০৭:২৭ পি.এম
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) কয়েক বছর ধরে চলমান সেশনজটের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে চলেছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, গত দেড় বছরে বিশ্ববিদ্যালয়টির সেশনজট সাত মাস কমে এসেছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বকে সমাধান করার জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু করা হয়েছে।
অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। গত জুলাই মাসে বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে শিক্ষার্থীদের হলগুলোর নামকরণের মাধ্যমে নতুন পরিচয়ের সূচনা করা হয়েছে। এতে বিজয় ২৪ হল, শহীদ আবরার ফাহাদ হল, শহীদ নুর হোসেন হল, বেগম রোকেয়া হল, নবাব ফয়জুন নেসা হল নামকরণ করা হয়েছে। আরও উল্লেখযোগ্য হল, ২০০২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পেছনে যে মহীয়সী নারী ছিলেন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত খুরশীদ জাহান হক, তাঁর স্মরণে ‘খুরশীদ জাহান হক হল’ নামকরণ করা হয়েছে।
এছাড়াও, জুলাই মাসের চেতনা ধরে গত চব্বিশে দিনাজপুরে আন্দোলনে নিহত কলেজ ছাত্র শহীদ রাহুল এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ রুদ্র সেনের অভিভাবকদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে, আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়াও, ক্যাম্পাসের বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা জড়িতদের আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জামায়াতের দাবি, আইজিপির বক্তব্য সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থী
জুলাইয়ের আদর্শকে সমুন্নত রাখতে জুলাই চত্ত্বর, জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ এবং জুলাই ৩৬ সড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীবান্ধব নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ও টিএসিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। হলগুলোর ডাইনিং এ স্বাস্থ্যকর এবং উন্নতমানের খাবার সরবরাহ করা শুরু করা হয়েছে। ছাত্রীর নিরাপত্তার জন্য হলের প্রাচীর নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে, রাস্তা এবং খেলার মাঠের উন্নয়নও করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে নতুন করে পিএইচডি ফেলোশীপ চালু হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের কোর্স ক্রেডিট ফিওও কমানো হয়েছে।
এদিকে, দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান উপাচার্য ড. মো. এনামউল্যার পদক্ষেপের ফলে গত নভেম্বরে প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থীকে মূল সনদপত্র প্রদান করা হয়। আর ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য একনেকে ৫৭৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য সূচনা হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নতুন আঙ্গিকে গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু করেছে।
এই উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে একটি ছাত্রী হল এবং অমর একুশে নামে আরেকটি ১২ তলা বিশিষ্ট ছাত্র হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ক্রসফায়ারের চিন্তা পুলিশের ব্যর্থতা ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রকাশ: আমীনের উদ্বেগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন