প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বকাপ ফুটবলের মাঠের লড়াই যতই জমজমাট হচ্ছে, নকআউটের চড়া উত্তাপের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা বাড়ছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের কিছু সিদ্ধান্ত ফুটবলবিশ্বে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচের জন্য সাধারণত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রেফারি নিয়োগ দেওয়া হয় ফিফার পক্ষ থেকে। তবে ম্যাচ অফিসিয়াল বা রেফারি নির্বাচনের ক্ষেত্রে কেবল ‘নিরপেক্ষতা’ই শেষ কথা নয়। অনেক সময় রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সমীকরণও ফিফার কাছে গুরুত্ব পায়। এই কারণে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে এসেও কিছু নির্দিষ্ট দেশের রেফারিদের নির্দিষ্ট কিছু ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব হয় না।
এই চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডকে ঘিরে একটি অদ্ভুত কিন্তু ঐতিহাসিক সমীকরণ দাঁড়িয়ে গেছে। সমীকরণের ভিত্তিতে, যদি ইংল্যান্ড টুর্নামেন্টের ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তবে আর্জেন্টিনার কোনো রেফারিকে ইংলিশদের ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। একইভাবে, আর্জেন্টিনা যদি সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কাটে, তাহলে নরওয়ের উপস্থিতি সাপেক্ষে ইংল্যান্ডের দুই অভিজ্ঞ রেফারি অ্যান্থনি টেইলর ও মাইকেল অলিভার ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না।
এই চলমান বিশ্বকাপে ইংলিশ রেফারি মাইকেল অলিভার ইতোমধ্যে সফলভাবে সাতটি ম্যাচ পরিচালনা করে প্রশংসা অর্জন করেছেন। তবে, যদি আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠে, তাহলে আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় মেগা ফাইনালে অলিভারকে বাঁশি হাতে দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ফুটবল মাঠের এই নিয়মের পিছনে রয়েছে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে চলা একটি রক্তাক্ত রাজনৈতিক ইতিহাস। ইতিহাসে জানা যায়, ১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দখল করে আর্জেন্টিনা। এর ফলস্বরূপ দুই দেশের মধ্যে শুরু হয় ‘ফকল্যান্ড যুদ্ধ’ যা টানা ৭৪ দিন চলেছিল। জুনে আর্জেন্টিনার আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সেই সংঘাতের অবসান ঘটে। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে সংঘটিত যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনার মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া তিনজন ফকল্যান্ড দ্বীপবাসীও নিহত হন।
চার দশক অতিক্রম হলেও ওই ফকল্যান্ড যুদ্ধের ক্ষত এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন এখনও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর বড় প্রভাব ফেলে চলেছে। ফুটবল মাঠে এই ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বৈরিতার আঁচ যাতে বিতর্কের জন্ম না দেয়, সেজন্য ফিফার এই আগাম সতর্কতা তুলে ধরা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন