্চারি, শুটিং ও হকির মতো বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের অনুশীলনের সুযোগও তৈরি করা হবে, জানান প্রতিমন্ত্রী।

বেদখলে থাকা খেলার মাঠগুলো উদ্ধারে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে আমিনুল হক বলেন, মৌলভীবাজারের রেলওয়ে মাঠসহ সারা দেশে অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকা মাঠগুলো দ্রুত দখলমুক্ত করার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী শ্রীমঙ্গল ক্রিকেট একাডেমির ড্রেসিং রুমসহ বিভিন্ন অবকাঠামো পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠান শেষে শ্রীমঙ্গলে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত জায়গাও সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুনুর রশীদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সরফরাজ আহমদ সরফু প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআরডি মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৫ পি.এম


জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআরডি মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান মন্তব্য করেছেন যে, জনগণের সেবা করা নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেছেন, "জনগণ সরকারের কাছে যে প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দেয়, তা পূরণে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।"

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, স্থানীয় সরকার বিভাগের আয়োজনে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মূল উদ্দেশ্য এক, তা হলো জনগণের সেবা করা। যদিও পদ্ধতি ভিন্ন, জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে উভয়ের লক্ষ্য একই হওয়া উচিত। জনগণ নির্বাচিত সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা রাখে, তাই সেই প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের হাতে যে ক্ষমতা রয়েছে, তা জনগণের সেবা করার কাজে ব্যবহার করা উচিত। জনগণের সেবা বাধাগ্রস্ত করার জন্য নয়, বরং মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, এ কার্যক্রম জাতীয় প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার সঙ্গে নিবন্ধন তথ্যভাণ্ডারের তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে। প্রায় ১৯ কোটি মানুষের দেশে নিবন্ধন ডাটাবেজে এর চেয়ে অনেক বেশি মানুষের তথ্য থাকা উদ্বেগজনক। এ ধরনের অসংগতি দূর করে নিবন্ধন ব্যবস্থাকে নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু কম্পিউটার বা প্রযুক্তি দিয়ে মানুষের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রযুক্তির পেছনে থাকা মানুষকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। একটি সাধারণ জন্ম সনদ নিতে কোনো নাগরিককে যেন ইউনিয়ন পরিষদে বারবার যেতে না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, গ্রামের একজন সাধারণ মানুষ হয়তো বেশি শিক্ষিত নন, কিন্তু তিনিও রাষ্ট্রের নাগরিক এবং তারও সরকারি সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাই তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো সতর্ক, দায়িত্বশীল ও জনগণমুখী হতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশে যেসব গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান রয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০১ সালে ইউনিসেফের সহযোগিতায় বেগম খালেদা জিয়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন চালু করেন এবং সেখানে পিতার পাশাপাশি মায়ের পরিচয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে জন্ম নিবন্ধনের সংখ্যা ২৪ কোটি ৮৮ লাখ এবং মৃত্যু নিবন্ধন ৫৮ লাখ ১৯ হাজার হলেও ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। নির্ভুল নিবন্ধন না হওয়ায় পরিসংখ্যানে গরমিল হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ উদ্যোগ বাস্তবায়নে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সিস্টেম (বিডিআরআইএস) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ব্যবস্থা। তৃণমূল পর্যায়ে নিবন্ধন আরও নির্ভুল করতে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রামভিত্তিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ধারণার আলোকে পুনরায় গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ব্যবস্থা চালু হলে গ্রাম পর্যায়ে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আরো নির্ভুল করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে শুদ্ধতা ও উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা জেলার উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, দুবাই, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশন, ঢাকার হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ড. মিখাল ক্রেজা এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭ মাসের গর্ভবতী কলেজছাত্রী অনাগত সন্তানের পিতৃপরিচয় চান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ রাসেল সরকার ( স্টাফ রিপোর্টার)

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৫ পি.এম


৭ মাসের গর্ভবতী কলেজছাত্রী অনাগত সন্তানের পিতৃপরিচয় চান

সাত মাসের অন্তসত্ত্বা এক কলেজছাত্রীর চোখেমুখে এখন অনিশ্চয়তা আর আতঙ্ক। কোলে আসতে যাওয়া সন্তানের ভবিষ্যৎ কী হবে এই প্রশ্নই যেন তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। ঘটনাটি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের কাঁদাই বাদলা গ্রামের।

ভুক্তভোগী আঁখি খাতুন শাহজাদপুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা জহির উদ্দিন আকন্দ। পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের মৃত রমজান মন্ডলের ছেলে রানা মন্ডলের সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর ধরে আঁখির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এর মধ্যে প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে রানা অন্যত্র বিয়ে করেন। এরপর আঁখি ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার চেষ্টা করলেও রানা তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দিতে থাকেন।

আঁখির পরিবারের দাবি, পূর্বের সম্পর্কের অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। একপর্যায়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগও ওঠে রানার বিরুদ্ধে। পরে আঁখি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। গর্ভধারণের বিষয়টি রানা মন্ডলকে জানানোর পর তাকে শাহজাদপুরের বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে গর্ভপাতের চেষ্টা করা হয়। তবে গর্ভের বয়স ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে চিকিৎসকেরা এতে রাজি হননি বলে পরিবারের দাবি। বর্তমানে আঁখির গর্ভের বয়স প্রায় সাত মাস।

বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরিবারের ভাষ্য, এসব বৈঠকে অনাগত সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে রানা মন্ডলের সঙ্গে আঁখির বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের সিদ্ধান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে রানা সেখান থেকে সরে যান। শালিসে বারবার সিদ্ধান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান না হওয়ায় সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করার দাবিতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে আঁখির পরিবার। আঁখির মা আদুরী খাতুন বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। মামলার পর থেকে রানা মন্ডল ফোনে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন আঁখির বাবা-মা। তাদের দাবি, মেয়ের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বর্তমানে তাকে বাড়িতেও রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রানা মন্ডলের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠকের প্রধান ও সাবেক ইউপি সদস্য মইনুল হোসেন বলেন, “রানা ও আঁখির বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা সালিশ হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকে রানার সঙ্গে আঁখির বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। শাহজাদপুর কোর্টে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।”

এদিকে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা আঁখির সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন জন্মের পর তার সন্তানের পরিচয় কী হবে? একজন মায়ের ভবিষ্যৎ, একটি অনাগত শিশুর অধিকার এবং একটি পরিবারের নিরাপত্তা সবকিছু মিলিয়ে ঘটনাটি এলাকায় উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।


এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি যেন কেবল স্থানীয় সালিশে সীমাবদ্ধ না থাকে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, আঁখির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন অনুযায়ী অনাগত সন্তানের পিতৃপরিচয় ও অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হোক।#

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘শুভ আমার থেকে বেশি আমাকে বোঝে’ বললেন দেব দাদাগিরিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৬ পি.এম


‘শুভ আমার থেকে বেশি আমাকে বোঝে’ বললেন দেব দাদাগিরিতে

টালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় এবং আলোচিত জুটি দীপক অধিকারী দেব ও শুভশ্রী গাঙ্গুলি। তাদের অনস্ক্রিন এবং অফস্ক্রিন কেমিস্ট্রি একসময় বাংলা সিনেমার জগতে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। যদিও সময়ের ব্যবধান এবং নিয়মের কারণে দুজনের জীবনপথ আলাদা হয়ে গেছে, তবুও সম্পর্কের সেই শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক টান আজও অটুট রয়েছে। সম্প্রতি জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দাদাগিরি’র বিশেষ পর্বে আবারও নস্টালজিয়া উসকে দিলেন এই তারকা জুটি।

অনুষ্ঠানের মঞ্চে বিশেষ মুহূর্ত এবং কথোপকথনের মাঝে অতীতের স্মৃতি ও সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলি অত্যন্ত সাবলীলভাবে একটি পরিপক্ব বার্তা প্রদান করেন। তিনি বলেন, "ওর সঙ্গে আমার কী অতীত ছিল, সেটার থেকেও বড় কথা— যে কোনো সময় যখন তুমি চাইবে, অবশ্যই সবসময় পাশে আছি।" শুভশ্রীর এই আশ্বাস ও বক্তব্যের পর পুরো মঞ্চ করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।

অভিনেত্রীর এই সুন্দর আশ্বাসের জবাবে টালি মেগাস্টার দেবও চুপ থাকেননি। সাবেক সহ-অভিনেত্রীর এ কথার জবাবে আবেগঘন কণ্ঠে প্রশংসা করে দেব বলেন, "ও আমার থেকে বেশি আমাকে বোঝে বলে আমার মনে হয়।"

দুজনের এই মিষ্টি মুহূর্ত এবং শ্রদ্ধাপূর্ণ কথোপকথন কেবল উপস্থিত দর্শকদের নয়, বরং সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এ ভিডিও ক্লিপ দেখে বাংলা সিনেমার হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগীসহ নেটিজেনদেরও মুগ্ধ করেছে।

অনির্বাণের বিখ্যাত গান ‘আমাদের বকুল তলায় ভিড় জমেছে’ গাইতে শোনা যায় অনির্বাণকে। জীবনের এই রূপক টেনে বলা হয়— কীভাবে জীবনের নগরদোলা গোল গোল ঘুরে আবার এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে তিক্ততার কোনো স্থান নেই, রয়েছে কেবল পারস্পরিক শ্রদ্ধা।

বর্তমানে দুজনেই তাদের ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি কর্মজীবনেও দারুণ সফল। তবে অতীতে ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘পরাণ যায় জলিয়া রে’, ‘রোমিও’, ‘খোকাবাবু’-র মতো ব্লকবাস্টার উপহার দেওয়া এ জুটিকে রিল কিংবা রিয়েল লাইফে একফ্রেমে দেখা সবসময়ই অনুরাগী ও দর্শকদের কাছে এক পরম পাওয়ার মতো।

যদিও নিন্দুকরা কটূক্তি করতে ছাড়েননি। এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন— এতই যখন বোঝে তাহলে আলাদা হওয়ার কী দরকার ছিল? আরেক নেটিজেন বললেন— দেবের ভুলে যাওয়া উচিত নয়, শুভশ্রী এখন অন্য কারুর সন্তানের মা। আবার অন্য আরেক নেটিজেন বলেছেন, "রুক্মিণীর আত্মসম্মানের কথাটাও ভাবা উচিত।"

সাবেক সম্পর্ককে হাতিয়ার করে প্রচারের অভিযোগে বিদ্ধ দেব-শুভশ্রী। তবে সেই নিয়ে দুজনের কোনো খেদ নেই তা স্পষ্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%