০৯:২৬ পি.এম
আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে, ভারত সরকার নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।
এই নতুন নির্দেশনার উদ্দেশ্য হলো বিমানবন্দরগুলোর নজরদারি আরও শক্তিশালী করা। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ‘এয়ার সুবিধা ২.০’ নামে একটি নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমস্ত আন্তর্জাতিক যাত্রীরা উড্ডয়নের পূর্বে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত স্ব-ঘোষণা ফর্ম অনলাইনে পূরণ করতে বাধ্য হবে।
নতুন এই নিয়মটি গত ২৫ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে এবং এটি এখন থেকে যেকোনো দেশ থেকে ভারতে আসা সমস্ত আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য বাধ্যতামূলক। যাত্রীদের ফ্লাইটে ওঠার আগে অনলাইনে একটি স্বাস্থ্য ঘোষণাপত্র পূরণ করতে হবে। বিশেষত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যখন মধ্য আফ্রিকার ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে, তখন ভারত এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
নতুন নিয়মটি বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে ভারতে আসা সকল যাত্রীর জন্য প্রযোজ্য হবে। যাত্রীরা তাদের যাত্রা শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে airsuvidha.civilaviation.gov.in পোর্টালে গিয়ে এই ফর্মটি পূরণ করতে পারবেন। বিমানবন্দরে নেমে কোনও সমস্যা এড়াতে, যাত্রীদের প্রতি ওয়েব চেক-ইনের সময় ফর্মটি পূরণ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এই ফর্মে যাত্রীর বিগত ২১ দিনের ভ্রমণ ইতিহাস, ইবোলা আক্রান্ত অঞ্চলে যাওয়ার রেকর্ড, এবং শরীরে জ্বর, গায়ে ব্যথা বা রক্তপাতের মতো কোনো উপসর্গ রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে তথ্য দিতে বলা হয়েছে। ভারতের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের কোনো কাগজের ফর্ম পূরণ করতে হবে না; কেবল ডাউনলোড করা এই অনলাইন ফর্মটি ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দেখানো হবে। এই ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের তথ্য রিয়েল-টাইমে বিমানবন্দর স্বাস্থ্যের কর্মকর্তাদের এবং ইমিগ্রেশন টিমের কাছে পৌঁছাবে।
ভারত সরকারের এই জরুরি পদক্ষেপের মূল কারণ হলো গত ১৭ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া একটি ঘোষণা। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি) এবং উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে ডব্লিউএইচও। অন্তত ইবোলার একটি বিরল রূপ ‘বুন্ডিবুগিও ভাইরাস ডিজিজ’ দ্বারা সৃষ্ট এই প্রাদুর্ভাব, যার জন্য বর্তমানে কোনো ভ্যাকসিন বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
ডিআরসি ও উগান্ডার সীমান্তবর্তী দক্ষিণ সুদানের মতো দেশগুলোও চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভারত সফরকারী বা ট্রানজিট নেওয়া যাত্রীদের এই সমস্ত দেশে ভ্রমণের ইতিহাস থাকলে বিমানবন্দরে অতিরিক্ত স্ক্রিনিংয়ের মুখোমুখি হতে হবে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
বিগত পাঁচ দশকে আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। এই মারাত্মক ভাইরাসটি মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে ছড়ায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস এই পরিস্থিতিটিকে উদ্বেগজনক কিন্তু নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই প্রাদুর্ভাবটি দ্রুত ছড়াচ্ছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আফ্রিকান সিডিসি আগামী ছয় মাসের জন্য যৌথভাবে ৫১৮ মিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘোষণা করেছে। এই বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লিমিটেড জানাচ্ছে যে, যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্মীদের সুরক্ষার জন্য সম্পূর্ণ কন্ট্যাক্টলেস বা স্পর্শহীন উপায়ে এই ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন