প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্যের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার হাউস অব কমন্সে প্রাইম মিনিস্টার’স কোয়েশ্চেনস-এর অধিবেশনে শেষবারের মতো অংশ নিয়ে আবেগঘন বিদায় বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি এই সময় বলেন, ‘এটাই আমার রাজনৈতিক যাত্রার সমাপ্তি।’
স্টারমার তার বক্তব্যে লেবার পার্টির এমপি ক্যারোলিন হ্যারিসের একটি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন, যেখানে তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি তার ঘনিষ্ঠ সমর্থক ও বন্ধু হিসেবেও হ্যারিসের নাম উল্লেখ করে তার এবং পরিবারের প্রতি সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
স্টারমার এ সময় আরও বলেন, ‘প্রত্যেক প্রধানমন্ত্রীই জানেন, দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে একদিন সেই দায়িত্ব অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার সময়ও আসবে। আমার জন্য সেই দিন এসে গেছে। এটাই আমার রাজনৈতিক যাত্রার শেষ।’
বিদায়ী ভাষণে স্টারমার আরও জানান, তিনি লেবার পার্টিকে ২০১৯ সালের ঐতিহাসিক পরাজয় থেকে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক বিজয়ে নিয়ে গিয়েছেন। এছাড়া তিনি দুই বছর সরকার পরিচালনার পর এমন একটি দেশ রেখে যাচ্ছেন, যা তার দায়িত্ব নেওয়ার সময়ের তুলনায় আরও ভালো অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা যা অর্জন করেছি, তার সবকিছু নিয়েই আমি গর্বিত।’
এ সময় তিনি তার রাজনৈতিক দল, লেবার এমপিদের, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সহকর্মীদের মিনিট বিশেষে ধন্যবাদ জানান।
স্টারমার নতুন সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাবেন বলেও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার উত্তরসূরি এবং এই কক্ষের প্রত্যেক সহকর্মীকে আমি আন্তরিক সমর্থন জানাব।’
ভাষণের শেষ মুহূর্তে স্টারমার দর্শক সারিতে উপস্থিত নিজের পরিবারকে উদ্দেশ করে বলেন, গ্যালারিতে উপস্থিত যাদের জীবন এই লেবার সরকারের কারণে বদলেছে বা উন্নত হয়েছে এবং দেশের যেসব মানুষ নিজেদের অবহেলিত মনে করেন—আপনারাই আমাকে রাজনীতিতে আসতে অনুপ্রাণিত করেছেন। আমার স্ত্রী ও সন্তানদের বলছি, আমি তোমাদের ভালোবাসি। বিদায়।’
এর আগে অধিবেশনে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বাদেনক স্টারমারের সঙ্গে হালকা রসিকতা করেন এবং তার উত্তরসূরি অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করেন।
বাদেনক প্রশ্ন তোলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া বার্নহামের উচিত হাউস অব কমন্সে এসে প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া, গ্রীষ্মকালীন বিরতির আড়ালে না থাকা।
জবাবে স্টারমার বলেন, তিনি নিশ্চিত যে বাদেনক তার উত্তরসূরিকেও একইভাবে কঠিন প্রশ্ন করবেন, যেভাবে এতদিন তাকে করেছেন। পাশাপাশি তিনি বার্নহ্যামকে নিজের ‘পূর্ণ সমর্থন’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় বাদেনক মন্তব্য করেন, ‘নতুন প্রধানমন্ত্রী কোনো জাদুকরি সমাধান নন।’
সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার (১৭ জুলাই) লেবার পার্টির নেতৃত্ব ছাড়বেন কিয়ার স্টারমার। এরপর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। আগামী সোমবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিট ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেবেন স্টারমার।
অধিবেশনে স্টারমার, বাদেনক এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি সম্প্রতি নিহত সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী অ্যান উইডিকম্ব-এর প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। এড ডেভি বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীকে ‘একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক’ আখ্যা দিয়ে তার জনসেবার প্রশংসা করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন