প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের উলিপুরে একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের খালের ওপর নির্মিত ব্রিজটি ভেঙে প্রায় এক যুগ ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। এর ফলে খালের দুই পাড়ের ১২টি গ্রামসহ পুরো বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ, বছরের পর বছর ধরে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘ ১২ বছরেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর বিষয়টি নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এই আবস্থায় কর্তৃপক্ষ এবারও যথারীতি আশ্বাসের বুলি শোনাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের পানির মাঝে ব্রিজটি একদিকে দেবে গিয়ে কোনোমতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু ব্রিজের দুই পাশে সড়কের কোনো সংযোগ নেই। এর ফলে সড়ক থাকলেও সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ রয়েছে যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন থেকে জনতার হাট সড়কের সাঁকোর পাড় গ্রামে 'সাঁকো খাল'-এর ওপর ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই ব্রিজটি নির্মাণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর। সে সময় ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি উদ্বোধন করার পর এক বছর যেতে না যেতেই বন্যার পানির তোড়ে একপাশ ভেঙে দেবে চলে যায় এবং ভেসে যায় দুই পাশের সংযোগ সড়ক।
এরপর থেকেই উলিপুর উপজেলা সদর ও কুড়িগ্রাম জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দুই পাড়ের থাকার ১২টি গ্রামের মানুষের। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটির যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তাঁদের দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে বিশেষভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা, জরুরি চিকিৎসা প্রত্যাশী রোগী এবং কৃষিপণ্য বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে যাওয়া স্থানীয় কৃষকেরা।
সাঁকোর পাড় এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম বলেন, 'ব্রিজটি করার পরপরই বন্যার পানির তোড়ে একপাশ ভেঙে দেবে যায়। এরপর থেকে চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ উপজেলা নির্বাহী অফিস এবং বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়েও এক যুগে কোনো কাজ হয়নি।'
একই এলাকার বাসিন্দা আব্বাস আলী বলেন, বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন থেকে উলিপুর উপজেলা শহর এবং জেলা শহরে যাওয়ার এটাই ছিল সবচেয়ে সহজ রাস্তা। কিন্তু ব্রিজটি পানির মধ্যে ভেঙে পড়ে থাকায় আমরা অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। দ্রুত নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হলে ১২টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে।
এদিকে যোগাযোগ ব্যবস্থায় জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমাতে ভাঙা ব্রিজের স্থলে নতুন একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রদীপ কুমার জানান, জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে ভাঙা ব্রিজের জায়গায় একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হতে চলেছে।
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নতুন বরাদ্দ সাপেক্ষে পূর্বের ভেঙে যাওয়া ৩০ ফুট ব্রিজের স্থলে এবার ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি টেকসই ব্রিজ নির্মাণ করা হবে, যা নদী বা খালের গতিপ্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন