প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শরতের আকাশে মেঘের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, এবং রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির ঘটনা ঘটছে। তবে, বৃষ্টির পরেও গরমের অস্বস্তি কমছে না। বৃষ্টি থামার পর ভ্যাপসা গরমে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বৃষ্টির পর বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আর্দ্রতা বাড়ছে। এর ফলে শরীরের ঘাম সহজে শুকাতে পারে না এবং শরীরের তাপ বের হতে সময় লাগে। তাই, তাপমাত্রা বেশি না থাকলেও গরমের অনুভূতি অনেক বেশি হয়ে যায়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) জানাচ্ছে, আগামী ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ডা. মো. ওমর ফারুক মন্তব্য করেছেন, এই সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকার কারণে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি হলেও তা এতটা যথেষ্ট নয় যে, গরম কমে আসবে। তাই, বৃষ্টির পর আবারও ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে শুরু করে। এই গরম আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে।
অতিরিক্ত তাপমাত্রায় পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া, হিট স্ট্রোকসহ বিভিন্ন অসুস্থতার ঝুঁকি এড়াতে সচেতন থাকা জরুরি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, গরমে সুস্থ থাকতে যা করবেন এবং যা এড়িয়ে চলবেন—
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ওয়ানাইজা রহমান জানিয়েছেন, গরমে অতিরিক্ত পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এ সময় শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হয়ে যায়। এর ফলে পানির পাশাপাশি লবণ বা ইলেকট্রোলাইটসের অভাব দেখা দিতে পারে। ইলেকট্রোলাইটস হচ্ছে সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের সম্মিলন। শরীর থেকে এসব খনিজ কমে গেলে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
এ সময় শরীরের কোষ সজীব রাখতে প্রচুর পানি পান করা প্রয়োজন। ইলেকট্রোলাইটসের অভাব পূরণ করতে খাবার স্যালাইন খাওয়া যেতে পারে। শরীরে পানি কমে গেলে প্রস্রাব হলুদ হয়ে যায়, পরিমাণে কম হয় এবং জ্বালাপোড়া করে। যতক্ষণ না প্রস্রাব স্বাভাবিক রঙ ফিরে পায়, ততক্ষণ পর্যাপ্ত পানি, ডাব ও শরবতের মতো তরল পদার্থ গ্রহণ করতে হবে।
আরামদায়ক পোশাক পড়ুন
গরমে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরা ভালো। এতে শরীরে বাতাস চলাচল করে এবং ঘাম দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমানোর সময়ও আরামদায়ক পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সকাল-সন্ধ্যায় ব্যায়াম করুন
গরমের ব্যায়াম পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে অতিরিক্ত ঘাম হয় এমন ব্যায়াম এড়িয়ে ভোর বা সন্ধ্যায় ব্যায়াম করা যেতে পারে। চাইলে সাঁতার বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে ইনডোর ওয়ার্কআউট করা যেতে পারে।
দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলুন
বারডেম জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কামরুজ্জামান নাবিল পরামর্শ দিয়েছেন, কাজ না থাকলে বাইরে না যাওয়ার। বিশেষ করে দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত।
একান্তই বাইরে যেতে হলে ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করা ভালো। খুব ভিড় হয় এমন জায়গায় না যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
শরীর ঠান্ডা রাখুন
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে ঠান্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় কপালে, ঘাড়ের পেছনে বা কব্জিতে রাখা যেতে পারে। বরফ ব্যবহার করলে সরাসরি ত্বকে না দিয়ে তোয়ালে ব্যবহার করতে পারেন। গরমে একাধিকবার গোসল করা যেতে পারে। গরমে শরীরে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
খাবারে সতর্ক থাকুন
গরমে ডায়রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পরিবারের সদস্যরা পর্যাপ্ত পানি পান করছেন কিনা এবং নিরাপদ খাবার খাচ্ছেন কিনা, সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. ওয়ানাইজা রহমান। এ সময়ে অতিরিক্ত তেল-মশলার খাবার ও বাসি খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। শিশুদের ক্ষেত্রে ইনস্ট্যান্ট নুডুলস, চপ, কাটলেট, নাগেটসের মতো খাবার না দিয়ে চিড়া, দই, তরমুজ, বাঙ্গি, লেবুজাতীয় ফল বেশি করে খেতে দিতে হবে।
শরীরের ভাঁজে পরিষ্কার রাখুন
গরমে শরীরে বিভিন্ন ভাঁজে ঘাম জমে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। বিশেষ করে কুঁচকিতে, আঙুলের ফাঁকে ও যৌনাঙ্গে ঘাম জমে ছত্রাক সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তাই এ অংশগুলোর আশপাশ পরিষ্কার ও শুকনো রাখতে হবে। নিয়মিত গোসল করে ঘাম ধুয়ে ফেলতে হবে। তা না হলে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।
ঠান্ডা পানি পান করবেন না
প্রচণ্ড গরমের পর বাইরে থেকে ফিরে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি খেলে গলা ব্যথাসহ অস্বস্তি হতে পারে। বাইরে থেকে ঘেমে ঘরে ফিরেও সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা পানি খাওয়া উচিত নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন