বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৩০ এম
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
এ সময় বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিকায়নে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রীর নিজ অফিস কক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে বর্তমানে উড়োজাহাজ স্বল্পতা রয়েছে। যেকোনো ক্রয় প্রক্রিয়াই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রেখেই সম্পন্ন করা হবে। তবে জরুরি ভিত্তিতে বিমানের বহরে উড়োজাহাজ যুক্তকরণে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। হাই লেভেল নেগোশিয়েশন কমিটির সুপারিশের আলোকেই সরকার উড়োজাহাজ ক্রয় করবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ২০১৭ সালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশের উপর হাই রিক্স কার্গো অ্যান্ড মেইল (এআইসআরসিএম) আরোপ করে। ফলে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে সময় এবং খরচ উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই এ স্ট্যাটাস প্রত্যাহারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিমানবন্দরে প্রয়োজন অনুযায়ী এক্সপ্লোসিভ ডিকটেশন সিস্টেম (ইডিএস) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া অডিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সন্তোষজনক রেটিং অর্জন করেছে। তাই সরকার চায়, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এইসসিএম স্ট্যাটাস প্রত্যাহারে উদ্যোগ গ্রহণ করুক।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের হসপিটালিটি খাতের বিকাশে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীগণ আগ্রহী। এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের এভিয়েশন হাব প্রতিষ্ঠার অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
এ সময় থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে ম্যানজিস এভিয়েশনের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের বিষয়েও আলোচনা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লিবিয়ার বেনগাজির গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৬৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী এসব অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বুরাক এয়ারের (ইউজেড-২২২) একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশে আনা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে লিবিয়া সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাদের প্রত্যাবাসন করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের অধিকাংশই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশে মানব পাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। তাদের অনেকে লিবিয়ায় বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশে ফেরার পর ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইওএমের কর্মকর্তারা তাদের অভ্যর্থনা জানান। মানব পাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশে ফেরত এই বাংলাদেশিদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে বিনিময় করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ফেরত আসা প্রত্যেক বাংলাদেশির জন্য আইওএমের পক্ষ থেকে পথখরচ, খাদ্যসামগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো জানিয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএম সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শরতের আকাশে মেঘের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, এবং রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির ঘটনা ঘটছে। তবে, বৃষ্টির পরেও গরমের অস্বস্তি কমছে না। বৃষ্টি থামার পর ভ্যাপসা গরমে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বৃষ্টির পর বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আর্দ্রতা বাড়ছে। এর ফলে শরীরের ঘাম সহজে শুকাতে পারে না এবং শরীরের তাপ বের হতে সময় লাগে। তাই, তাপমাত্রা বেশি না থাকলেও গরমের অনুভূতি অনেক বেশি হয়ে যায়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) জানাচ্ছে, আগামী ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ডা. মো. ওমর ফারুক মন্তব্য করেছেন, এই সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকার কারণে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি হলেও তা এতটা যথেষ্ট নয় যে, গরম কমে আসবে। তাই, বৃষ্টির পর আবারও ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে শুরু করে। এই গরম আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে।
অতিরিক্ত তাপমাত্রায় পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া, হিট স্ট্রোকসহ বিভিন্ন অসুস্থতার ঝুঁকি এড়াতে সচেতন থাকা জরুরি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, গরমে সুস্থ থাকতে যা করবেন এবং যা এড়িয়ে চলবেন—
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ওয়ানাইজা রহমান জানিয়েছেন, গরমে অতিরিক্ত পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এ সময় শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হয়ে যায়। এর ফলে পানির পাশাপাশি লবণ বা ইলেকট্রোলাইটসের অভাব দেখা দিতে পারে। ইলেকট্রোলাইটস হচ্ছে সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের সম্মিলন। শরীর থেকে এসব খনিজ কমে গেলে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
এ সময় শরীরের কোষ সজীব রাখতে প্রচুর পানি পান করা প্রয়োজন। ইলেকট্রোলাইটসের অভাব পূরণ করতে খাবার স্যালাইন খাওয়া যেতে পারে। শরীরে পানি কমে গেলে প্রস্রাব হলুদ হয়ে যায়, পরিমাণে কম হয় এবং জ্বালাপোড়া করে। যতক্ষণ না প্রস্রাব স্বাভাবিক রঙ ফিরে পায়, ততক্ষণ পর্যাপ্ত পানি, ডাব ও শরবতের মতো তরল পদার্থ গ্রহণ করতে হবে।
আরামদায়ক পোশাক পড়ুন
গরমে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরা ভালো। এতে শরীরে বাতাস চলাচল করে এবং ঘাম দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমানোর সময়ও আরামদায়ক পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সকাল-সন্ধ্যায় ব্যায়াম করুন
গরমের ব্যায়াম পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে অতিরিক্ত ঘাম হয় এমন ব্যায়াম এড়িয়ে ভোর বা সন্ধ্যায় ব্যায়াম করা যেতে পারে। চাইলে সাঁতার বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে ইনডোর ওয়ার্কআউট করা যেতে পারে।
দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলুন
বারডেম জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কামরুজ্জামান নাবিল পরামর্শ দিয়েছেন, কাজ না থাকলে বাইরে না যাওয়ার। বিশেষ করে দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত।
একান্তই বাইরে যেতে হলে ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করা ভালো। খুব ভিড় হয় এমন জায়গায় না যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
শরীর ঠান্ডা রাখুন
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে ঠান্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় কপালে, ঘাড়ের পেছনে বা কব্জিতে রাখা যেতে পারে। বরফ ব্যবহার করলে সরাসরি ত্বকে না দিয়ে তোয়ালে ব্যবহার করতে পারেন। গরমে একাধিকবার গোসল করা যেতে পারে। গরমে শরীরে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
খাবারে সতর্ক থাকুন
গরমে ডায়রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পরিবারের সদস্যরা পর্যাপ্ত পানি পান করছেন কিনা এবং নিরাপদ খাবার খাচ্ছেন কিনা, সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. ওয়ানাইজা রহমান। এ সময়ে অতিরিক্ত তেল-মশলার খাবার ও বাসি খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। শিশুদের ক্ষেত্রে ইনস্ট্যান্ট নুডুলস, চপ, কাটলেট, নাগেটসের মতো খাবার না দিয়ে চিড়া, দই, তরমুজ, বাঙ্গি, লেবুজাতীয় ফল বেশি করে খেতে দিতে হবে।
শরীরের ভাঁজে পরিষ্কার রাখুন
গরমে শরীরে বিভিন্ন ভাঁজে ঘাম জমে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। বিশেষ করে কুঁচকিতে, আঙুলের ফাঁকে ও যৌনাঙ্গে ঘাম জমে ছত্রাক সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তাই এ অংশগুলোর আশপাশ পরিষ্কার ও শুকনো রাখতে হবে। নিয়মিত গোসল করে ঘাম ধুয়ে ফেলতে হবে। তা না হলে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।
ঠান্ডা পানি পান করবেন না
প্রচণ্ড গরমের পর বাইরে থেকে ফিরে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি খেলে গলা ব্যথাসহ অস্বস্তি হতে পারে। বাইরে থেকে ঘেমে ঘরে ফিরেও সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা পানি খাওয়া উচিত নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মডেলিং ও অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিত রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। উচ্চশিক্ষার বিষয় নির্বাচনের পেছনে তার অজানা ও কৌতূহলোদ্দীপক গল্প তিনি এক পডকাস্টে শেয়ার করেছেন।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে তিনি অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। তবে এই বিষয়টি বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল তার জন্য অনেকটা আকস্মিক। ছোটবেলায় মায়ের হাত ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে যাওয়া-আসার স্মৃতি পরবর্তী সময়ে তার বিষয় নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলে।
মিথিলা জানান, এসএসসি ও এইচএসসি দুটিই তিনি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাশ করেছেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ক্ষেত্রে পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজে পড়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাকে। তিনি বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছি। অনার্স এবং মাস্টার্স দুটোই।’
মিথিলার কথায়, ‘আমার ধারণা, অবচেতন মনে আমার ভেতরে একটা ভালোবাসা ছিল ওই জায়গাটার প্রতি। তো সেখান থেকে আমি ভাবলাম যে, না ঠিক আছে আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়বো। কিন্তু যদি পড়ি তাহলে আমি কলাভবনেই পড়ব। আমি অন্য কোনো ডিপার্টমেন্টে পড়ব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সায়েন্সের মানে ম্যাথস, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি এসব বিষয় পড়ে আমার অভ্যাস। তো সেখানে (কলা ভবন) যাওয়ার পর যখন আমাকে বিভিন্ন ধরনের বিষয় বলা হচ্ছিল, পলিটিক্যাল সায়েন্স, পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ, ইকোনমিক্স— আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।’
পরিবারে তিনিই প্রথম প্রজন্মের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। ফলে কোন বিষয় বেছে নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতাও তার কাছে ছিল না। ভর্তি সাক্ষাৎকারের সময় তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বেছে নিতে বলা হলে তিনি সেটিই গ্রহণ করেন।
মিথিলার কথায়, ইন্টারভিউয়ের সময় তাকে বলা হয়, ‘তুমি রাষ্ট্রবিজ্ঞান না?’ তিনি বলেন, ঠিক আছে। তার মধ্যে বিজ্ঞান তো আছে। সেরকমভাবে কিছু জেনে বুঝে তিনি তার বিষয়টি নির্বাচন করতে পারেননি আসলে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য জাল কাগজপত্র তৈরি, ভুয়া ই-পি এল কে এস (অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভ্রমণ অনুমতিপত্র) এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহারের দুটি আলাদা ঘটনার তথ্য সামনে এসেছে। দেশটির অভিবাসন বিভাগের ধারাবাহিক অভিযানে মোট ৩৩৭ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক।
কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত কাজে ব্যবহারের জন্য জাল ই-পি এল কে এস এবং জাল পুলিশ প্রতিবেদন তৈরির অভিযোগে ১১ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। অপরদিকে, সেপাংয়ে উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গার নির্মাণ প্রকল্পে অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে কাজ করার অভিযোগে ১৭৩ বিদেশি আটক হয়েছেন। উভয় ঘটনায় বিদেশি কর্মীদের বৈধতা, নিয়োগকর্তা এবং নথিপত্রের ব্যবহার নিয়ে তদন্ত চলছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বলেন, কুয়ালালামপুরের জালান চানসাউলিনের একটি বাণিজ্যিক এলাকা এবং বাংলাদেশ হাইকমিশন অনুমোদিত পাসপোর্ট ও ই-পাসপোর্ট সেবা প্রদানকারী আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান এক্সপ্যাট সার্ভিসেস কুয়ালালামপুর সেন্টারের আশপাশে ‘অপস সারকাপ’ পরিচালনা করা হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে শুরু হওয়া অভিযানে একযোগে ১১টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে ২৩ থেকে ৪৮ বছর বয়সি ১১ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে একজন নারী। প্রাথমিক তদন্তে এসব প্রতিষ্ঠানে জাল নথি তৈরির কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, প্রতিটি জাল ই-পি এল কে এস তৈরির জন্য প্রায় ১৫০ রিঙ্গিত এবং জাল পুলিশ প্রতিবেদন তৈরির জন্য প্রায় ৭০ রিঙ্গিত নেওয়া হতো। অর্থাৎ সামান্য অর্থের বিনিময়ে বিদেশি কর্মীদের বৈধতা ও পরিচয়-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি তৈরির ব্যবস্থা করছিল একটি চক্র।
অভিযানে ১৮টি ল্যাপটপ, ২১টি প্রিন্টার ও স্ক্যানার, তিনটি মোবাইল ফোন এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের ১০টি আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি তৈরি জাল ই-পি এল কে এস ও জাল পুলিশ প্রতিবেদন উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিবাসন বিভাগের সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব জাল নথি বাংলাদেশি নাগরিকদের আন্তর্জাতিক পাসপোর্টের আবেদনে ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। বর্তমানে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ১০টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট কীভাবে ও কার মাধ্যমে চক্রটির হাতে পৌঁছেছে। জাল নথি তৈরির সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।
অভিযানের আশপাশ থেকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও ১৯ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জন বাংলাদেশি, ১৫ পুরুষ ও একজন নারী। এ ছাড়া মিয়ানমারের একজন এবং ইন্দোনেশিয়ার দুই নারী নাগরিকও আটক হয়েছেন। দুই ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনসহ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালার আওতায় তদন্ত চলছে।
এদিকে, সেপাংয়ে উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গার নির্মাণ প্রকল্পে চালানো আরেক অভিযানে ভিন্ন ধরনের অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। একটি প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত পিএলকেএস ব্যবহার করে অন্য প্রতিষ্ঠানের অধীনে বিদেশি শ্রমিকদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার সেপাংয়ের একটি আন্তর্জাতিক মানের মোটরস্পোর্টস কেন্দ্রের কাছে উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গার নির্মাণস্থল, গুদাম এবং উড়োজাহাজের ইঞ্জিন পরীক্ষার বিভিন্ন স্থাপনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে এক সপ্তাহ গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর পর পুত্রজায়া অভিবাসন বিভাগের আইন প্রয়োগকারী শাখা অভিযানটি পরিচালনা করে। এতে অভিবাসন বিভাগের ৮৮ কর্মকর্তা অংশ নেন। তারা মোট ২৬১ জনকে তল্লাশি করেন, এর মধ্যে ২১৭ জন বিদেশি এবং ৪৪ জন মালয়েশীয় নাগরিক।
তল্লাশির পর ২৩ থেকে ৪০ বছর বয়সি ১৭৩ বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪৭ জন বাংলাদেশি, ১৭ জন ইন্দোনেশীয় এবং ৯ জন পাকিস্তানি নাগরিক।
অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান বলেন, তদন্তে দেখা গেছে, প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন উপঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে এমন বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের পিএলকেএস অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের নজর এড়াতে বিদেশিদের সামাজিক ভ্রমণ অনুমতিপত্রেরও অপব্যবহার করা হচ্ছিল।
আটকদের পরবর্তী তদন্তের জন্য কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেএলআইএ) অভিবাসন আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তদন্তে সহায়তার জন্য পাঁচ মালয়েশীয় নাগরিককে সাক্ষী হিসেবে হাজির হওয়ার নোটিশও দেওয়া হয়েছে।
জাকারিয়া শাবান বলেন, নির্মাণ, পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিমান চলাচল-সংশ্লিষ্ট সহায়ক স্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে অভিবাসন বিভাগ নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগ করছে। বৈধ নিয়মনীতি না মেনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ, তাদের আশ্রয় বা সুরক্ষা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মালয়েশিয়ায় একই সময়ে সামনে আসা এ দুটি ঘটনা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা তৈরি করেছে। বিশেষ করে পাসপোর্ট, ভিসা, পিএলকেএস বা বৈধতার সমস্যা সমাধানের নামে দালাল কিংবা অজ্ঞাত ব্যক্তির হাতে মূল পাসপোর্ট তুলে দেওয়া এবং জাল নথি ব্যবহার করার ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
এছাড়া, অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে কাজ করলেও কর্মী আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন, তেমনি সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা ও উপঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইনের আওতায় শাস্তির মুখে পড়তে পারে।
দুটি অভিযানের তথ্য বলছে, বিদেশি কর্মীদের বৈধতা নিয়ে অনিয়ম শুধু কর্মস্থলে নয়; নিয়োগ, ওয়ার্ক পারমিট, পাসপোর্ট এবং সরকারি নথিপত্রের পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে নজরদারি জোরদার করছে মালয়েশিয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ