০৩:৪৫ পি.এম
কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করেন স্থানীয়রা। তবে সেই জমি দানের প্রায় নয় বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয় নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো কার্যকর উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসেনি। এভাবে তিন গ্রামের শতাধিক শিশু এখনও কয়েক কিলোমিটার দূরের বিদ্যালয়ে গিয়ে কষ্ট করে পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছে।
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নের জয়দেবপুর, ছোট কলাগাঁও ও নিশ্চিন্তপুর গ্রামে মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন। স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকার দেশের বিদ্যালয়বিহীন গ্রামগুলোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে ওই তিন গ্রামকে বিদ্যালয়বিহীন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর এলাকাবাসী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে আসেন।
২০১৭ সালের ২৪ জুলাই সোমবার, জয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, সুলতান আহমেদ, দেলোয়ার হোসেনসহ কিছুনা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি স্থানীয় একটি সড়কের পাশে প্রায় ৩৩ শতাংশ জমি বাংলাদেশ সচিবালয়ের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর দান করেন। বিদ্যালয় স্থাপনের আশায় জমির সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয় নির্মাণের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
আরও পড়ুন: ৩নং বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নবাসীর আমৃত্যু সেবক হয়ে কাজ করতে চান,চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ নাসির মিয়া
বিদ্যালয় না থাকায় তিন গ্রামের শিশুদের প্রতিদিন ৩ কিলোমিটার দূরের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয়। তাদের এই যাত্রা কাঁচা এবং দুর্গম গ্রামীণ পথের সাহায্যে হয়। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড রোদ, বর্ষার কাদা কিংবা ঝড়-বৃষ্টি সব প্রতিকূলতাই তাদের সাম্প্রতিক সময়ে মোকাবেলা করতে হয়। অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন যে, এই দুর্ভোগের কারণে অনেক শিশুই নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না।
স্থানীয় অভিভাবকদের বক্তব্য, ছোট শিশুদের এত দূরে হেঁটে বিদ্যালয়ে পাঠানো অত্যন্ত কষ্টকর। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তাঘাট কাদায় ভরে গেলে শিশুদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই কারণে অনেক সময় শিশুরা বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে, যার ফলে ঝরে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
জয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা অধ্যাপক মো. শাহজাহান বলেন, 'সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা জমি দান করেছি। তৎকালীন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমাদের ফসলি জমি থেকে মাটি এনে বিদ্যালয়ের জন্য স্থানটি ভরাট করেন। ভেবেছিলাম, আমাদের এলাকার সন্তানরা নিজ গ্রামেই লেখাপড়ার সুযোগ পাবে। কিন্তু নয় বছরেও বিদ্যালয় নির্মাণ না হওয়ায় আমরা হতাশ।'
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, 'জয়দেবপুর গ্রামে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হলে পাশ্ববর্তী ছোট কলাগাঁও ও নিশ্চিন্তপুর গ্রামের সন্তানরাও নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারবে। দ্রুত বিদ্যালয় নির্মাণ না হলে এ অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থা আরও পিছিয়ে পড়বে।'
আরও পড়ুন: ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন আলফাডাঙ্গা এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মিলন মোল্লা
শিক্ষাবিদ এবং স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, একটি বিদ্যালয়ের অভাবে তিন গ্রামের শিশুরা তাদের মৌলিক শিক্ষা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা জানান, দ্রুত বিদ্যালয় নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ না করলে সরকারের 'সবার জন্য শিক্ষা' কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধাগ্রস্ত হবে।
এলাকাবাসীর দাবি হলো, অবিলম্বে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়ে জয়দেবপুর এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হোক, যাতে তিন গ্রামের শিশুরা নিরাপদ এবং সুবিধাজনক পরিবেশে শিক্ষালাভের সুযোগ পায়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রওশন আরা বলেন, 'সারা দেশে প্রথমে ১ হাজার ৫০০ বিদ্যালয় এবং পরে আরও ১ হাজার বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। তবে ২০১৮ সালে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে তালিকা চাওয়া হলে ২০২৩ সালের বৃহস্পতিবার (১৮ মে) আমাদের অফিস থেকে তালিকা পাঠানো হয়। আমি যোগদানের পর চলতি বছরের রোববার (৩১ মার্চ) পুনরায় সেই তালিকা পাঠিয়েছি।'
আরও পড়ুন: সংবাদ প্রকাশের জেরে সম্পাদককে হত্যাচেষ্টা ও ব্ল্যাকমেইল: শনিরআখড়ার পপুলার হাসপাতালের আড়ালে অপরাধের সাম্রাজ্য
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন