০২:০২ এম
এক বছরের মেয়াদের কাজ দুই বছরেও শেষ করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার অন্তত ৩০ হাজার মানুষ ব্যাপক ভোগান্তিতে ভুগছেন। ঠিকাদার ও পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলায় তারা দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। প্রায় ৩৬ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ এখন তাদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ব্যবসা-বাণিজ্য থমকে গিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে পৌরসভার বাসিন্দারা ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন; তারা আগামী এক মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
গত বুধবার (১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে পৌরসভার বাসিন্দারা এই হুঁশিয়ারি দেন, যেখানে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের উত্তর দিক বন্ধ ছিল। কুমারখালী সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী পৌরবাসীর ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় যুব অধিকার পরিষদের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাকিল আহমেদ তিয়াস। বক্তব্য দেন জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী কে এম আর শাহিন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জিলাল, কুমারখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি খন্দকার লিপু আমীর প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে তারা পৌর প্রশাসক ও ইউএনও ফারজানা আখতারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের উত্তর দিকে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ সময় কিছু যানবাহন আটকে গেছে। উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জিলাল এই সময় বলেন, প্রশাসনের নজর নেই নির্মাণকাজে। ঠিকাদাররা কাজের নামে পৌরবাসীকে জিম্মি করে রেখেছেন। এর ফলে স্বাভাবিক চলাচল ভেঙে পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য থমকে যাওয়া অবস্থায় পৌরবাসী প্রচণ্ড দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।
আরও পড়ুন: নড়াইলে ‘ড. রাফি-বেগম মেমোরিয়াল জুনিয়র গলফ টুর্নামেন্টের পুরস্কার ও চারা বিতরণ
কুমারখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি খন্দকার লিপু আমীর ব্যক্ত করেন, প্রায় দুই বছর আগে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণকাজ শুরু হলেও এটি এখনও শেষ হয়নি। সারা জায়গায় গর্ত খুঁড়ে রাখার ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে, শিশুর প্রাণ যাচ্ছে। বৃষ্টিতে ভোগান্তি আরও বাড়ছে। তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ কীভাবে শেষ করবেন সেটি আপনাদের (প্রশাসন) বিষয়। অন্যথায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
শাকিল আহমেদ তিয়াস বলেন, ‘উন্নয়নকাজের ধীরগতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।’ বক্তারা দাবি করেন, দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মানববন্ধন শেষে তারা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেন এবং দ্রুত কাজ শেষ না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়ে দেন।
পৌর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আইইউজিএইপি প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ধাপে ধাপে ড্রেন ও সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এতে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে। অধিকাংশ কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা হয়নি। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়েও ৩০ ভাগের বেশি কাজ এখনও বাকি রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, জনবল সংকটসহ নানা কারণে এতদিন নিবিড় তদারকি সম্ভব হয়নি। শিশুমৃত্যুর ঘটনায় ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নির্মাণকাজ কঠোরভাবে মনিটর করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: খুলনায় ৯৬৬টি মণ্ডপে বৈচিত্র্যময় থিম ও দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন