বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১৯ পি.এম
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ডেনমার্কের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান সতর্ক করেছেন যে, রাশিয়া বিশেষভাবে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক অভিযান চালানোর জন্য ‘সক্রিয়ভাবে’ প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই তথ্যটি তিনি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।
কোপেনহেগেন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে, যখন জার্মানিতে বিস্ফোরক বোঝাই একটি ড্রোন খুঁজে পাওয়া যায়। ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান মন্তব্য করেছেন যে, ওই ঘটনায় ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদের’ আলামত রয়েছে।
২০২২ সালে ক্রেমলিনের ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, রুশ বাহিনী অগ্রগতির থমকে যাওয়ার মধ্যে ইউরোপের ইউক্রেনপন্থী দেশগুলোর বিরুদ্ধে নাশকতামূলক হামলা বাড়ানোর জন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
গ্রেসহোম সংবাদপত্র বের্লিংস্কেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, ‘রাশিয়ানরা ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা শিল্পকে লক্ষ্যবস্তু করে নাশকতামূলক অভিযান চালানোর জন্য সক্রিয়ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
তিনি সম্প্রচারমাধ্যম টিভি২-কে বলেন, ‘প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য, ব্যাপক অর্থে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা নিজেদের সুরক্ষা দিতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।’
গ্রেসহোমের মতে, রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নাশকতামূলক অভিযানের জন্য ‘একেবারে সাধারণ ডেনমার্কের নাগরিকদের’ নিয়োগের চেষ্টা করছে। এসব অভিযানের মধ্যে কোনো স্থাপনার ছবি তোলা, সেখানে প্রবেশের সুযোগ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও তা জানানো থাকতে পারে। তিনি বের্লিংস্কেকে বলেন, ‘আমরা এসব পদ্ধতির কথা বলছি, কারণ এগুলো কোনো গুপ্তচরবৃত্তির সিনেমার দৃশ্যের মতো দেখতে হবে না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ীতে মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মধুপুর থানা ও ৫ নম্বর গোলাবাড়ী ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত র্যালিটি ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে হাতে মাদকবিরোধী ব্যানার ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক বার্তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
র্যালিতে গোলাবাড়ী ইউনিয়নের কমিউনিটি পুলিশিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই আসাদুল ইসলাম আসাদ, সহকারী পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই আব্দুল হান্নান, বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেয়র অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, মধুপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও গোলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম, গোলাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হোসেন আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, কমিউনিটি পুলিশের সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
পরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না; এর প্রভাব পড়ে পরিবার ও সমাজের ওপরও। মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
বক্তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ। তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, শিক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন। মাদকের কোনো তথ্য পেলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
আয়োজকেরা বলেন, একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রিজভী বলেছেন, "একটি দল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিজেদের পক্ষে নিতে চায়, যা জাতীয়তাবাদী দলের ত্যাগকে তুচ্ছ করার চেষ্টা।" তিনি এই মন্তব্যটি আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ছাত্রদলের ডিজিটাল প্লাটফর্ম ও ওয়েবসাইটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে করেছেন।
রিজভী আরও বলেন, "ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিকদলসহ প্রায় সাড়ে চার শো নেতা-কর্মী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মাহুতি দিলেও একটি দল এ আন্দোলনে একক কৃতিত্ব নিতে চায়, যা শহীদদের সাথে বেইমানি করা হবে।"
তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্রদলের গৌরবান্বিত ইতিহাস রয়েছে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্ম সংগঠনটির সংগ্রাম ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে। ছাত্রদলের সংগ্রাম, ইতিহাস ও ত্যাগ যেন দেশ তথা বিশ্বের বাঙালি সমাজ জানতে পারে।
অনুষ্ঠানে ডিজিটাল প্লাটফর্ম তথা ওয়েবসাইট উদ্বোধন ছাড়াও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ১৪২ জন শহীদের তালিকা এবং দীর্ঘ ১৭ বছর নির্যাতিত গুম খুনসহ হত্যার শিকার নেতা-কর্মীদের তালিকাসহ চারটি বুকলেটের উদ্বোধন করা হয়।
বর্তমান ও আগামীর প্রতিশ্রুতি সম্বলিত একটি বুকলেট এবং আরেকটি বুকলেট দল-দীপশিখায় উঠে আসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ অন্যান্যের আন্দোলনের বিস্তারিত উপাখ্যান।
অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ অন্যান্য বক্তারা বক্তব্য রাখেন। তারা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের নানা নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন।
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৫৬
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহ, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ঝিনাইদহের উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাড. এম এ মজিদ।
এ উপলক্ষে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা শহরের পার্শ্ববর্তী নবগঙ্গা নদীতে বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
এ সময় জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহ সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন, জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া জেলা মৎসজীবী দলের নেতা-কর্মীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
জেলা বিএনপি’র সভাপতি অ্যাড. এম এ মজিদ বলেন, "খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে দেশের প্রতিটি উন্মুক্ত জলাশয় ও পতিত জমির সঠিক ব্যবহারের বিকল্প নেই। মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে সরকার উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঝিনাইদহ জেলার সকল নদ-নদী, খাল-বিল ও উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পরিকল্পনা আমরা হাতে নিয়েছি। ‘মাছে ভাতে বাঙালি’ প্রবাদের ঐতিহ্য আমরা ফিরিয়ে আনতে নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার ২০২৭ সাল থেকে দেশের প্রায় ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কোটি ১০ লাখ শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন পুষ্টিকর একবেলা খাবার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে ১৫০টি উপজেলায় ৩০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে নিয়ে এ কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প চলছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আগামী বছর দেশব্যাপী কর্মসূচি চালুর ব্যাপারে সরকার আশাবাদী। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় পাইলট প্রকল্পের আওতাধীন ১৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত কর্মশালা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘পাইলট প্রকল্প শুরুর দিকে খাবার সরবরাহ ও মান নিয়ে কিছু সমস্যা ছিল। তবে বর্তমানে সেসব সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।
নিয়মিত ও মানসম্মত খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। কোনো বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পাকা না হওয়া কলা সরবরাহ হলে তা গ্রহণ না করে ফেরত দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।’
তিনি আরো জানান, ‘নতুন নীতিমালা অনুযায়ী পচা বা নিম্নমানের খাবার বিদ্যালয়ে সরবরাহ হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীর টেন্ডার বা সরবরাহ আদেশ বাতিলের ব্যবস্থা থাকবে।
গত দুই থেকে আড়াই মাসে নতুন নীতিমালার আওতায় পাইলট প্রকল্পে ভুলের হার প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে এসেছে।’
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আগের সরকারের সময়ে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বিদ্যালয় ভবনের যে নকশা করা হয়েছিল, তা একটি ভিন্ন লেবেলের জাতীয় ব্যর্থতার শামিল। ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ের নকশা ও অবকাঠামো পরিকল্পনা মানসম্মত ও বাস্তবসম্মত করা হবে।’
তিনি খুলনার মুহাম্মদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন, খেলার মাঠ ও শিক্ষক সংকট নিয়েও কথা বলেন। বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন কেন হচ্ছে না এমন প্রশ্নে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত সুপারিশ দেওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
দেশজুড়েই শিক্ষক সংকট রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের শ্রেণিকক্ষে যোগদানের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে অধিকাংশ শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্য রয়েছে।’
তিনি আরো জানান, ‘প্রাথমিক শিক্ষার মান অতীতে কমেছে- এটি সামগ্রিকভাবে সত্য। তবে বর্তমানে তা আর কমছে না। মানোন্নয়নে শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, শিক্ষক নীতিমালা, কারিকুলাম ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের সুফল পেতে সময় লাগবে।’
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ আরো জোরদার করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুধু বিষয়জ্ঞান নয়, শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয় কার্যকরভাবে উপস্থাপনের কৌশলই প্রশিক্ষণে বেশি গুরুত্ব পাবে। বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
রাজনৈতিক প্রভাব বা মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ ও বদলির অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কারো পদায়ন অবৈধ প্রমাণিত হলে তা পর্যালোচনা করে বাতিল করা হবে। নতুন শিক্ষক নীতিমালায় মূল্যায়নভিত্তিক ব্যবস্থা থাকবে। শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নীতিমালা করা হবে, যাতে অতিরিক্ত শিক্ষক থাকা বিদ্যালয় থেকে সংকটাপন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষক বদলি করা যায়।’
বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে স্কুলভিত্তিক ইআরপি (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং) ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর মাধ্যমে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে আছেন কি না, শিক্ষার্থী উপস্থিত আছে কি না এবং পাঠদান হচ্ছে কি না—তা পর্যবেক্ষণ করা যাবে। আপাতত এটিইওদের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
শিক্ষকদের আলাদা পে স্কেল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি শুধু চিন্তাভাবনার পর্যায়ে নেই; নতুন শিক্ষক নীতিমালায় এ নিয়ে কাজ চলছে। নীতিমালাটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রস্তুত করছে। পরে তা মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে কোনো প্রাথমিক শিক্ষক নিরাশ হবেন না।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, দুর্গম উপকূলীয় এলাকার শিক্ষকদের জন্য বিশেষ ভাতার পরিকল্পনা আছে। কোনো এলাকা সরকারি হিসেবে দুর্গম ঘোষিত কি না, সেটিই মুখ্য নয়; স্থানীয় প্রশাসন কোনো এলাকাকে শিক্ষকদের জন্য দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত ও প্রমাণ করতে পারলে সেখানে বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।
এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কৃতি ও খেলাধুলাকে আরো গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সংস্কৃতি এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রশিক্ষক, কোচ ও সংশ্লিষ্ট জনবলকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগ্রহী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনে এলাকাভিত্তিক প্রশিক্ষিত শিক্ষক সাময়িকভাবে নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ