ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক।

এই বৈঠক শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানী ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের অফিসে শুরু হয়। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।

বৈঠকে উপস্থিত আছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

আরও পড়ুন: মাদক ব্যবসায়ীদের আস্তানায় পিস্তল নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ইশরাক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে রুয়েটে আইএপি সদস্য সাঈদ ইমতিয়াজ আহমেদকে বহিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৭ পি.এম


ধর্ম অবমাননার অভিযোগে রুয়েটে আইএপি সদস্য সাঈদ ইমতিয়াজ আহমেদকে বহিষ্কার

পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও দাবির মুখে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ইসিই বিভাগের শিল্প-উপদেষ্টা প্যানেল (আইএপি) থেকে সাঈদ ইমতিয়াজ আহমেদকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে অনুষ্ঠিত বিভাগের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আজ বিকেল ৩টায় ইসিই বিভাগের প্রধানের সভাপতিত্বে আইএপি প্যানেল থেকে একজন সদস্য বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাঈদ ইমতিয়াজ আহমেদকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে উপস্থিত সদস্যরা সম্মতি জানান। তবে উক্ত সদস্যকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রুয়েট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (আরডিএফ) নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কোরআন ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে বহিষ্কৃত ব্যক্তির কিছু মন্তব্যের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। রুয়েটের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ইইই, ইসিই, ইটিই ও এমটিই বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে গ্রুপটি গঠিত হয়েছে।

সেখানে কুরআন কোর্স সংক্রান্ত একটি বার্তা নিয়ে সাঈদ ইমতিয়াজ আহমেদের বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য উঠে আসে। যা ধর্মপ্রাণ মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্ম চর্চা ও মৌলিক অনুভূতিতে আঘাত করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সাঈদ ইমতিয়াজ কোরআনকে ‘ইশারা গ্রন্থ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রুয়েটের উচিত বিজ্ঞান বইয়ের পরিবর্তে ইশারা গ্রন্থ থেকে শিক্ষা দেওয়া। তিনি কোরআনকে বিজ্ঞানের বই নয়, বরং নিদর্শনের বই হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রকৌশলীদের পণ্য নকশা ও নির্মাণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কোরআনের জ্ঞান ব্যবহারের প্রসঙ্গও তোলেন।

তিনি মন্তব্য করেন, কোরআনে বিমান তৈরি, প্রযুক্তিগত বিপ্লব, বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা যন্ত্র তৈরির পদ্ধতি নিয়ে কোনো আয়াত নেই। পাশাপাশি কোরআনে পণ্য নকশার কথা থাকলে গ্রন্থটির ঐশী গ্রন্থ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হতো, এমন বক্তব্যও দেন।

এছাড়াও, কোরআনের বিভিন্ন আয়াত নিয়ে বিব্রতকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি বার্তায় লিখেছেন, বাবার হাতে মাকে মার খেতে দেখে সন্তানদের কাঁদা উচিত নয়। কুরআনের ৪ নং সূরার ৩৪ নং আয়াতে পুরুষদেরকে তাদের স্ত্রীদের মারধর করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

কুরআনের ৬৪ নং সূরার ১৪ নং আয়াতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লিখেছেন, রুয়েটের স্নাতক ও শিক্ষার্থীদের সন্তানরা যখন এ আয়াত পড়বে, তখন তারা জানতে পারবে যে তারা এবং তাদের মায়েরা তাদের পিতার শত্রু। তাই, কুরআন পুরুষদেরকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে উপদেশ দেয়।

এসব মন্তব্যকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থের প্রতি অবমাননা হিসেবে দেখছেন ইসিই বিভাগের মুসলিম শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থ নিয়ে এমন বক্তব্যের কারণে তারা ক্ষুব্ধ এবং সাঈদ ইমতিয়াজ আহমেদকে আইএপি সদস্য হিসেবে মানতে সম্মত নন।

তারা তার বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে উপদেষ্টা প্যানেল থেকে তাকে অবিলম্বে বাদ দেওয়া এবং ভবিষ্যতে বিভাগের কোনো কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত না রাখার দাবি জানান।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে একাডেমিক ও পাঠ্যক্রম সংক্রান্ত বেশ কিছু অভিযোগ জানান। শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, রুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বা বিভাগের শিক্ষক না হয়েও সাঈদ ইমতিয়াজ আহমেদ বিভাগের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করছিলেন। তার পরামর্শে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মৌলিক কোর্সের পরিবর্তে মাইক্রোকন্ট্রোলার ভিত্তিক কাজের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এমনকি ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কোর্স ‘ইলেকট্রনিক শপ প্র্যাকটিস’ এ এসটিএম৩২-সংক্রান্ত সেশন উপস্থিতির ওপর ২০ শতাংশ নম্বর রাখার বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, থিসিসের পরিবর্তে প্রকল্প ভিত্তিক কাজকে প্রাধান্য দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তার পরামর্শে। এসব প্রভাবের কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে ইসিই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের কিছু যৌক্তিক দাবি-দাওয়া ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাডভাইজরি প্যানেলের একজন সদস্যের ধর্মীয় বিষয়ে বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানায় এবং তাকে প্যানেল থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলে। শিক্ষার্থীদের এই আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে উক্ত প্যানেল থেকে অব্যাহতি দিয়েছি।

‘এছাড়াও, শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দাবির মধ্যে ল্যাব সংস্কার, প্রজেক্ট এবং ওয়ার্কশপের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ল্যাব বা ওয়ার্কশপ বাধ্যতামূলক না করে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে তা ঐচ্ছিক করার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। ডিপার্টমেন্টের সার্বিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত অগ্রগতির জন্যই আমরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক ও ইতিবাচক দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসন সবসময় আন্তরিক।’

জানা যায়, সাঈদ ইমতিয়াজ আহমেদ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ১৯৭৫ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী এবং কানাডাভিত্তিক সিগন্যাল স্ট্রিম ইনকরপোরেটেডের সভাপতি।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে গঠিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একজন বহিরাগত ব্যক্তির উপস্থিতি এবং বিভাগের পাঠ্যক্রমে তার হস্তক্ষেপ তাদের একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

সামগ্রিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজকের বিভাগীয় সভায় সাঈদ ইমতিয়াজ আহমেদকে আইএপি এর সদস্যপদ বাতিলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের দাবির বাস্তবায়ন বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢোলভাঙ্গা নদীর প্রাণ ফেরাতে কচুরিপানা পরিষ্কার অভিযান শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৭ পি.এম


ঢোলভাঙ্গা নদীর প্রাণ ফেরাতে কচুরিপানা পরিষ্কার অভিযান শুরু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার ঢোলভাঙ্গা নদীতে জমে থাকা কচুরিপানা পরিষ্কার করার কাজে নেমেছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। নদীর কচুরিপানার সমস্যা সমাধান এবং জনদুর্ভোগ কমাতে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগে সহায়তা করছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় পৌর এলাকার মেয়র ব্রিজ থেকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও মানবতা রক্তদান সংঘের তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের একটি দল।

অভিযান চলাকালে পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রবিউল হাসান ভূঁইয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানায় নদীটি ভরাট হয়ে থাকার কারণে এলাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। এর ফলে নৌ চলাচলেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে স্বেচ্ছাসেবীরা সহায়তা করছেন।

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শাখার সদস্য সবুজ বলেন, ঢোলভাঙ্গা নদী একসময় খরস্রোতা ছিল। দখল এবং দূষণের পাশাপাশি কচুরিপানা নদীটির জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কৃষিকাজ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। তাঁরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যেতে চান।

মানবতা রক্তদান সংঘের সমন্বয়ক মাহমুদউল্লাহ বলেন, নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পলি জমা এবং কচুরিপানার কারণে অনেক নদ-নদীতে নৌ যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। নদী ও খাল পরিষ্কারের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন তাঁরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোটা অঙ্কের টাকা ‘খেয়ে’ গোপনে কর্মচারী নিয়োগ, পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মাদরাসার সুপার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৮ পি.এম


মোটা অঙ্কের টাকা ‘খেয়ে’ গোপনে কর্মচারী নিয়োগ, পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মাদরাসার সুপার

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে একটি মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্টের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে গোপনে এক কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর, মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের রোষানলে পড়ে তিনি মাদরাসা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে নাগেশ্বরী উপজেলার নায়কেরহাট দারুস সুন্নাত দ্বিমুখী দাখিল মাদরাসায়। অভিযোগ রয়েছে, মাদরাসাটির সুপারিনটেনডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী এবং সভাপতি আনোয়ার হোসেন ১৬ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে গোপনে চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারীকে (অফিস সহায়ক) নিয়োগ দিয়েছেন।

মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও শিক্ষকরা গত ৬ অক্টোবর নিয়োগের বিষয়টি জানতে পারেন। এতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় কমিটির সদস্য, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে। ওই দিন সুপার খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকীকে মাদরাসার অফিসকক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে তিনি কৌশলে মাদরাসা থেকে বের হয়ে পালিয়ে যান। গত বুধবার থেকে তিনি আবারও মাদরাসায় উপস্থিত হননি এবং বাড়িতেও পাওয়া যাচ্ছে না। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি সাড়া দিচ্ছেন না।

এদিকে, মাদরাসার বিধি লঙ্ঘন করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দাবি করে গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ (ডিজি) বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাদরাসাটির শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবক সদস্যরা।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সুপারিনটেনডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন তাদের মনোনীত প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে ভুয়া রেজল্যুশন তৈরি করেন। ওই রেজল্যুশনে তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি ও তিনজন অভিভাবক কমিটির সদস্যের স্বাক্ষর জাল করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক পদপ্রার্থী নুরুন্নবীর বাবা আব্দুল জলিলের কাছ থেকে গোপনে ১৬ লাখ টাকা উৎকোচ নিয়েছেন তারা।

এছাড়া, সুপারিনটেনডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী মাদরাসাটিতে যোগদানের পর থেকে চাকরি দেওয়ার নাম করে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে এর আগেও প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।

এ অনিয়মের ঘটনায় মাদরাসার সাধারণ শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আব্দুল মজিদ বলেন, "কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তাদের স্বাক্ষর জাল করে এ ভুয়া নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।" তারা এ অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

এ বিষয়ে মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

মাদরাসার সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, "২৬ সেপ্টেম্বর নিয়োগ বোর্ড গঠন করে প্রক্রিয়া অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ডিজির প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।"

কুড়িগ্রাম জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে নিয়োগপ্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরসরাইয়ে পুকুরে ডুবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর প্রাণ গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৮ পি.এম


মিরসরাইয়ে পুকুরে ডুবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর প্রাণ গেল

সাঁতার জানা ছিল না। বাড়ির পুকুরে গোসল করতে নেমে পা পিছলে পানিতে পড়ে যান ২৪ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম নাফিজ। এরপর তিনি আর পানি থেকে উঠে আসতে পারেননি। পুকুরের পানিতে ডুবে তাঁর মৃত্যু ঘটে।

এই ঘটনা ঘটেছে শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৬ নম্বর ইছাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জমাদার গ্রামের নিজ বাড়িতে। নাফিজ ওই গ্রামের গোল বক্স মুহুরী বাড়ির অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নুরুল মোস্তফার ছোট ছেলে। তাঁর বাবা মাদবারহাট ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার বর্তমান সভাপতি। তিন ভাইয়ের মধ্যে নাফিজ ছিল সবার ছোট। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব দ্য পিপল-এর চতুর্থ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নাফিজের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শনিবার রাত ১০টায় নিজ বাড়িতে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, নাফিজরা সপরিবারে চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করেন। দুই দিন আগে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। শনিবার দুপুরে নামাজের পর বাড়ির পুকুরে গোসল করতে নামেন নাফিজ। একপর্যায়ে পা পিছলে পানিতে পড়ে যান। সাঁতার না জানায় তিনি পানিতে তলিয়ে যান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাদবারহাট ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার বিদ্যোৎসাহী সদস্য তারেক আজিজ বিএসসি জানান, ছোটবেলা থেকেই শহরে বড় হওয়ায় নাফিজ সাঁতার জানতেন না। তিনি পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করতেন।

নিহতের স্বজন আব্দুর রহিম বলেন, মুজাহিদুল ইসলাম নাফিজরা সপরিবারে চট্টগ্রাম শহরে থাকেন। গত দুই দিন আগে তারা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। জামায়াতে জোহরের নামাজ আদায় করার জন্য গোসল না করে নামাজ আদায় করেন। পরে নামাজ শেষে দুপুর ২টার দিকে পুকুরে গোসল করতে নেমে পা পিছলে পুকুরে পড়ে যান নাফিজ। সাঁতার না জানার কারণে পুকুরে ডুবে তাঁর মৃত্যু ঘটে।

এ বিষয়ে জানতে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে একাধিক ফোন এবং খুদেবার্তা পাঠিয়েও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%