১০:০৭ পি.এম
মাদারীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে লামিয়া আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের পর কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক বা ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পান করিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ইতালি প্রবাসী স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত স্বামী আরিফ বেপারী (৩০)।
নিহত লামিয়া আক্তার মাদারীপুর সদর উপজেলার হাসানকান্দি গ্রামের বাশার শেখের মেয়ে। অভিযুক্ত আরিফ বেপারী সদর উপজেলার নতুন রাজারহাট গ্রামের বাসিন্দা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আরিফ বেপারী ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য মিলে লামিয়ার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাবিতে ডেঙ্গু সচেতনতায় হাল্ট প্রাইজের নতুন কর্মসূচি
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতনের পর কোকাকোলার সঙ্গে চেতনানাশক বা উচ্চমাত্রার ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে লামিয়াকে পান করানো হয়। পানীয়টি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাময়িকভাবে জ্ঞান ফিরে আসে।
স্বজনদের দাবি, জ্ঞান ফেরার পর লামিয়া তার মাকে বলেন, "আমাকে কোকাকোলার সঙ্গে কিছু মিশিয়ে খাইয়েছে। এরপর আমার আর কিছু মনে নেই।" এরপর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং বুধবার দুপুরে তিনি মারা যান।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর হাসপাতালের বিল পরিশোধ না করেই অভিযুক্ত স্বামী আরিফ বেপারী পালিয়ে যান। পালানোর সময় তিনি লামিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও সঙ্গে নিয়ে যান বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে সাজসজ্জায় দেবালয়ের পরেই কৈলাশ পূজামণ্ডপ
লামিয়ার পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ ঘটনায় পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার অগ্রগতি ও তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন