০১:৫৫ পি.এম
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মাদক কারবারি সন্দেহে মামুন মোল্লা (৪২) নামে একজন ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনার পর পুলিশি তল্লাশির মাধ্যমে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, ফলে পুরো ঘটনাটি সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন এবং ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের মালিখালী বাজার এলাকায় ঘটে।
স্থানীয়দের কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, মামুন মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। আবার তার পরিবারের দাবি, অতীতের কিছু অভিযোগের কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার ওপর বর্বর হামলা চালানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরতে গিয়ে ওএসডি হয়েছেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে মামুন মোল্লা একটি প্রাইভেটকার নিয়ে মালিখালী বাজার এলাকায় গেলে কয়েকজন তাকে ‘মাদক ব্যবসায়ী’ বলে চিৎকার শুরু করে। এরপর উত্তেজিত জনতা সেখানে জড়ো হয়ে মামুনকে অবরুদ্ধ করে গণপিটুনি দিতে শুরু করে। পরে তারা তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়। খবর পাওয়ার পর বোয়ালমারী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত মামুনকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
আহত মামুনের বাবা মানিক মোল্লা অভিযোগ করেছেন, 'আমার ছেলে ফরিদপুর আদালতে একটি মামলার হাজিরা দিয়ে বাড়িতে এসেছিল। দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে এক আত্মীয়ের প্রাইভেটকার নিয়ে বের হয়েছিল। পথে শত্রুতা করে তাকে আটকে মারধর করা হয়েছে এবং গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ পুলিশ তল্লাশি করে তার কাছে কোনো মাদক পায়নি।'
তিনি আরও জানান, তার ছেলে অতীতে মাদকাসক্ত ছিল, তবে অনেক আগেই সেই পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। যদি কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবেন, কিন্তু এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এছাড়া, স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে শাস্তি দেওয়া এবং সম্পদ ধ্বংস করার বিষয়টি মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণ তাজা ককটেল উদ্ধার
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, 'আটক মামুনের বিরুদ্ধে অতীতে মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। স্থানীয়রা তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে আটকের পর তার শরীর বা গাড়ি তল্লাশি করে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন