জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
০৫:৩৭ পি.এম
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় পারিবারিক কলহের কারণে এক গৃহবধূ বিষপান করে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহত নুপুর খাতুন (২০) বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ইলিশকোল গ্রামের রানা সাহেবের স্ত্রী। তিনি মিঠু সরদার ও উর্মি বেগমের কন্যা।
জানা গেছে, গত ১২ জুন দুপুরে নুপুর খাতুনের তার শাশুড়ি শারমিন বেগমের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটি ও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষোভের বশে তিনি গোয়ালঘরে রাখা ঘাস মারা কীটনাশক পান করেন।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিষয়টি জানার পর তাকে দ্রুত বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তার অবস্থার অবনতি হলে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত হন।
চিকিৎসাধীনের সময় শুক্রবার (১৯ জুন) ভোর ৫টার দিকে তিনি মারা যান।
বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুর রব তালুকদার এ বিষয়ে জানিয়ে বলেন, থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরগুনা পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এনামের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মামলা গ্রহণে বিলম্ব করা হয়েছে।
এর আগে, বরগুনা পাথরঘাটা থানায় যাওয়ার পথে মামলার বাদী এক নারীর ওপর হামলা চালানো হয় মামলার প্রধান আসামি বাদশা আকনের দ্বারা।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চরদুয়ানী এলাকা থেকে পাথরঘাটা থানায় আসার পথে বাদীকে পথে রোধ করে মারধর করা হয় এবং সে এক ঘরে অবরুদ্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন। পাথরঘাটা থানা পুলিশের সহায়তায় পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।
বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হামলার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে বাদীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, পুলিশ বুধবার রাতে মামলার প্রধান আসামিকে আটক করলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয়। পরদিনই তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, বরগুনার এসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সাইফুর রহমান ২০ মে ফাতিমা জামাদ্দার অর্পার দায়ের করা অভিযোগকে এফআইআর (FIR) হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাথরঘাটা থানার ওসি মোহাম্মদ এনামকে নির্দেশ দেন। পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকার বাদশা আকন, হারুন অর রশিদ জোমাদ্দার ও হাসান জোমাদ্দারকে আসামি করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
অথচ অর্পার অভিযোগ, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মামলা গ্রহণে বিলম্ব করা হয়। আদালতের আদেশ নিয়ে থানায় গেলে তিনি সহযোগিতা না পেয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হন। তার দাবি, ওসি তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি সেই মাল? ইবলিস যেন কোথাকার!” যার ফলে তিনি অপমানিত ও বিব্রতবোধ করেন। তখন সাবেক পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবু সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে অর্পা জানান।
অর্পা আরও অভিযোগ করেছেন, ১৪ জুন মামলার বিষয়ে কথা বলতে ওসির সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করার পরও কোন সাড়া পাননি। পরে, ব্যক্তিগত নম্বরে যোগাযোগ করার পর বিষয়টি নিয়ে তাকে জবাবদিহি করতে বলা হয়। এ বিষয়ে একটি অডিও রেকর্ডও তিনি সাংবাদিকদের সরবরাহ করেছেন বলে দাবি করেন।
সাবেক পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবু বলেন, “আমার উপস্থিতিতে ওসি মোহাম্মদ এনাম মামলার বাদী অর্পাকে উদ্দেশ্য করে ‘আপনি সেই মাল?’ বলে মন্তব্য করেন। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার মুখে এমন মন্তব্য শুনে আমি এবং সেখানে উপস্থিত সবাই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলাম। আদালতের নির্দেশনা যথাসময়ে বাস্তবায়ন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো হামলার মতো ঘটনা ঘটত না।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাথরঘাটা থানার ওসি মোহাম্মদ এনামের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী বলেন, “বাদীর পথরোধ করে হামলার অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, ওসির বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ওসির সরকারি ফোনে পাওয়া না যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ওসির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এর আগেও শোনা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ী থানা পুলিশের অভিযানে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার মামলায় মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান (৬০) নামে একজন বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার চান্দ্রা বাজার ইউনিয়নের সিংগারডাক গ্রামের মৃত আজিজ চৌধুরীর পুত্র। রাজবাড়ী সদর উপজেলার চরলক্ষীপুর তালতলা এলাকায় শশুর বাড়ীতে বসবাস করেন তিনি। এছাড়াও, তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাগমারা এলাকার একটি মসজিদের ইমাম।
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে, রাজবাড়ী সদর থানার বাগমারা এলাকায় থানার এসআই মোঃ সাহাবুদ্দিন খান সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাগমারা এলাকার মসজিদের ইমাম শুক্রবার সকালে ৭ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ওই সময় লোকজন তাকে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে থানা পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে।
রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানালেন, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাগমারা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের মাধ্যমে ৭ বছরের শিশুর ধর্ষণের চেষ্টা মামলার আসামী মোঃ ওয়াহিদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে রাজবাড়ী আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের একদিন পরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। গতকাল ধর্মীয় এক বিবৃতিতে তিনি প্রথমবারের মতো এই কথা বলেছেন।
মোজতবা বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপারে বলেন, ‘মার্কিন নেতা (ট্রাম্প) একটি চুক্তির জন্য ‘মরিয়া’ হয়ে গিয়েছিলেন এবং এই চুক্তি করার জন্য তিনি ‘সব ধরনের চাপ’ প্রয়োগ করেছেন।’
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান খসড়া চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর বৃহস্পতিবার দিনটি নিয়ে তাঁর প্রথম বিবৃতিতে মোজতবা ইরানের জনগণকে বলেন, তিনি প্রথমে ‘নীতিগত কারণে’ চুক্তিটির বিরোধিতা করেছিলেন। তবে রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের কাছ থেকে ‘ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষা’র আশ্বাস পাওয়ার পর অবশেষে চুক্তিতে সম্মতি দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আন্তরিক উদ্বেগ ও সদিচ্ছা থেকে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।
তবে একথা সত্যিই যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টই মরিয়া হয়ে চুক্তির বাস্তবায়নের জন্য সকল প্রকার প্রভাব ঢালার চেষ্টা করেছেন।’
গতকাল ১৮ জুন, ট্রাম্প এবং পেজেশকিয়ান কয়েক মাসের সংঘাতের অবসান ঘটানোর এবং বৃহত্তর আলোচনার পথ খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ প্রাথমিকভাবে স্বাক্ষর করেন এবং পরে উভয় নেতা ভার্চুয়ালি এই দস্তাবেজে স্বাক্ষর করেন।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি মেনে নেয়ার জন্য অঙ্গীকার করেছে।
মোজতবা খামেনির লিখিত বিবৃতিতে চুক্তি নিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ আলোচনার একটি বিরল চিত্র উঠে এসেছে। তিনি বলেন, ‘ইরানের প্রেসিডেন্ট তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অতিরিক্ত বা বাড়াবাড়ি দাবি তেহরান প্রত্যাখ্যান করবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মার্কিন পক্ষ যদি অতিরিক্ত দাবি তোলে তাহলে ইরান তা মেনে নেবে না।’ তিনি চুক্তিকে সমর্থন করে বলেন, ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনা হলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে মেনে নেওয়ার মৌলিক অর্থে হবে না।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতের আলোচনা কোনভাবেই শত্রুপক্ষের অবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ নয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি খামেনির বার্তাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার সময় ইরান তার স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে, তিনি বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরবর্তী আলোচনা পর্যায়ে সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে এবং দেশের অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি অনুসারে কার্যক্রম শুরু করেছে।
চুক্তির প্রথম বাস্তব প্রভাবগুলো দেখা দিতে শুরু করার সময়ই মোজতবা এই মন্তব্য প্রকাশ করেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, তারা হরমুজ প্রণালির চারপাশে সামুদ্রিক অবরোধের সব কর্মকাণ্ড স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, এখন থেকে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় জাহাজ চলাচলে আর বাধা থাকবে না।
এদিকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য ইরান কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, জাহাজগুলোকে দ্রুত চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে এবং আগামী ৬০ দিনের জন্য প্রণালি ব্যবহারের জন্য ফি মওকুফ করা হবে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই চুক্তি একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো, যা চূড়ান্ত সমাধান নয়। এতে দুই পক্ষ সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করার আলাপ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ