ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

মোদির বিরুদ্ধে ১৩ কোটি মানুষের ভোটাধিকার হরণের অভিযোগে তরুণদের আন্দোলন


মোদির বিরুদ্ধে ১৩ কোটি মানুষের ভোটাধিকার হরণের অভিযোগে তরুণদের আন্দোলন

ভারতের বিভিন্ন স্থানে তরুণদের মধ্যে একটি উত্তাল আন্দোলন চলছে। অভিযোগ উঠেছে যে নির্বাচন কমিশন বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (Special Intensive Revision) বা সংক্ষেপে এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। বাদ পড়া জনগণের মধ্যে প্রধানত মুসলিম, স্থানান্তরিত মানুষ, দলিত, নারী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী রয়েছে। আন্দোলনটি দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে পশ্চিমবঙ্গ, কর্ণাটকসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে আন্দোলনের মূল দাবি হচ্ছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। অক্টোবর মাসে এই আন্দোলন গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে জেনজি, ককরোচ জনতা পার্টি, বিরোধী দলগুলোর জোট বা ইন্ডিয়া ব্লক। আন্দোলনের মুখপাত্র হিসেবে বর্তমানে নিখিল ভারত ছাত্র সমিতি বা আইসার সভাপতি ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা রয়েছেন। এসআইআর-এর বিরুদ্ধে নারী অধিকার সংগঠনগুলোও সোচ্চারভাবে দাঁড়িয়ে গেছে। কারণ, এসআইআর সরাসরি নারী, বিশেষ করে মুসলিম এবং প্রান্তিক নারীদের ভোটের অধিকার এবং নাগরিকত্বকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে। বাদ পড়া ১৩ কোটি ভোটারের মধ্যে নারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যার মধ্যে ৬২ শতাংশ নারী। একইভাবে উত্তরপ্রদেশ, বিহারে নারী ভোটার বাদ পড়ার হার ৬০ শতাংশ, আসামে ৭০ শতাংশ।

যদিও এসআইআর-এর উদ্দেশ্য হিসেবে অনুপযুক্ত এবং ডুপ্লিকেট ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু নির্বাচন কমিশন কাদের ‘অনুপযুক্ত’ বলে চিহ্নিত করেছে, তা দেখলে উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভিন্ন ধারণা তৈরি হয়। নারীবিরোধী আচরণ এখানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জনগণ এই বিষয়টি বুঝতে পেরে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছে। বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০২৫ সালে বিহারে এসআইআর হওয়ার পর ৬৫ লাখ নাম বাদ পড়েছিল, যার মধ্যে নারীর সংখ্যা ছিল ৩১ লাখ। নারী-পুরুষ অনুপাত প্রতি হাজার পুরুষের ৮৯২ নারী হয়ে যায়, যা আগে ছিল প্রতি হাজার পুরুষে ৯০৭ নারী। গুজরাটে নারী-পুরুষ অনুপাত ৯৩৮, মধ্যপ্রদেশে ৯৩৪ এবং রাজস্থানে ৯২০ নারীতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ১২টি রাজ্যে নারীরা পুরুষের তুলনায় বেশি বাদ পড়েছেন, ফলে নারী-পুরুষ ভোটারের অনুপাতও কমে গেছে।

আরও পড়ুন: লাপিদ: মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছে নেতানিয়াহু এখন বিষাক্ত

নারীদের বাদ দেওয়ার কারণ বৈষম্যমূলক এবং যে প্রক্রিয়ায় এটি করা হয়েছে, তাতে এই বৈষম্যের প্রকাশ স্পষ্ট। বিবাহিত নারীদের বাবা-মায়ের নাম ছাড়াও তাদের বাপের বাড়ির ঠিকানা যাচাই করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এটি প্রান্তিক নারীদের জন্য অনেক কঠিন। শ্রমজীবী নারীদের নিজস্ব স্থায়ী নথিপত্র দেখাতে বলা হচ্ছে এবং না দিতে পারলে বাদ দেওয়া হচ্ছে। নারীবাদী নেটওয়ার্ক, বিশেষ করে অল-ইন্ডিয়া ফেমিনিস্ট অ্যালায়েন্স (ALIFA-NAPM) এই নথিপত্র চাওয়ার বিষয়টিকে পিতৃতান্ত্রিক বংশধারা অনুসরণ করছে বলে অভিযোগ করেছে, যা মূলত পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় বিবাহিত, প্রান্তিক এবং মাইগ্রেন্ট নারীকে বৈষম্যের মধ্যে ফেলে।

বিবাহিত নারীদের সমস্যা প্রান্তিক জনগণের মধ্যে অনেক জটিল। বিয়ের পর তাদের নামের পদবি পরিবর্তন হয়ে যায় এবং ঠিকানা বদলে যায়। সবকিছু স্বামীর নাম ও ঠিকানার সঙ্গে যুক্ত থাকে। যারা গরিব এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, তাদের জন্মনিবন্ধন খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। ভারতের আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকায় নাম রাখতে গিয়ে বাবার বাড়ির নথিপত্র দিতে বাধ্য করা নারীদের বাদ দেওয়ার ইচ্ছাকেই প্রতিফলিত করে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বিশেষ বাংলাদেশের মানুষ বলেও ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অজুহাত দেওয়া হয়।

যারা নারীরা বাদ পড়ছেন, তারা অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল, শিক্ষার দিক থেকে পিছিয়ে আছেন এবং তাদের সরকারের প্রশাসনিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ সীমিত। এদের মধ্যে অধিকাংশ আদিবাসী, দলিত এবং শ্রমজীবী নারী। এই জনগণের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অর্থ হচ্ছে তাদের প্রতিনিধিত্ব নির্বাচিত করার পথ বন্ধ করে দেওয়া। নারীদের ভোটাধিকার হরণ ছাড়াও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই নারীরা সোচ্চার হয়েছেন। ঠিক যেমন নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন বা Citizen Amendment Act CAA এবং জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (National Register of Citizens NRC) নিয়ে হাজার হাজার আন্দোলনে তীব্র শীতের মধ্যে রাস্তায় বসে প্রতিবাদ করেছেন। ২০১৯ সালের ওই আন্দোলন সাধারণ নারীদের নেতৃত্বে হয়েছিল। শিক্ষক, ছাত্রী, গৃহিণী, তরুণ এবং বৃদ্ধ নারীরা এক হয়ে গিয়েছিলেন। ধর্মীয় পরিচয়ে অধিকাংশ ছিলেন মুসলমান। আন্দোলন ছিল অহিংস এবং শান্তিপূর্ণ। তারা শুধু রাস্তায় বসে থাকেননি, বাড়ি বাড়ি গিয়েও প্রচার চালিয়ে ছিলেন। আন্দোলনের মূল কেন্দ্র ছিল দিল্লির শাহীনবাগ, যেখানে টানা ১০০ দিন তীব্র শীতের মধ্যেও ধর্মঘট পালন করেছিলেন। আন্দোলনে নেতৃত্বে যেমন তরুণ নারী ছিলেন, তেমনি ৮২ বছর বয়সি বিলকিস বানু বা বিলকিস দাদির মতো প্রবীণ নারীরাও ছিলেন। ভারত এই আন্দোলন নিয়ে যথেষ্ট বিপাকে পড়েছিল, তবে ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারি ও লকডাউনের কারণে আন্দোলনটি সমাপ্ত হয়েছিল। জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তার জন্য পুরো এলাকাটি ফাঁকা করে দেওয়া হয়।

ভারতে নারীরা যখন রাজনীতিতে নিজেদের যোগ্যতায় এগিয়ে আসছেন, তখন নারীদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার এই ঘটনা ঘটে গেছে এবং এটি একবিংশ শতাব্দীর প্রথম অংশেই ঘটেছে। এখন নারী আন্দোলন ভোটার তালিকার বিষয়টির সংস্কার দাবি করছে। তারা দাবি করছে, যেসব কারণে নারী ভোটারদের নাম অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাদ পড়েছে, তা চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে বাদ পড়া ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা। প্রান্তিক নারীদের যেসব নথি চাওয়া হয়েছে, অথচ তারা সেগুলো দিতে পারছে না, তার বাস্তব কারণ রয়েছে। এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের আইনি অস্তিত্ব প্রমাণের নথি সহজে পাওয়া যায় না। তাদের জন্য বিকল্প পদ্ধতিতে নথিভুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। শুধু তাই নয়, ট্রান্সজেন্ডার এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের আইডি কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে এই এসআইআর শুধু ভোটের অধিকার হরণ মনে হলেও এর পরিণাম আরো সুদূরপ্রসারী। সরকারের কাছে সুবিধা পেতে হলে ভোটার আইডি কিংবা নাগরিকত্বের প্রমাণ প্রয়োজন। নারীদের ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ভাতা, বিধবা ভাতা বা রেশন সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত হতে পারে। তাদের ভারতের নাগরিক নয় বলে অন্য দেশে পাঠিয়ে দিতে পারে। মুসলমান এবং বাংলাভাষী হলে তাদের জন্য ঝুঁকি আরো অনেক বেশি।

আরও পড়ুন: মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান যুদ্ধ চালাতে ইরানকে নতুন অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ার আহ্বান

এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা নারীদের এবং প্রান্তিক মানুষকে নিশ্চিহ্ন করার নগ্ন চেষ্টা। প্রতিরোধকারীদের জয় হোক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নানক ও তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে আজ সাক্ষ্যগ্রহণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪২ এম


নানক ও তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে আজ সাক্ষ্যগ্রহণ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জন হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে আজ দশম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ হবে।

প্রসিকিউশন জানায়, আজ রাষ্ট্রপক্ষের দশম সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হবে। গত ৮ অক্টোবর তার জবানবন্দি নেওয়ার দিন নির্ধারিত ছিল। নির্ধারিত দিনে তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হলেও অন্য একটি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ চলার কারণে সময় চেয়েছিল প্রসিকিউশন। পরে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন চার আসামি। তারা হলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, আনসার সদস্য ওমর ফারুক এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগকর্মী ফজলে রাব্বি।

নানক-তাপসসহ পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) রওশুনুল হক, এম এ সাত্তার, তোফায়েল, তারেকুজ্জামান, আরিফুর রহমান তুহিন, আহাদ হোসাইন, মো. ইউনূস, মোল্লা রুবেল, আজিজুল হক, রিয়াজ মাহমুদ, হৃদয়, মাইনুল ইসলাম, শেখ বজলুর রহমান, জহির উদ্দিন, আয়মান, সেন্টু মিয়া এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রন।

এর আগে, ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলায় নবম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী। তার ভাই সৈকত ২০২৪ সালের ৭ জুলাই মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। গত ১০ মে প্রসিকিউশনের দাখিল করা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে ২৮ আসামির বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরে নৃশংসতা চালায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আসামিদের উসকানি-প্ররোচনা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসি পড়ুয়া শীতল আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে ঢাবি ভিসির প্রতীকী দায়িত্ব পালন করলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪২ এম


এইচএসসি পড়ুয়া শীতল আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে ঢাবি ভিসির প্রতীকী দায়িত্ব পালন করলেন

ঢাকা, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ : উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী শীতল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি হিসেবে একদিনের জন্য প্রতীকী দায়িত্ব পালন করেছেন।

আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আজ রোববার অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের প্রতীকী দায়িত্ব পালন করার কথা জানায় প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল।

শীতল রাজধানীর একটি কলেজে উচ্চমাধ্যমিকের (এইচএসসি) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। প্রতীকী দায়িত্ব পালনকালে তিনি মন্তব্য করেন, "শিক্ষার সত্যি কোনো বিকল্প নেই, আর এই মুহূর্তে আমাদের হাতে যে সময়টুকু আছে, সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।"

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম শীতলের হাতে প্রতীকী দায়িত্ব হস্তান্তর করে বলেন, "শীতলের মতো প্রতিটি কন্যার স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার দরজা খোলা রাখতে হবে। তাদের কথা শুনতে হবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নেতৃত্বের সুযোগ দিতে হবে। কন্যাশিশুর শিক্ষা ও অধিকারে বিনিয়োগ একটি সমতাপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ার ভিত্তি।"

শীতল বলেন, "স্যারের দেওয়া উপদেশ ও শিক্ষাগুলো আমি আজীবন মনে রাখব। নিজের পড়াশোনা শেষ করে স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছানোর জন্য আজ নিজেকে আগের চেয়েও অনেক বেশি সংকল্পবদ্ধ মনে হচ্ছে।"

‘গার্লস টেকওভার’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শীতল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এবং বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব ও শিশু অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো সামনে আনেন।

তিনি যুব নারীদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরে একটি স্বাধীন, নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

কন্যাশিশুর শিক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশসহ বিভিন্ন যুব ও কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগের সাথে কাজ করেছেন শীতল।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, তার এ প্রতীকী দায়িত্ব পালন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো ও নেতৃত্বের সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মক্কা-মদিনা বাদে সৌদি আরবের সব বিমানবন্দর হুথিদের টার্গেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ এম


মক্কা-মদিনা বাদে সৌদি আরবের সব বিমানবন্দর হুথিদের টার্গেট

সউদী আরবের পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনা বাদে দেশটির অন্যান্য সব বিমানবন্দরকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীগোষ্ঠী। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ব্যালিস্টিক এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

হুথিদের দাবি, রাজধানী রিয়াদের পাশাপাশি পূর্ব সউদীর দাম্মাম বিমানবন্দর ও তেল শোধনাগারগুলোও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, সউদী আরবে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সউদী নেতৃত্বাধীন জোটের হস্তক্ষেপ এবং রাজধানী সানার বিমানবন্দরে বিমান হামলার জবাবে এই অভিযানগুলো চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে হুথিরা।

এর আগে, সউদী আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় দফায় হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হন। রোববারের ওই হামলায় বিমানবন্দরের একটি যাত্রী টার্মিনালে আগুন ধরে যায়। সউদী কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি পাকিস্তানের নাগরিক।

এর আগের দিন একই বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০৮ জন আহত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। আহত এক ভারতীয় নাগরিক পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বলেও ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে।

সউদী নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন, রিয়াদ বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে বিমানবন্দরের চার নম্বর যাত্রী টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালাবে কি না, সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, সউদী আরবকে আরও সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং।

এদিকে, ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সউদী নেতৃত্বাধীন জোট বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন। ওই হামলায় একটি আবাসিক ভবনে এক শিশু নিহত এবং ছয়জন আহত হওয়ার খবরও দিয়েছে তারা। তবে সউদী আরব এ দাবি নিশ্চিত করেনি এবং হামলার তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

এই উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সউদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সউদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি সউদী আরব ও হুথিদের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে সহায়তার প্রস্তাব দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার বাতাসের মান আজ অস্বাস্থ্যকর, স্কোর ১৫৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৮ এম


ঢাকার বাতাসের মান আজ অস্বাস্থ্যকর, স্কোর ১৫৮

বিশ্বের বিভিন্ন শহরের মতো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা দীর্ঘকাল ধরে বায়ুদূষণের সমস্যার সম্মুখীন। সর্বশেষ বায়ুর মান সূচক অনুযায়ী, ঢাকার বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (এএকিউআই) অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে ঢাকার স্কোর ছিল ১৫৮। এই স্কোরের ভিত্তিতে, বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে, দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান সপ্তম।

দূষিত শহরের তালিকায় ১৯৬ স্কোর নিয়ে ভারতের কলকাতা প্রথম অবস্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে ভিয়েতনামের হ্যানয় ১৮৮ স্কোর নিয়ে, তৃতীয় স্থানে চীনের রাজধানী বেইজিং ১৭৭ স্কোর নিয়ে, চতুর্থ স্থানে সিঙ্গাপুরের ১৭২ স্কোর এবং পঞ্চম স্থানে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ১৬৭ স্কোর নিয়ে রয়েছে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার এই তালিকা প্রকাশ করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিমুহূর্তের বাতাসের মানের ভিত্তিতে একিউআই (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) সূচক তৈরি করে, যা একটি নির্দিষ্ট শহরের বায়ুর স্বচ্ছতা বা দূষণের মাত্রা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে। এই সূচক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে কিনা, সে সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করে।

একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে গণ্য করা হয়। ৫১ থেকে ১০০ সহনীয় বা মাঝারি হিসেবে ধরা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোর অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত হয়। একইভাবে, ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি স্কোর দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

বায়ুদূষণ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে এবং এটি সকল বয়সের মানুষের জন্য ক্ষতিকর। তবে বিশেষ করে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বায়ুদূষণ অত্যন্ত ক্ষতিকর।

বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের ৫টি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো, বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো, ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণ সাইটের ধুলা।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%