১১:৩৪ এম
ডলারের দুর্বলতার ফলে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণে উঠেছে। বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের ভাষণের উপর।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৪ আগস্ট) দিনে শুরুতে, ১৫ মে’র পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর, স্পট মার্কেটের স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৪১ দশমিক ২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছিল। এদিন মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারও শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৯৭ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছেছে।
মার্কিন ট্রেজারির দীর্ঘমেয়াদি বন্ড পুনঃক্রয়ের প্রতিশ্রুতির কারণে অস্থির বাজারে ডলার কয়েক মাসের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছিল। যখন ডলার দুর্বল হয়, তখন অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। ফলে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে।
আরও পড়ুন: বিআরটি প্রকল্প বাতিলের প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান ধর্মঘট
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানিয়েছেন, সপ্তাহের শুরুতে স্বর্ণের দাম বেশ চাঙ্গা রয়েছে এবং এটি ক্রয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্বর্ণের দামের এই উত্থান মূলত ডলারের দুর্বলতার কারণে হচ্ছে। এর পাশাপাশি উচ্চতর বন্ড ইল্ডও অন্তর্নিহিত অর্থনৈতিক চাপ ও নীতিগত অনিশ্চয়তা নির্দেশ করছে।
মার্কিন সুদের হারের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নতুন কোনো সংকেত পেতে চলতি সপ্তাহে জুলাইয়ের ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় (পিসিই) মূল্য সূচকের তথ্যের দিকে বিনিয়োগকারীরা নজর রাখবেন। তদুপরি, জ্যাকসন হোল সিম্পোজিয়ামে ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের ভাষণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ওয়াটারার মন্তব্য করেছেন, ব্যবসায়ীরা নীতিগত অবস্থানের কোনো পরিবর্তন এবং সাম্প্রতিক বন্ডবাজারের পরিস্থিতির প্রতি গভীর নজর রাখবেন। যদি ভারসাম্যপূর্ণ বা সতর্ক কোনো বক্তব্য আসে, যেখানে নীতিতে নমনীয়তার সুযোগ থাকবে, তবে এটি স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে সাহায্য করতে পারে।
এদিকে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা স্বর্ণের বাজারেও প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বাণিজ্য অংশীদারদের লক্ষ্য করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একইসঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে এটিকে ‘এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ আর্থিক আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করে হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রত্যাশা করা ঘোষণার আগে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলতে শুরু করায়, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলারের বেশি কমেছে।
আরও পড়ুন: ডিএমপির উদ্ধারকৃত ১১৭টি মোবাইল ফোনের মালিকানা শনাক্তের আহ্বান
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৯৮ ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৭৮ দশমিক ৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে, প্যালাডিয়ামের দাম প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৫০ ডলারে অপরিবর্তিত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন