০৯:৩২ পি.এম
বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি ইরানকে চুক্তিতে রাজি করাতে দাবি করেছেন যে, ওবামা প্রশাসন বিমানভর্তি অর্থ ঘুষ দিয়েছিলেন। ২০১৫ সালে যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) চুক্তির আওতায় ইরানকে ১৭০ কোটি মার্কিন ডলার নগদ দেওয়া হয়েছিল, আলজাজিরার খবর অনুযায়ী।
ট্রাম্প মঙ্গলবার (১৬ জুন) ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন।
তিনি ঘটনাটির প্রমাণ হিসেবে নিজ কাছে থাকা ছবির উল্লেখ করে জানান, ওবামার করা জেসিপিওএ চুক্তির জন্য ব্যাংক থেকে ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ বোয়িং ৭৫৭ বিমানে করে ইরানে পাঠানো হয়েছিল। সেই সময় তারা বিমানটির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজায় শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
ওবামার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ট্রাম্প বলেন, তিনি ঘুষ দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি এই বিষয়ে বলেন, ‘‘আমি তা করার চেষ্টা করিনি।’’
ট্রাম্প সাংবাদিকদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, জানেন ইরানিরা কী করেছিল? তারা ওবামাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছিল এবং তাকে গালি দিয়েছিল।
২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত জেসিপিওএ চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে তেহরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা। তবে ২০১৮ সালে যখন ট্রাম্প প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন, তখন তিনি জেসিপিওএ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন।
২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি জয়েন্ট কমপ্রেহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ)-এর সময় ইরান যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়েছিল, সে বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প শুরু থেকেই সমালোচনা করে আসছেন।
আরও পড়ুন: গাম্বিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে নিহত ১২, উদ্ধার অভিযান চলছে
বর্তমানে যুদ্ধ বন্ধের প্রশ্নে ট্রাম্পের অবস্থান অনেকটাই নির্ভর করে ইরানকে তিনি কতটা অর্থনৈতিক সুবিধা দিতে রাজি হন তার ওপর। ওয়াশিংটনের মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট-এর ইরান বিশেষজ্ঞ আলেক্স ভাটানকা মন্তব্য করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর মূল চাবিকাঠি অর্থ।
তাদের দাবি অনুযায়ী, কয়েক দফা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর, আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মার্কিন ও আরব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে অনীহাই আলোচনার অচল হওয়ার প্রধান কারণ।
ইরান প্রস্তাব দিয়েছিল যে, তারা পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুকে আপাতত আলোচনার বাইরে রেখে যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তুত। তবে আলোচনায় জড়িত সূত্রগুলোর মতে, প্রকৃত জটিলতা পারমাণবিক ইস্যু নয়, বরং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রশ্নে।
ট্রাম্প দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের বড় অংশজুড়ে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তিনি জেসিপিওএ চুক্তি থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে এসে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন, যা ইরানের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
আরও পড়ুন: 'হিটলার জেগে ওঠো' স্লোগানে ক্ষোভে ফুঁসছে ক্রোয়েশিয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন