বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১০ পি.এম
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের ঘনিষ্ঠ দীপক অধিকারী দেব সম্প্রতি ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দিয়ে তুমুল আলোচনা সৃষ্টি করেছেন। এবার রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিজের বাসভবনে আপ্যায়ন করে তিনি সেই জল্পনার পারদ আরও চড়িয়ে দিলেন টালিউডের এই পাগলুখ্যাত অভিনেতা।
দেব বরাবরই রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে বেরিয়ে সৌজন্যের রাজনীতি করে আসছেন। বর্তমানে সাবেক ভালো 'তৃণমূল' দেব বিজেপি ঘনিষ্ঠ এনসিপিআই সংসদ সদস্য। গণেশ উৎসবের আলোয় এবার একসঙ্গে ধরা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তারকা দেব।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গণেশ চতুর্থী উপলক্ষ্যে দেবের আরবানার বাসভবনে সিদ্ধিদাতার বিশেষ পূজায় অতিথি হয়ে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বাড়ির নিচে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় দেবকে। শুভেন্দু অধিকারী পৌঁছাতেই খোশগল্প ও সৌজন্য বিনিময়ের দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে চোখে পড়ে। নেটপাড়া থেকে রাজপথ— সব জায়গায় চর্চা তুঙ্গে দেব-শুভেন্দুর এই মিষ্টি কথোপকথন।
দেবের বাসভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পূজায় পৌঁছেই মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু এক ভিন্ন মেজাজে ধরা দেন। পূজামণ্ডপের সামনে দেবের কাঁধে হাত রেখে হাসিমুখে ছবি তোলেন তিনি। এরপর দেবের বাবা-মা-বোনের সঙ্গে সোফায় বসে চায়ের আড্ডায় মেতে উঠতে দেখা যায় তাকে। পাতে ছিল ভেজিটেবল চপ, পনির পসিন্দা-র মতো নানা পদ।
অভিনেতার বাবা গুরুপদ অধিকারী ও মায়ের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই আন্তরিক ও পারিবারিক মুহূর্ত সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার হতেই নেটিজেনদের মাঝে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে।
নিজের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে ও তার এই উপস্থিতিতে আপ্লুত হয়ে দেব সামাজিক মাধ্যমে বিশেষ একটি বার্তা শেয়ার করেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ দাদা আমার বাড়িতে আসার জন্য। ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি সবার ভালো হোক, রাজ্যের ভালো হোক।’
দেবের বাড়িতে আয়োজিত এই পূজা রাজনীতির বাইরে ব্যক্তিগত সখ্য ও সৌজন্যের ঐতিহ্য বাংলায় বরাবরই দেখা যায়। সেই সৌজন্যের মেইলবন্ধনকেই আরও একবার প্রমাণ করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এ সফর এবং দেবের উষ্ণ অভ্যর্থনা, যা টালিপাড়া ও রাজনৈতিক মহলে সৌহার্দের এক অনন্য উদাহরণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উত্তর আরব সাগরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ভারত ও পাকিস্তান নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের মধ্যে। এই ঘটনার পর নয়াদিল্লি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। খবরটি এনডিটিভির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানের চার্জ ডিঅ্যাফেয়ার্স সাদ আহমেদ ওয়ারাইচকে ডেকে পাঠিয়ে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর ‘অপেশাদার ও অগ্রহণযোগ্য আচরণের’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভারতের দাবি, ১৯৯১ সালের চুক্তি অনুযায়ী সামরিক মহড়া বা চলাচলের ক্ষেত্রে পূর্বে নোটিশ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। পাকিস্তানি নৌবাহিনী সেই নিয়মের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে পাকিস্তানি কূটনীতিককে সতর্ক করার অনুরোধ করা হয়েছে।
এছাড়া ইসলামাবাদে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবাদ জানাতে ভারতীয় কূটনীতিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভারতের একটি যুদ্ধজাহাজ উত্তর আরব সাগরে রুটিন টহল দিচ্ছিল। সেই সময় ওমানের কাছে দ্রুতগতিতে ও বিপজ্জনকভাবে একটি পাকিস্তানি নৌযান ভারতীয় জাহাজের সামনে চলে আসে এবং দুই জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। তবে সৌভাগ্যবশত এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরপরই জাহাজ দুটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১১ সালের জুনে পাকিস্তান ও ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের মধ্যে একটি মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো কলেজভিত্তিক ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে এবং দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের উদ্যোগে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
দেশব্যাপী শুরু হওয়া এই কার্যক্রমের আওতায় বাহিনীর ৯টি রেঞ্জের ৩৯২টি উপজেলার ৪১৮টি কলেজের মোট ২৫ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার ব্যাঘাত না ঘটানোর লক্ষ্যে ৩ সপ্তাহের মধ্যে ১০ কর্মদিবসে ১৬টি মডিউল ও ৬০টি সেশনে এ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
প্রশিক্ষণের মধ্যে ড্রিল ও শারীরিক অনুশীলনের পাশাপাশি আনসার-ভিডিপির ইতিহাস, সামাজিক অপরাধ ও গুজব প্রতিরোধ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং অগ্নিপ্রতিরোধ বিষয়গুলো শেখানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার (AVMIS, STDMS, TRGMS ও AVJOBS Portal), উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কৃষি-মৎস্য সম্পদ, ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন মার্কেটিং এবং কারিগরি দক্ষতার অংশ হিসেবে জাপানি ভাষা শিক্ষার মতো যুগোপযোগী বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ ও সদর উপজেলায় অনুষ্ঠিত ১ম ধাপের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন রংপুর রেঞ্জের উপমহাপরিচালক (রেঞ্জ কমান্ডার) মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল।
পরিদর্শনকালে প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে বলেন, শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তরুণদের সামাজিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম করে তুলতে এ প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে জনকল্যাণ ও জননিরাপত্তামূলক কাজে যুবসমাজের ইতিবাচক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই আমাদের এই উদ্যোগ।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করছেন, কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোণা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আন্তর্জাতিক ওজোনস্তর দিবস উপলক্ষে আজ জেলার বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতামূলক পোস্টার প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও প্রকৃতি বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার বেলা ১১টায় জেলা শহরের মোক্তারপাড়ায় কালেক্টরেট মাঠে গ্রিন কোয়ালিশন কমিটি এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বারসিক’-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচিগুলি পালিত হয়।
কর্মসূচিতে পৌরশহরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও যুবরা বায়ুমণ্ডলের ক্ষতিকর প্রভাব এবং ওজোনস্তর সুরক্ষার বিভিন্ন দাবি নিয়ে স্বহস্তে অঙ্কিত পোস্টার প্রদর্শন করে।
বারসিকের সহযোগিতায় ‘ওজোনস্তর বাঁচলে পৃথিবী বাঁচবে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অনাবিলা সরকারের সঞ্চালনায় বিভিন্ন যুব সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং পরিবেশকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন গবেষক সোহরাব উদ্দিন আকন্দ, প্রকৃতি বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি ও কবি তানভীর জাহান চৌধুরী, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী অহিদুর রহমান, ‘সেভ দ্য এনিম্যাল অব সুসং’-এর সভাপতি রিফাত আহমেদ রাসেল এবং পরিবেশ কর্মী মির্জা হৃদয় সাগর।
বক্তারা উল্লেখ করেন, সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে ওজোনস্তর পৃথিবীর সমস্ত জীবজগৎকে ছাতার মতো রক্ষা করছে। তারা সতর্ক করেন যে, ওজোনস্তর ধংস হলে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব মারাত্মক সংকটে পড়বে।
তারা আরও বলেন, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার এবং অ্যারোসল স্প্রে-তে ব্যবহৃত ক্লোরোফ্লুরোকার্বন ওজোনস্তরের সবচেয়ে বড় শত্রু। বক্তারা পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানান।
ওজোনস্তরের ক্ষয় রোধে প্রতিটি নাগরিককে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন হ্রাসের এবং বৃক্ষরোপণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
এ সময় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ওজোনস্তর ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার এবং প্রত্যেকে অন্তত দু’টি করে বৃক্ষরোপণ করার অঙ্গীকার করেন।
আলোচনা সভা শেষে, শিক্ষার্থী ও যুবরা বায়ুমণ্ডল ও ওজোনস্তর সুরক্ষার বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্লেকার্ড হাতে নিয়ে প্রকৃতি বন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ