প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় সংসদে পবিত্র কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে একটি উত্তেজনাপূর্ণ বাহাস চলে গেছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, কোরআনের ‘ভুল ব্যাখ্যা’ দেওয়া হয়েছে। তারা বলেছে, কোরআনের আয়াত ও হাসিদের বাণী ঠাট্টা-বিদ্রুপের বিষয় নয়। অপরদিকে, সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে অপব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি দলের সদস্যরা উল্লেখ করেছেন যে, ভুলক্রমেও ইসলামের প্রতি অবমাননামূলক কিছু হলে তারা তার নিন্দা করবে। তবে বিষয়টিকে এইভাবে ব্যবহার করা উচিত হবে না। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে জানিয়েছিলেন যে, কোরআনের অবমাননাকর কিছু হলে তা পরীক্ষা করে এক্সপাঞ্জ করা হবে।
বুধবার, ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেটের প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় বক্তব্য প্রদান করেন সরকার দলের এমপি আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। তাঁর বক্তব্যের এক অংশে তিনি বিরোধী দলের সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘আমাদের ডান পাশে যারা আছেন, তাদের সেদিন মিছিলে যাওয়ার কারণ আমি জানি না। মাননীয় স্পিকার, আমাদের কাছে এসে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় মন্ত্রীদের কাছে বাজেট চাইবেন, বরাদ্দ চাইবেন। কিন্তু রাস্তায় গিয়ে মিছিল করবেন।’
তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা ইব্রাহিমের সাত নম্বর আয়াতের তেলওয়াত করে বলেন, ‘শোকর করতে হবে জীবনের। শোকর করতে হবে বরাদ্দের। শোকর করতে হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। শোকর করতে হবে আমাদের মন্ত্রীদের। তাদের শোকর করা উচিত, কিন্তু তারা অস্বীকার করে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ জন্য তাদের কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।’
উল্লেখ্য, সূরা ইব্রাহিমের এই আয়াতটির অর্থ হলো, যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর তবে আমি নিশ্চিত তোমাদের জন্য (আমার নেয়ামাত) বৃদ্ধি করে দেব। আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও তবে জানো, অকৃতজ্ঞদের জন্য আমার শাস্তি অবশ্যই কঠিন।
এ বক্তব্যের পর জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, কোরআন ও হাদিসের আয়াত ঠাট্টা বিদ্রুপের বিষয় নয়। এই বিষয়টি নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করা হলে তা দুঃখজনক। তিনি আরও বলেন, ‘ওই আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।’ তিনি প্রশ্ন করেছেন, ‘তাদের প্রশংসা করলে কি তারা আরো বাড়িয়ে দেবেন? আর তাদের ইয়ে না করলে আমাদের কি তাদের সঙ্গে মারামারি করতে হবে? এটা তো আসলে ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে।’
তিনি উল্লেখ করেন যে, এ ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কঠোর সতর্ক বাণী এসেছে, যে এগুলো ঠাট্টা বিদ্রুপের বিষয় নয়। জামায়াতের এই প্রতিনিধি বলেন, কোরআন ও হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা নিয়ে আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে। এ বিষয়গুলোর কোনো অবমাননা করা যাবে না। স্পিকারকে (হাফিজ উদ্দিন আহমদ) আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এরপর বলেন, আলমগীর মাহমদুল্লাহ ফরিদ একজন পুরোনো সংসদ সদস্য। তিনি কোরআন হাদিস নিয়ে কোনো ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করবেন না। তবে আমরা পরীক্ষা করে দেখব যদি কোনো ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেটা এক্সপাঞ্জ হবে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ, এখানে কোরআন হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না।’ সংসদ সদস্যরা এ কথার প্রতি টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান।
এ সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ফ্লোর নিয়ে বলেন, আমি বিতর্কে যাবো না। তিনি জানান, যদি বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে যে, আমাদের একজন সংসদ সদস্য কোরআনের আয়াতে ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন তখন বিষয়টি যথাযথ নয়। তিনি বলেন, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ একজন মওলানা এবং মাদ্রাসা পাশ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘যদি আমরা আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করি, আল্লাহ আমাদের আরো বাড়িয়ে দেবেন।’
তিনি জানান, বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে অপব্যাখ্যা করা উচিত হবে না। বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ মুসলমানের দেশে, যদি কোনো সংসদ সদস্যের বক্তব্য ভুলক্রমেও ইসলামের প্রতি অবমাননামূলক হয়, তাহলে আমরা তার নিন্দা করবো। তবে এটাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা অর্থহীন।
যখন বিরোধী দল আপত্তি জানাতে শুরু করে, স্পিকার বলেন, ‘আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ একজন প্রবীণ সংসদ সদস্য। তিনি এখানে কোনো ব্যঙ্গাত্মক কথা বলবেন না। আর তিনি যেহেতু মাদ্রাসার ছাত্র, তাই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক করতে চাই না।’ এ সময় মুজিবুর রহমান বলেন, ‘এই আয়াতটি কেন নাজিল হয়েছে? এটি আল্লাহ তাআলা তার অগণিত নেয়ামতের বর্ণনা করেছে। তিনি বলেছেন, যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামতকে গুণতে চাও, তাহলে শেষ করতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আল্লাহর নিয়ামত ভোগ করি এবং আমি কিভাবে আল্লাহর বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে পারি? আমাকে যে শক্তি আল্লাহ দিয়েছেন, তার মাধ্যমে আল্লাহর বিধি-বিধানের পক্ষে কথা বলতে হবে।’
মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে বিষয়টি নিয়ে গিয়েছেন, তা একেবারেই সঠিক নয়। গত বাজেট বক্তৃতা সম্পর্কে বিরোধী দলের প্রশংসা করা উচিত।’
স্পিকার তখন জানান, এখানে প্রচুর মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত আলেম রয়েছেন। তবে আমার এই ট্রেজারি বেঞ্চেও দু’একজন আছেন। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, সংসদ সদস্য মাহফুজুল্লাহ একজন আলেম। স্পিকার বিষয়টি নিয়ে অবগত হতে পারেন। তিনি আলোচনাটি এখানেই শেষ করার অনুরোধ করেন এবং এরপর বাজেট আলোচনায় ফিরে যান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন