বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১১:২৬ পি.এম
ফেনীর সোনাগাজীতে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এই সময় অনুষ্ঠানমঞ্চে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় সোনাগাজী পৌরসভা চত্বরে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পদযাত্রা শেষে সোনাগাজী পৌর চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হাসনাত আব্দুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা মঞ্চে অবস্থান নেন।
বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে মঞ্চ থেকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য এনসিপির জেলা যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল যোবায়েরের নাম ঘোষণা করা হলে জেলা কমিটির সদস্যসচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিকের অনুসারীরা এতে বাধা দেন। একপর্যায়ে অতিথিদের উপস্থিতিতেই মঞ্চে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপের পর আবদুল্লাহ আল যোবায়ের আর বক্তব্য দেননি।
পরে অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে সভাস্থলের সামনের সড়কে এনসিপির জেলা সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জোবায়ের আল মুজাহিদকে লাথি মেরে কয়েকজন মারধর শুরু করেন। এ সময় সেখানে জুলাই যোদ্ধা শাহাদাতসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা চলে যাওয়ার কয়েক মিনিট পর মঞ্চের সামনে তৃতীয় দফায় স্থানীয় এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মীর মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
এনসিপির সোনাগাজী উপজেলা আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রথম ঘটনায় মঞ্চে জেলা এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল যোবায়েরের নাম বক্তব্যের জন্য ঘোষণা করা হলে অন্য যুগ্ম সদস্যসচিবরা বিরোধিতা করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে অনুষ্ঠান চলাকালে মঞ্চে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন সজিব এবং কেন্দ্রীয় নেতা নিজাম উদ্দিনের মোবাইল ফোনসহ অন্তত ৫-৬টি ফোন হারিয়ে যায়। অনুষ্ঠান শেষে মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুনরায় কিছুটা বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এসব বিষয় নিয়ে আমরা বসে আলোচনা করার চেষ্টা করব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির ফেনী জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত বলেন, অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেওয়ার জন্য জেলা যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল যোবায়েরের নাম ঘোষণা করালে তাৎক্ষণিকভাবে জেলা সদস্যসচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিকের অনুসারীরা বাধা দেন এবং মঞ্চে হট্টগোল সৃষ্টি করেন। এতে কিছুটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠানশেষে আবারও অন্য দুই পক্ষ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় আমাদের জেলা কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জোবায়ের আল মুজাহিদকেও আক্রমণ করা হয়। ওই হামলাকারীরা কোনো পদ-পদবিতে নেই। হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার ভিডিওগুলো আমরা ইতোমধ্যে কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। তাদের ভিডিওগুলো পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে। শিগগিরই এসব ঘটনায় দোষীদিগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’-এ অংশগ্রহণ করেন এনসিপি নেতারা। এর মাধ্যমে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের কর্মসূচির সূচনা হয়। কর্মসূচির শুরুর আগে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত দুই শহীদের কবর জিয়ারত করেও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এনসিপি নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাচ্ছে। পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান। এই প্রেক্ষাপটে চলমান সামরিক পদক্ষেপের কারণে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা বাতিলের সিদ্ধান্তে মার্কিন প্রশাসন বেশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে, এমন ধারণা করা হচ্ছে।
ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কের আঙ্কারায় ৫৩ ঘণ্টার সফর করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফর শেষে, প্রায় ছয় ঘণ্টা আগে, তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরে এসেছেন। বুধবার সকালের সময় মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুব বেশি কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতি এখন ‘শেষ’ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ভিন্ন মত দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য হল, চলমান এই সংঘাতের মধ্যেও আলোচনা চলতে পারে এবং তা চালিয়ে যাওয়া উচিত।
ওয়াশিংটন ডিসি থেকে সাংবাদিক মাইক হান্না জানিয়েছেন, এটা মনে রাখা দরকার যে, এই সংঘাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একচেটিয়া ক্ষমতা কমানোর পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন খোদ রিপাবলিকান দলের কিছু সদস্য। তাই চলমান এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই বাধা রয়েছে। এখন যেহেতু আর কোনো যুদ্ধবিরতি নেই, তাই ট্রাম্পের জন্য কংগ্রেস এবং মার্কিন জনগণকে বোঝানো বেশ কঠিন হয়ে যেতে পারে। কারণ, তিনি শুরুতে বলেছিলেন যে এই যুদ্ধ মাত্র তিন থেকে চার সপ্তাহ স্থায়ী হবে।
তাছাড়া, সামনেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান হামলার ধরন ও পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, ট্রাম্প যেন দ্রুত নিজের বিজয় ঘোষণা করে যুদ্ধ শেষ বলতে পারেন, সেজন্যই তড়িঘড়ি করে এই চুক্তিটি সাজানো হয়েছিল। তাই এই চুক্তির শর্তগুলো নিয়ে যে সংঘাত হবে, তা একরকম নিশ্চিতই ছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে দ্বন্দ্ব অবধারিত ছিল। আর এই হরমুজ প্রণালিই এখন নতুন করে সংঘাত বাড়ার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশকে একটি বিশ্বমানের বিনিয়োগ-বান্ধব দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের ৩১তম বার্ষিক কাউন্সিলে তিনি একথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশকে একটি বিনিয়োগবান্ধব দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আমরা সম্ভাব্য সবকিছু করবো। ব্যবসার ব্যয় কমিয়ে আনার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন এবং জানান, সরকারের মূলনীতি হলো আমলাতন্ত্র এবং নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণের একটি উন্নত নীতি কাঠামোর মাধ্যমে ব্যবসা করার খরচ কমানো, যার ফলে ব্যবসা করার সহজতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস তথা ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই সুস্পষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেশ কিছু দৃশ্যমান সাফল্য এসেছে। তবে এসব লক্ষ্যমাত্রা ও পরিকল্পনা দেশজুড়ে বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়ন করতে বেসরকারি খাতের ব্যাপক সমর্থন প্রয়োজন বলে মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা সামনে কিছু লক্ষ্য স্থির করে বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশ উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বেসরকারি খাত-চালিত দেশ হিসেবে এগিয়ে যাক। কিন্তু কোনো সরকারই একা এটা করতে পারে না। ঐতিহাসিকভাবে আমরা দেখেছি, শীর্ষস্থানীয় বহু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের গল্প রয়েছে। আমরা চাই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের হাত ধরে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এই ধারা বেসরকারি খাত থেকে সরকারি খাতে স্থানান্তরিত হোক এবং সরকার হিসেবে আমরা তা আনন্দের সাথে গ্রহণ করবো।
মাহ্দী আমিন বাজেট ও অর্থনৈতিক নীতিমালার কথা উল্লেখ করে জানান, প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম বাজেটের মাধ্যমে সরকারের ভবিষ্যৎ রূপকল্প অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। যেখানে নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্যের দৈনন্দিন খরচ ও দ্রব্যমূল্য কমানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারি খাতের নীতিমালার সাথে সংগতি রেখে, বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে সম্মিলিতভাবে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
বার্ষিক কাউন্সিলে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-আইসিসিসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্য আবারও অগ্নিগর্ভ। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন সামরিক পদক্ষেপ শুধু একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলার প্রশ্ন নয়; এটি বিশ্ব রাজনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক আইন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন করে এক গভীর অনিশ্চয়তার সূচনা করেছে।
এমন এক সময়ে এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল, যখন ইরানের বিরুদ্ধে এর আগে আধিপত্যবাদী মার্কিন ইজরাইলি অবৈধ আগ্রাসনের ৪০ দিনের যুদ্ধের ক্ষত এখনও শুকায়নি এবং পুরো ইরানি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক অভিভাবক আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হারিয়ে শোকে বিহ্ববল এবং ক্ষোভে ফুসছিল এবং তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাকে হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হচ্ছিল,, ঠিক তখনই ৪০ দিনের যুদ্ধের পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে উদগ্রীব থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত ইসরাইল কিংবা ইহুদী লবি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে বা প্রভাবিত হয়ে সেই চুক্তি লংঘন করে পুনরায় যখন ইরানে আগ্রাসন চালানো শুরু করেছে তখনই হয়তো এটি নির্ধারিত হয়ে গেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বলয়ের আধিপত্যবাদী পশ্চিমা শক্তির কবর রচনা হতে যাচ্ছে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপ, নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক হুমকির মুখে থাকার পরেও দীর্ঘ ৪০ দিনের যুদ্ধে বিশ্বের একমাত্র সুপার পাওয়ার এর বিরুদ্ধে এবং তাদের পোষা সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ইসরাইল এর বিরুদ্ধে ভয়াবহ প্রতিরোধ গড়ে তুলে তাদেরকে পিছু হটতে বাধ্য করে ঠিক তখনই ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের যুদ্ধে হেরে যাওয়ার লজ্জা ঢাকতে যুদ্ধ বিরোধী চুক্তিতে যেতে উদগ্রী হয়ে পড়েছিল। কিন্তু খুব সম্ভবত ইহুদী লবি বা ইজরাইলের আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হয়ে পুনরায় সেই একই ভুল পথে পা বাড়িয়ে ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে। এর পরিণতি কি হবে তার সময় বলবে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতাকে পাল্টে দিয়েছে এটা এখন নিশ্চিত করে বলা যায়। ইরান এখন আর কেবল নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত একটি দুর্বল বিশৃংখল রাষ্ট্র নয়; এটি এমন একটি আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে, যার হাতে আছে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, ভয়ংকর ড্রোন সক্ষমতা, স্বল্প, দূরপাল্লা এবং মাঝারিপাল্লার ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্রের ভান্ডার এবং খুব সম্ভবত পরমাণু অস্ত্রেও ইতিমধ্যে সজ্জিত হয়েছে, এছাড়াও তার বিস্তৃত আঞ্চলিক মিত্র নেটওয়ার্ক এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট—হরমুজ প্রণালীর উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এমনকি দুর্দিনে বাব আল মান্দেব প্রণালীর উপরেও রয়েছে কৌশলগত প্রভাব।
যুদ্ধবিরতির এই স্বল্প সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম নামধারী রাষ্ট্রগুলো যারা ইহুদীবাদী ও পশ্চিমা শক্তির দালাল হিসেবে পরিচিত, নিজেদের স্থাপনা, ঘাঁটি এবং সবকিছু দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা শক্তিকে সহায়তা করেছে এমন রাষ্ট্রগুলো ইরানের সাথে তাদের সম্পর্ক পুনর্মমূল্যায়ন করে মধ্যপ্রাচ্যকে স্থিতিশীল করতে পারত। তা না করে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার কারণে এসব রাষ্ট্রও এখন সম্ভাব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রশক্তি হিসেবে ইরানের শত্রু তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে ধ্বংসের তালিকায় নাম লিখিয়েছে।
হরমুজ প্রণালীকে বলা হয় বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রাণভোমরা। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ তথা এক পঞ্চমাংশ প্রতিদিন এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়ে অতিক্রম করে। এই রুটে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম মুহূর্তেই বাড়িয়ে দিতে পারে যা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে এবং, যা সরাসরি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি, শিল্প উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ইতোমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণ সংকট এবং ধীরগতির প্রবৃদ্ধির চাপে রয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ বিশ্ববাজারকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে। জ্বালানির দাম বাড়লে ইউরোপ, এশিয়া এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ইতিহাস বলছে, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট বহু দেশে সরকার পরিবর্তন, গণবিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক সংকটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে মূল্য স্ফীতির কারণে উক্ত রাষ্ট্রের গণবিক্ষোভ, বিদ্রোহ এবং এগুলোর মাধ্যমে ক্ষমতাসীন সরকার গুলোর পতন ঘটাতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকে এইসব রাষ্ট্র ইরান যুদ্ধের মূল কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল তথা বিশ্বের দীর্ঘদিনের একক আধিপত্য বিস্তারকারী রাষ্ট্রটিকে আর মূল্যায়ন আগের মতো নাও করতে পারে। ইতিমধ্যে তেমন রাষ্ট্রগুলো বিকল্প হিসেবে চীন, রাশিয়া, ইরানের সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। এর মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের আধিপত্য অর্ধেক হারিয়ে ফেলেছে এমন কথা খুব বেশি বলা হবে না।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বৈশ্বিক জনমত। বিশ্বের অনেক দেশ ক্রমেই বড় শক্তিগুলোর একতরফা সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান যদি আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামো, জাতিসংঘের প্রক্রিয়া বা কূটনৈতিক সমাধানের পথকে দুর্বল করে, তাহলে তা বৈশ্বিক ব্যবস্থায় আস্থার সংকট সৃষ্টি করে এবং অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো মনে করে এমন আধিপত্যবাদী শক্তি যেকোনো সময় তাদের নিজ দেশে হামলে পড়তে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভক্তি আরও গভীর হয় এবং নতুন ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়।
ইরানের পাল্টা প্রতিরোধের প্রশ্নটিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। গত কয়েক বছরে দেশটি তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, ড্রোন সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় ইরানকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে গেছে, যেখানে কোনো সংঘাত শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা কম। বরং তা দ্রুত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যদি এতে ভুল করেও ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো কিংবা ন্যাটো ভুক্ত কোন দেশ সামান্যতম ভুল করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের স্বার্থের পক্ষে জড়িয়ে যায় তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে স্বার্থ থাকা রাশিয়া ও চীন সহ উত্তর কোরিয়া ও তাদের বলয়ের শক্তিগুলো আর গোপন থেকে লড়াই না করে প্রকাশ্য মাঠে নামতে পারে যা বিশ্বে এক ভয়াবহ ধ্বংসলীলার যুদ্ধ শুরু করতে পারে এমন আশঙ্কা করাও অমূলক নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) আজ পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রম-সংক্রান্ত বিষয়ে দেশের বিভিন্ন মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের (প্রেস) মালিকদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা।
মতবিনিময় সভায় প্রেস মালিকরা পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য সমাধান বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং উত্থাপিত বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
সভায় পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সরকার, এনসিটিবি এবং মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানসমূহের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে এনসিটিবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ