১০:০৪ এম
এক বছর আগে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণপুর ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামের যুবক মারুফ মোল্যা নিজ হাতে প্যারাগ্লাইডার তৈরি করে আলোচনায় এসেছিলেন। এবার তিনি নিজস্ব প্রচেষ্টা ও উদ্ভাবনী চিন্তায় একটি আসনের ছোট বিমান তৈরি করে আকাশে উড়াতে সক্ষম হয়েছেন।
ছোটবেলার আকাশে উড়ার স্বপ্ন নিয়ে বড় হয়েছেন মারুফ। কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে সমুদ্রসৈকতে প্যারাগ্লাইডারে মানুষের উড়ান দেখে তার মধ্যে আকাশ জয় করার স্বপ্নের জন্ম হয়। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য তিনি ইউটিউব দেখে প্যারাগ্লাইডার তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রায় ছয় মাস চেষ্টা করার পর গত বছর তিনি সফলভাবে প্যারাগ্লাইডার তৈরি করে আকাশে উড়তে সক্ষম হন।
পরে মানিকগঞ্জের উদ্ভাবক জুলহাসের তৈরি বিমান আকাশে উড়তে দেখে নিজের বিমান তৈরির ইচ্ছা আরও দৃঢ় হয়। এরপর গত সাত মাস ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম ও গবেষণা করার মাধ্যমে মারুফ একটি ছোট এক আসনের বিমান তৈরি করেন।\n
আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে সাংবাদিক হত্যার ২৪ ঘণ্টা পর স্ত্রীর মামলা, আসামি ৮ জনই অজ্ঞাত
সম্প্রতি, বিমানটি প্রথমবারের মতো আকাশে উড়তে সক্ষম হয়। যদিও উচ্চতায় উঠতে পারেনি, তবুও এটি তার জন্য বড় একটি সাফল্য। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে এসএসসি পাসের পর মারুফ আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। তবে সীমিত সামর্থ্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিজের স্বপ্নকে ছাড়েননি। প্রযুক্তির সহায়তায় ইউটিউব থেকে শিখে ধাপে ধাপে তৈরি করেছেন তার উড়োজাহাজ।
বিমানটি তৈরি ও উড্ডয়নের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার মানুষ তার বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেন। বিমানটি আকাশে উড়ার সময় অসংখ্য উৎসুক মানুষ উপস্থিত হন। প্রথমদিকে মারুফের উদ্যোগ নিয়ে নানা সমালোচনা ও কটূক্তি হলেও এখন সেই মানুষের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে উচ্ছ্বাস ও গর্বের অনুভূতি।
মারুফ জানান, বিমানটি আকাশে তুলতে ব্যর্থ হলে তিনি মানিকগঞ্জের বিমান নির্মাতা জুলহাসকে আমন্ত্রণ জানান। জুলহাস গিয়ে বিমানটির কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি শনাক্ত করেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করার পর বিমানটি আকাশে উঠতে সক্ষম হয়।
মারুফ মোল্যা আরো বলেন, ছোটবেলা থেকেই আকাশে উড়ার স্বপ্ন ছিল। গত বছর প্যারাগ্লাইডার তৈরি করে উড়তে পেরেছি এবং এবার ছোট বিমান আকাশে তুলতে পেরে তিনি অনেক ভালো লাগছেন। এখন তিনি বিমানটিকে আরও উঁচুতে ও নিরাপদভাবে উড়ানোর চেষ্টা করছেন।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় ৪ দিন পর ১১ বছরের শিশু ফাহিমকে উদ্ধার করলো পুলিশ
তিনি জানান, বিদেশ থেকে একটি প্যারাগ্লাইডার আনতে প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ হয়। কিন্তু তিনি মাত্র এক লাখ টাকায় প্যারাগ্লাইডার তৈরি করেছেন। ছোট বিমানটি তৈরি করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। তিনি দাবি করেন, সরকারের সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পেলে ভবিষ্যতে আরও উন্নত বিমান তৈরি করতে চান।
চরবিষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মারুফের মধ্যে অসাধারণ উদ্ভাবনী মেধা রয়েছে। তিনি যথাযথ সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ পেলে শুধু সদরপুর নয়, পুরো দেশের জন্য গর্ব বয়ে আনতে সক্ষম হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন