০৭:০৪ পি.এম
রংপুর নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ অভিযানে রেজিস্ট্রেশন এবং লাইসেন্স নবায়ন না করা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়মের দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জানানো হয়েছে যে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার উপপরিচালক ডা. মো. ইব্রাহীম টিটনের নেতৃত্বে এ অভিযান চলছিল। রংপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত আরা জরিমানার আদেশ কার্যকর করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভূমিকা রাখেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর স্বাস্থ্যসেবার মান, বৈধতা এবং রোগী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছিল উদ্দেশ্য। অভিযানের সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং পাশাপাশি ওষুধ সংরক্ষণের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
ধাপ এলাকার ‘আমার দেশ হাসপাতাল’-এ রেজিস্ট্রেশন নবায়ন না করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ চেতনানাশক ওষুধ ব্যবহারের প্রমাণ মেলে। এই কারণে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর ‘ফার্স্ট কিওর স্পেশালাইজড অ্যান্ড ট্রমা সেন্টার’-এ লাইসেন্স ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা, অপারেশন থিয়েটারে মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যানেসথেসিয়া ওষুধ সংরক্ষণ করা এবং স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের কারণে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ‘ল্যাবএইড ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিংহোম’-এ রেজিস্ট্রেশন না থাকার এবং অন্যান্য অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ার ফলে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর সঙ্গে এক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ এবং কার্যক্রম নিয়মের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযানের খবর পেয়ে নগরীর ‘হাবিব ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে চলে যান বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
অভিযানের পর ডা. মো. ইব্রাহীম টিটন বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য রোগীদের নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়মনীতি অনুসরণ করবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত আরা বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা খাতে সামান্য অনিয়মও রোগীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, ‘বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তদারকির প্রয়োজনীয়তাও বৃদ্ধি পেয়েছে। রোগীদের নিরাপত্তা এবং সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম চালাতে হবে।’ স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন