১১:৪৪ এম
২০০৩ সালে খালেদ মাহমুদ সুজনের নেতৃত্বের সময়ে বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল।
বাংলাদেশ দল টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ৩ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিল। ২০০৩ সালের ওই টেস্ট সিরিজের আগে খালেদ মাহমুদ সুজনের অধীনে দলের সামর্থ্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার ডেভিড হুকস।
সেই সময়ে সুজনকে সমর্থন দিয়ে সাহস জুগিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা দলনেতা স্টিভ ওয়াহ। এই পুরোনো বিষয়টি আবার তুলে ধরেছে ফক্স স্পোর্টস।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
২৩ বছর পরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আবার তৃতীয় টেস্ট সিরিজে অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। শান্ত, মুশফিক ও মিরাজদের দলটি এবার তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে।
আসল লড়াইয়ের আগে ফিরে এসেছে দুই যুগ আগে ঘটে যাওয়া এক অভিজ্ঞতা।
সেই সময়, ২০০৩ সালে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের বয়স তখন মাত্র কয়েক বছর। এর বিপরীতে স্টিভ ওয়াহর অস্ট্রেলিয়া ছিল বিশ্ব ক্রিকেটের সবথেকে শক্তিশালী দল।
সেই সিরিজের দুইটি ম্যাচেই বাংলাদেশকে ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত করেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু সিরিজ শুরুর আগে স্টিভ ওয়াহ মাঠের বাইরের একটি ঘটনাকে আলাদা নজির স্থাপন করেছিলেন।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ডেভিড হুকসের নিন্দাত্মক মন্তব্যের কারণে হতাশ হওয়ার বদলে, খালেদ মাহমুদ সুজনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন স্টিভ ওয়াহ। তিনি শুধু এতটুকু করেননি, ম্যাচের আগে সুজনকে বলেছিলেন, ‘এ নিয়ে (হুকসের মন্তব্য) চিন্তা করো না। একজন পাগল মানুষ এসব বলছে।’
বাংলাদেশের সামর্থ্য নিয়ে অসন্তোষ
ডেভিড হুকস সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে একটি কলামে বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
২৩ বছর আগে বাংলাদেশের উপর নিজের কলামে এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন ডেভিড হুকস। ছবিতে: এআই দ্বারা নির্মিত।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
হুকস এমন কথাও বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার উচিত ছিল বাংলাদেশকে দ্রুত অলআউট করে একই দিনে আবার ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ম্যাচ শেষ করে দেওয়া। তাঁর কলামের শিরোনাম ছিল, ‘এবার একদিনের টেস্টের পালা।’
স্টিভ ওয়াহ অবশ্য এই মন্তব্যে সায় দেননি।
ওয়াহ সুজনকে কী বলেছিলেন?
ডারউইনে প্রথম টেস্টের আগে একটি অনুষ্ঠানে সুজনের সঙ্গে সাক্ষাত হয়েছিল ওয়াহর। কথোপকথনের এক পর্যায়ে হুকসের মন্তব্যের প্রসঙ্গ ওঠে।
আরও পড়ুন: ঢাকা টেস্ট বাংলাদেশের জন্য নিজেদের প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা
ক্রিকবাজকে সুজন বলেন, ‘টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে ডারউইনে একটি আয়োজন ছিল। আমরা সন্ধ্যায় চা খাচ্ছিলাম। বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলাম। হঠাৎ স্টিভ ওয়াহ এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কেমন আছি। পরে তিনি জানতে চাইলেন, ‘তোমরা কি পত্রিকা পড়ো?’ আমি বললাম, ‘সাধারণত পড়ি না, তবে মাঝে মাঝে পড়ি।’ তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘ডেভিড হুকসের মন্তব্য কি পড়েছ?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, পড়েছি।’ তখন তিনি বললেন, ‘এ নিয়ে চিন্তা করো না। একজন পাগল মানুষ এসব বলছে। আমি বিশ্বাস করি, তোমরা এর চেয়ে অনেক ভালো দল এবং আমাদের বিপক্ষে ভালো খেলবে। তোমাদের জন্য শুভকামনা।’”
ওয়াহর সেসব কথা তখন হয়তো সুজনের জন্য একটি ছোট সান্ত্বনা ছিল। কিন্তু ২৩ বছর পরে ফিরে তাকালে এটি ক্রিকেটীয় সৌজন্য ও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সম্মান জানানোর এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাঠে বাড়তি আগ্রাসন ছিল না
সেবার বাংলাদেশ ছিল অনেক পিছিয়ে থাকা দল। সুজনও ছিলেন মাত্র ৫ টেস্টের অধিনায়ক। তবুও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা মাঠে বাংলাদেশকে হেয় করার কোনো প্রয়াস চালাননি। বরং স্টিভ ওয়াহর দলের পরিকল্পনা এবং পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে তারা নিজেদের দক্ষতা দেখিয়েছিল।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম
২০০৩ সালে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ডারউইন টেস্টের টসের মুহূর্ত। ছবিতে: এপি।
সুজন বলেন, ‘আমরা অস্ট্রেলিয়ানদের স্লেজিং করার কথা শুনেছিলাম। কিন্তু মাঠে আমরা এর কিছুই দেখিনি। স্টিভ ওয়াহর দল আমাদের স্লেজিংয়ের ধারেকাছেও যায়নি। আমাদের মতো দুর্বল ও অনভিজ্ঞ দলের বিপক্ষে তাদের পদ্ধতি ও প্রয়োগ ছিল শুদ্ধ পেশাদার।’
অস্ট্রেলিয়ার বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে সুজন এভাবে অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন, ‘তারা পরিকল্পণা করে এবং বুদ্ধি খাটিয়ে বল করেছিল। (স্টুয়ার্ট) ম্যাকগিল তার স্বাভাবিক তিনটি বল করার পর একটি গুগলি করেছিল। আমরা সেটার সঙ্গে একেবারেই পরিচিত ছিলাম না।’
২৩ বছর পরও সেই টেস্ট মনে আছে
আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদীকে দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন জামায়াতের
২০০৩ সালের সেই দলের সদস্য অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও জেসন গিলেস্পির কাছেও ডারউইন টেস্টের স্মৃতি এখনো জীবন্ত।
গিলক্রিস্ট মনে করেন, ডারউইনে টেস্ট খেলার পরিবেশ ছিল ভিন্ন। আর গিলেস্পির মতে, উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন করা উচিত।
এবার কি পরিস্থিতি ভিন্ন হবে?
সম্প্রতি প্রস্তুতি ম্যাচে বাজেভাবে হারলেও, ২০০৩ সালের বাংলাদেশ এবং ২০২৬ সালের বাংলাদেশ এক নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই দশকের বেশি সময়ে দলটি অনেক পরিণত হয়েছে।
তাহলে, ২৩ বছর আগে সিরিজের অস্ট্রেলিয়ার একতরফা আধিপত্য থাকলেও, এবার বাংলাদেশ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে ধারণা করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন