মোঃ ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
১১:১৪ পি.এম
শেরপুরের নালিতাবাড়ী থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ সময় নবাগত ওসিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও বরণ করে নেন তাঁরা।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর জেলা জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এবং দল মনোনীত মেয়র প্রার্থী শাহাদাৎ হোসেন বিএসসি, নালিতাবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আফসার উদ্দিন, উপজেলা সেক্রেটারি আরিফ রাব্বানী, পৌর জামায়াতের আমীর ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হেলাল উদ্দিন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি ও জামায়াত মনোনীত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সাংবাদিক আব্দুল মোমেন, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আবুসিনা মো. যোবায়ের, উপজেলা জামায়াতের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আইউব আলী, উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের বাইতুলমাল সম্পাদক আল আমিনসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মতবিনিময়কালে নবাগত ওসিকে শুভেচ্ছা জানান নেতৃবৃন্দ। এ সময় তাঁরা পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার মাধ্যমে এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জারলিয়া গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের লাইনের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যার ফলে ১৫টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে পল্লী বিদ্যুতের মেইন পিলারের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। রাত ৮ টার সময় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যা প্রথমে একটি বসতঘরে লেগে দ্রুত অন্যান্য ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
জারালিয়া গ্রামের ১৫ জন কৃষকের বসতবাড়ি, ধান-চাল, সার-কীটনাশক, বীজধান, আসবাবপত্র, নগদ টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, দিরাই পল্লী বিদ্যুত অফিসের কর্মীদের গাফিলতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, কারণ তারা সঠিকভাবে মেইন লাইন রক্ষণাবেক্ষণ করেননি।
অগ্নিকাণ্ডের আধঘণ্টা পরে দিরাই উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই গ্রামবাসীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
দিরাই থানার ওসি মো. আমিনুল হক জানান, পল্লী বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি, তবে ক্ষতিগ্রস্তরা সবাই কৃষিজীবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রকল্পের কাজ, যার মূল্য প্রায় দেড়শ কোটি টাকা, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আবদুল হাইয়ের প্রতিষ্ঠান আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডকে অনৈতিকভাবে প্রদান করার অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগটি তুলেছেন রিমি নির্মাণ লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদুল হক সরকার, যিনি লিড পার্টনার হিসেবে কাজ করছেন।
একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আবদুল হাই স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের আমলে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জেলেও ছিলেন। আবদুল হাই নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার বদরপুর গ্রামের হাজী গুনাগাজী ব্যাপারী বাড়ির মো. ইউনূছ মিয়ার পুত্র এবং বর্তমানে ঢাকার পল্টন থানার শান্তিনগর এলাকার পীর সাহেবের গলিতে বসবাস করছেন।
দরপত্রের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুর-চর আলেকজান্ডার-সোনারপুর সড়কের কমলনগরের হাজিরহাট থেকে আলেকজান্ডারের আজাদনগর পর্যন্ত প্রায় ২৭ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে আড়াই ফুট প্রশস্তকরণের কাজের দরপত্র আহ্বান করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এবং রিমি নির্মাণ লিমিটেডসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যৌথ উদ্যোগে দরপত্রে অংশগ্রহণ করে। পরে, সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে একশ ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ১১ হাজার টাকায় কাজটি পায় আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও রিমি নির্মাণ লিমিটেড। যদিও প্রধান পার্টনার হিসেবে কাজের সব কার্যক্রম রিমি নির্মাণ লিমিটেডের কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল, লক্ষ্মীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডকে কাজ বুঝিয়ে দেন এবং গত ১২ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কাজ করার অনুমতি প্রদান করেন।
রিমি নির্মাণ লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়দুল হক সরকারের নজরে বিষয়টি আসলে তিনি যৌথ উদ্যোগের কাজের সব চুক্তি বাতিলের আবেদন করেন। তিনি চুক্তি বাতিলের কাগজপত্র এবং এককভাবে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ করার আদেশ না দিতে লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আবেদনপত্র দেন। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়মের তোয়াক্কা না করে আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল হাইকে কাজের অনুমতি দেন, যা চুক্তিপত্রের নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় রিমি নির্মাণ লিমিটেডের পক্ষ থেকে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
এ বিষয়ে রিমি নির্মাণ লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওবায়দুল হক সরকার বলেন, "যৌথ উদ্যোগে চুক্তির মাধ্যমে সড়ক ও জনপথের দরপত্রে অংশগ্রহণ করে লক্ষ্মীপুর-আলেকজান্ডার-সোনারপুর সড়কের ২৭ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ পান তারা।" তিনি আরও বলেন, "চুক্তিতে থাকা আবদুল হাইয়ের প্রতিষ্ঠান আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড হঠাৎ উধাও হয়ে যায় এবং তাদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।" ফলে, সড়ক ও জনপথের সঙ্গে সব চুক্তিতে লিড পার্টনার হিসেবে রিমি নির্মাণ লিমিটেড অংশগ্রহণ ও যোগাযোগ স্থাপন করে।
তিনি উল্লেখ করেন, "যেহেতু আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তিতে যোগাযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তাই কাজটির শুরু থেকে চলমান প্রক্রিয়া পর্যন্ত আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডকে জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ একাধিকবার চিঠি ইস্যু করে।" তবে, আবদুল হাই যোগাযোগ করেননি। তিনি জানান, "লিড পার্টনার হিসেবে রিমি নির্মাণ লিমিটেডের পক্ষ থেকে আমিও তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে ব্যর্থ হই।"
এদিকে, আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আবদুল হাইয়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
লক্ষ্মীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "তারা যৌথ উদ্যোগে কাজ পাওয়ার পর ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে দুজনই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।" তিনি আরও জানান, "সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, অফিসের সব বিষয়ে আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের ডিল করবে। ব্যাংক এবং কাজের বিষয়ে আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড দেখবে।" তিনি বলেন, "চুক্তিপত্রের নিয়ম অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। আমাকে অভিযোগে এনে কী লাভ? নিয়মমতো তারা কাজ করছেন।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মাদক মামলায় পাঁচ মাস কারাবাস শেষে ছেলের বিরুদ্ধে মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর, প্রাণের ভয়ে এক মা ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রশাসনের কাছে সাহায্য চাইতে বেরিয়ে পড়েছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) ওই নারীকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ।
ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের কামাতআঙ্গারীয়া গ্রামের (দফাদার পাড়া) প্রয়াত হবিবর রহমানের স্ত্রী নাসিমা বেওয়া (৪৭) তিন বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর ছেলে রাজু মিয়া (২২), তার স্ত্রী, নাতি মিনহাজ (৭) এবং ছোট ছেলে লিমনকে (১৮) নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করতেন।
বড় ছেলে রাজু মিয়া মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে স্ত্রী বছরখানেক আগে সন্তান ও স্বামীকে রেখে ঢাকায় চলে যান। এরপর থেকে রাজু আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
প্রতিবেশীরা জানান, মাদকের টাকার জন্য রাজু মায়ের ওপর নানা অত্যাচার ও নির্যাতন চালায় এবং ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে দেয়। এ অবস্থায় চলতি বছরের ২ জুন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক রাজুকে ১০০ টাকা জরিমানা ও পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেন।
স্বজনরা জানান, রাজু জেলে যাওয়ার পর তার ছোট ভাই লিমন ভয়ে ঢাকায় চলে যান। রবিবার, পাঁচ মাস জেল খেটে মুক্তি পাওয়ার পর রাজু মোবাইলে মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। কোনো উপায় না পেয়ে মা নাসিমা নাতিকে নিয়ে ওইদিনই বাপের বাড়ি পাইকের চড়া চলে যান।
রাজু বাড়িতে ফিরে ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালান এবং মাকে খুঁজতে থাকেন। এ ঘটনায় রাতেই নাসিমা থানায় গেলে পুলিশ ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
পুলিশের পরামর্শে ওইদিন দুপুরে ইউএনওর দপ্তরে গিয়ে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রাণ বাঁচানোর দাবি জানান নাসিমা।
প্রাণ বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে নাসিমা বলেন, ‘আমি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। থানায় গেছি, তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে যেতে বলেছে। ওনার কাছে আসলাম উনি আবার থানায় যেতে বলল। রাজু দেখা পেলে আমাকে মেরে ফেলবে।’
সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল লতিফ বলেন, ‘নাসিমার বাড়িতে ভাঙচুরের খবর পেয়ে রাতেই আমি ঘটনাস্থলে যাই। কিন্তু রাজু কোনো কথাই শুনতে চায় না।
‘সে তার মাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে এবং ঘরের তালা ও বেড়া ভেঙে ফেলেছে। মাঝে মাঝে সে আত্মহত্যার হুমকিও দিচ্ছে। প্রাণ ভয়ে তার মা নাতিকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।’
ইউএনও অমৃত দেব নাথ বলেন, ‘অভিযোগকারী নারী আমার কাছে এসেছিল, তাকে থানায় জিডি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, ‘উনি (নাসিমা) এসেছিলেন কিনা আমি কোর্টে থাকার কারণে জানি না। উনি এলে জিডি গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কলাপাড়ায় চিকিৎসার নামে অসুস্থ এক কিশোরীকে প্রতারণার শিকার করা হয়েছে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে দৈহিক মেলামেশায় বাধ্য করা হয়েছে এবং অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কিশোরী ও তার মাকে হয়রানি এবং ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে। সর্বশেষ, কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে তাকে বিয়ে না করার কথা জানানো হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসা, তার স্ত্রী ফাহিমা বেগমসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে কলাপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা মেহেদী হাসান রিয়াজ। মামলাটি গত ৩১ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (২০২৬ সালের সংশোধনীসহ) এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর বিভিন্ন ধারায় করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে মনসাতলী গ্রামের কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসা (৪০), তার স্ত্রী ফাহিমা বেগম (২৮), গলাচিপা উপজেলার অসিম গাজী (৩৫), কলাপাড়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল গনি মুন্সী (৩৮), চাকামইয়া ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া গ্রামের রাসেল আকন (৩৮), নাচনাপাড়া গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ (৫০) ও রমজান গাজী (২৮)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মেহেদী হাসান রিয়াজ কর্মস্থলের কারণে বরিশালের রূপাতলীতে থাকেন। তার স্ত্রী ও কিশোরী মেয়ে কলাপাড়ার নাচনাপাড়ায় আব্দুল ওয়াদুদের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। রিয়াজের প্রথম স্ত্রীর সন্তান ওই কিশোরী। প্রায় ১৪ বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে কিশোরী তার সৎমায়ের সঙ্গে কলাপাড়ায় বসবাস করছেন। রিয়াজ মাঝেমধ্যে সেখানে এসে থাকতেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, কিশোরী অসুস্থ থাকায় তার পরিবার বিভিন্নভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করছিল। এ সময় পূর্বপরিচিত অসিম গাজীর মাধ্যমে কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসার সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। চিকিৎসার নামে তাইজুল নানা কৌশলে কিশোরীকে ফুসলিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন এবং তার সঙ্গে দৈহিক মেলামেশা করেন। এ সময় অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ওই ভিডিও ব্যবহার করে কিশোরীকে একাধিকবার দৈহিক মেলামেশায় বাধ্য করার অভিযোগও আনা হয়েছে। একপর্যায়ে কিশোরী ও তার মা তাইজুল এবং অসিমকে বিয়ের বিষয়ে চাপ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসামিরা ভিডিওগুলো মোবাইল ফোন থেকে পেনড্রাইভে নিয়ে কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে বলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হবে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে ওই পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন কিশোরীর বাবা।
এ বিষয়ে কবিরাজ তাইজুল ইসলাম মুসা বলেন, "প্রভাবশালী মহলের সাথে কথা হয়েছে বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। আমি কলাপাড়া ছিলাম। ব্যক্তিগত কাজে দুরে আছি। আপনার সাথে সাক্ষাতে কথা হবে বলে ফোনটি কেটে দেয়।"
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ