বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১৪ পি.এম
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় ঘটে যাওয়া গোলাগুলির ঘটনায় অস্ত্রধারী এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং তার অপরাধের উপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা নেবে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, দলমত নির্বিশেষে অস্ত্রধারী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান চলতে থাকবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে, রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ‘গেন্ডারিয়ায় গোলাগুলির ঘটনায় অস্ত্রসহ আসামি গ্রেপ্তার’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, গেন্ডারিয়ায় গোলাগুলির ঘটনায় কাউকে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমন করা আমাদের মূল দায়িত্ব এবং কে কোন দলের সদস্য, সেটি দেখার বিষয় নয়। অস্ত্রধারী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ডিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) মিড সেমিস্টার পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকলে স্নাতক (সম্মান) শিক্ষার্থীদের ১ হাজার ২০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, অসুস্থতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে পরীক্ষা মিস করলেও এ পরিমাণ জরিমানা দেওয়া সাধারণ, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টসাধ্য।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্যসচিব ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আদেশটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ক্যাম্পাসে এ নিয়ে সমালোচনা ও প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, অসুস্থতাজনিত কারণে মিড সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ১ হাজার ২০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। নির্ধারিত ফি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার পর এ নিয়ম কার্যকর হবে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও মিড উইকের নিয়ম থাকলেও বিভিন্ন বিভাগে তা সব সময় অনুসরণ করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকেরা নিজেদের মতো করে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করেন। ফলে বিভিন্ন কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা মিস করার ঘটনা ঘটে। পরীক্ষার সময়সূচি যথাযথভাবে না জানিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর জুলুমের শামিল বলেও মন্তব্য করেছেন তাঁরা।
বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন ইসলাম বলেন, ‘অনেক বিভাগে মিড উইক নেই। শিক্ষকেরা নিজেদের মতো করে পরীক্ষা নেন। তাঁদের ইচ্ছামতো পরীক্ষা নিয়ে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা মিস করলে জরিমানা করা অযৌক্তিক এবং একধরনের জুলুম।’ তিনি বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের। তাঁরা নানা সমস্যার মধ্যে পড়াশোনা করেন। আমরা চাই, এ ধরনের জরিমানা ব্যবস্থা না থাকুক। মিড উইক থাকবে এবং সেই অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে হবে। তাহলে শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার হবে না।’
ইয়ামিন ইসলাম আরও বলেন, ‘এখানে শিক্ষকেরাই অনিয়ম করছেন। সে ক্ষেত্রে আমরা চাই, সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন ও গঠনতান্ত্রিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হোক।’
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়াম বলেন, ‘প্রশাসন কি একবারও ভেবে দেখেছে, এই টাকাটা কারও এক মাসের সিট ভাড়া, আবার কারও ১৫ দিনের খাবার খরচ। এসব বাস্তবতা যদি একটু বোঝা হতো, তাহলে শিক্ষার্থীদের ওপর বোঝা চাপায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে হয়তো আরেকবার ভাবা হতো।’ তিনি বলেন, ‘আমি তো হঠাৎ করে অসুস্থ হতেই পারি। অসুস্থতার কারণে যদি কোনো পরীক্ষা দিতে না পারি, সে জন্যও আবার ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হবে। বিষয়টি সত্যিই হতাশাজনক। শিক্ষার্থীদের সমস্যা বোঝার কথা যাঁদের, তাঁরাই যদি এমন সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে আমরা যাব কোথায়।’
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সব শ্রেণির শিক্ষার্থী, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন। অসুস্থতা বা বিভিন্ন কারণে কোনো শিক্ষার্থী মিড পরীক্ষা দিতে না পারলে শিক্ষক বা বিভাগের পরামর্শে তাঁকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেত। প্রশাসনের এ ব্যবস্থায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের জন্য জরিমানা দেওয়া খুবই কষ্টকর হবে। আমি মনে করি, প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীবান্ধব নয়, যদিও প্রশাসন সব সময় বলে তারা শিক্ষার্থীবান্ধব।’
ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোশারফ হোসেন বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি তখনই কার্যকর হওয়া উচিত, যখন একজন শিক্ষার্থী সেমিস্টারের শুরুতেই জানতে পারবেন তাঁর পরীক্ষা কবে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি বিভাগের একটি নির্দিষ্ট একাডেমিক ক্যালেন্ডার থাকা উচিত, যেখানে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমের সময়সূচি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। অন্যথায়, পরীক্ষার সময়সূচি না জানিয়ে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর জুলুম করার শামিল।’
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা মিস করার প্রবণতা কমাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্যসচিব ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘জরিমানা করাটা আসলে মুখ্য বিষয় নয়। অকারণে বা ভিত্তিহীন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিড সেমিস্টার পরীক্ষা মিস করার প্রবণতা অনেক বেড়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যে হারে মিড সেমিস্টার পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকে, সেই তুলনায় ফাইনাল পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকে না। আমরা মনে করি, এই নিয়ম আরোপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে নগরবাসীকে বিকল্প সড়কে চলাচলের জন্য অনুরোধ করেছে ডিএমপি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আকতার হোসেন এই তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, শোভাযাত্রাটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে।
শোভাযাত্রা চলাকালীন সময়ে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নগরবাসীকে পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
শোভাযাত্রার নির্ধারিত রুট হলো শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, পলাশী বাজার, জগন্নাথ হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, বঙ্গবাজার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভবন, গোলাপশাহ মাজার, গুলিস্তান মোড়, নবাবপুর রোড, রায় সাহেব বাজার মোড় হয়ে বাহাদুর শাহ পার্ক পর্যন্ত।
ডিএমপি জানিয়েছে, শোভাযাত্রার রুটে কোনো ধরনের যানবাহন পার্কিং করা যাবে না। উচ্চস্বরে পিএ বা সাউন্ড সিস্টেম বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণের ইচ্ছুকদের শুরুতেই এতে মিলিত হতে হবে এবং কোনোভাবেই মাঝপথে শোভাযাত্রায় যোগ দেওয়া যাবে না।
তিনি আরো জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে হ্যান্ডব্যাগ, ট্রলি, বড় ভ্যানিটি ব্যাগ, পোটলা, দাহ্য পদার্থ, ছুরি, অস্ত্র, কাঁচি, ক্ষয়কারক তরল, ব্রেড, দিয়াশলাই, গ্যাসলাইটার ইত্যাদি নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করা যাবে না। শোভাযাত্রা চলাকালীন রুটে কোনো ধরনের ফলমূল ছোড়া যাবে না। রাস্তায় অহেতুক দাঁড়িয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা বস্তু পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ পুলিশকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া, শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের স্বেচ্ছাসেবক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
ব্যারিকেড, পিকেট ও আর্চওয়ে ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত পুলিশকে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।
তিনি জানান, শোভাযাত্রা চলাকালীন নগরবাসীকে পুলিশের নির্দেশিত বিকল্প সড়কে চলাচল করতে অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি। জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ডেনমার্কের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান সতর্ক করেছেন যে, রাশিয়া বিশেষভাবে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক অভিযান চালানোর জন্য ‘সক্রিয়ভাবে’ প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই তথ্যটি তিনি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।
কোপেনহেগেন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে, যখন জার্মানিতে বিস্ফোরক বোঝাই একটি ড্রোন খুঁজে পাওয়া যায়। ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান মন্তব্য করেছেন যে, ওই ঘটনায় ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদের’ আলামত রয়েছে।
২০২২ সালে ক্রেমলিনের ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, রুশ বাহিনী অগ্রগতির থমকে যাওয়ার মধ্যে ইউরোপের ইউক্রেনপন্থী দেশগুলোর বিরুদ্ধে নাশকতামূলক হামলা বাড়ানোর জন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
গ্রেসহোম সংবাদপত্র বের্লিংস্কেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, ‘রাশিয়ানরা ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা শিল্পকে লক্ষ্যবস্তু করে নাশকতামূলক অভিযান চালানোর জন্য সক্রিয়ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
তিনি সম্প্রচারমাধ্যম টিভি২-কে বলেন, ‘প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য, ব্যাপক অর্থে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা নিজেদের সুরক্ষা দিতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।’
গ্রেসহোমের মতে, রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নাশকতামূলক অভিযানের জন্য ‘একেবারে সাধারণ ডেনমার্কের নাগরিকদের’ নিয়োগের চেষ্টা করছে। এসব অভিযানের মধ্যে কোনো স্থাপনার ছবি তোলা, সেখানে প্রবেশের সুযোগ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও তা জানানো থাকতে পারে। তিনি বের্লিংস্কেকে বলেন, ‘আমরা এসব পদ্ধতির কথা বলছি, কারণ এগুলো কোনো গুপ্তচরবৃত্তির সিনেমার দৃশ্যের মতো দেখতে হবে না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ীতে মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মধুপুর থানা ও ৫ নম্বর গোলাবাড়ী ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত র্যালিটি ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে হাতে মাদকবিরোধী ব্যানার ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
র্যালিতে গোলাবাড়ী ইউনিয়নের কমিউনিটি পুলিশিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই আসাদুল ইসলাম আসাদ, সহকারী পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই আব্দুল হান্নান, বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেয়র অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, মধুপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও গোলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম, গোলাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হোসেন আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, কমিউনিটি পুলিশের সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
পরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না; এর প্রভাব পড়ে পরিবার ও সমাজের ওপরও। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
বক্তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ। তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, শিক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন। মাদকের কোনো তথ্য পেলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
আয়োজকেরা বলেন, একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ