বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১১:৩৩ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্য আবারও অগ্নিগর্ভ। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন সামরিক পদক্ষেপ শুধু একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলার প্রশ্ন নয়; এটি বিশ্ব রাজনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক আইন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন করে এক গভীর অনিশ্চয়তার সূচনা করেছে।
এমন এক সময়ে এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল, যখন ইরানের বিরুদ্ধে এর আগে আধিপত্যবাদী মার্কিন ইজরাইলি অবৈধ আগ্রাসনের ৪০ দিনের যুদ্ধের ক্ষত এখনও শুকায়নি এবং পুরো ইরানি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক অভিভাবক আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হারিয়ে শোকে বিহ্ববল এবং ক্ষোভে ফুসছিল এবং তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাকে হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হচ্ছিল,, ঠিক তখনই ৪০ দিনের যুদ্ধের পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে উদগ্রীব থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত ইসরাইল কিংবা ইহুদী লবি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে বা প্রভাবিত হয়ে সেই চুক্তি লংঘন করে পুনরায় যখন ইরানে আগ্রাসন চালানো শুরু করেছে তখনই হয়তো এটি নির্ধারিত হয়ে গেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বলয়ের আধিপত্যবাদী পশ্চিমা শক্তির কবর রচনা হতে যাচ্ছে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপ, নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক হুমকির মুখে থাকার পরেও দীর্ঘ ৪০ দিনের যুদ্ধে বিশ্বের একমাত্র সুপার পাওয়ার এর বিরুদ্ধে এবং তাদের পোষা সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ইসরাইল এর বিরুদ্ধে ভয়াবহ প্রতিরোধ গড়ে তুলে তাদেরকে পিছু হটতে বাধ্য করে ঠিক তখনই ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের যুদ্ধে হেরে যাওয়ার লজ্জা ঢাকতে যুদ্ধ বিরোধী চুক্তিতে যেতে উদগ্রী হয়ে পড়েছিল। কিন্তু খুব সম্ভবত ইহুদী লবি বা ইজরাইলের আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হয়ে পুনরায় সেই একই ভুল পথে পা বাড়িয়ে ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে। এর পরিণতি কি হবে তার সময় বলবে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতাকে পাল্টে দিয়েছে এটা এখন নিশ্চিত করে বলা যায়। ইরান এখন আর কেবল নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত একটি দুর্বল বিশৃংখল রাষ্ট্র নয়; এটি এমন একটি আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে, যার হাতে আছে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, ভয়ংকর ড্রোন সক্ষমতা, স্বল্প, দূরপাল্লা এবং মাঝারিপাল্লার ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্রের ভান্ডার এবং খুব সম্ভবত পরমাণু অস্ত্রেও ইতিমধ্যে সজ্জিত হয়েছে, এছাড়াও তার বিস্তৃত আঞ্চলিক মিত্র নেটওয়ার্ক এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট—হরমুজ প্রণালীর উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এমনকি দুর্দিনে বাব আল মান্দেব প্রণালীর উপরেও রয়েছে কৌশলগত প্রভাব।
যুদ্ধবিরতির এই স্বল্প সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম নামধারী রাষ্ট্রগুলো যারা ইহুদীবাদী ও পশ্চিমা শক্তির দালাল হিসেবে পরিচিত, নিজেদের স্থাপনা, ঘাঁটি এবং সবকিছু দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা শক্তিকে সহায়তা করেছে এমন রাষ্ট্রগুলো ইরানের সাথে তাদের সম্পর্ক পুনর্মমূল্যায়ন করে মধ্যপ্রাচ্যকে স্থিতিশীল করতে পারত। তা না করে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার কারণে এসব রাষ্ট্রও এখন সম্ভাব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রশক্তি হিসেবে ইরানের শত্রু তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে ধ্বংসের তালিকায় নাম লিখিয়েছে।
হরমুজ প্রণালীকে বলা হয় বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রাণভোমরা। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ তথা এক পঞ্চমাংশ প্রতিদিন এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়ে অতিক্রম করে। এই রুটে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম মুহূর্তেই বাড়িয়ে দিতে পারে যা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে এবং, যা সরাসরি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি, শিল্প উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ইতোমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণ সংকট এবং ধীরগতির প্রবৃদ্ধির চাপে রয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ বিশ্ববাজারকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে। জ্বালানির দাম বাড়লে ইউরোপ, এশিয়া এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ইতিহাস বলছে, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট বহু দেশে সরকার পরিবর্তন, গণবিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক সংকটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে মূল্য স্ফীতির কারণে উক্ত রাষ্ট্রের গণবিক্ষোভ, বিদ্রোহ এবং এগুলোর মাধ্যমে ক্ষমতাসীন সরকার গুলোর পতন ঘটাতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকে এইসব রাষ্ট্র ইরান যুদ্ধের মূল কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল তথা বিশ্বের দীর্ঘদিনের একক আধিপত্য বিস্তারকারী রাষ্ট্রটিকে আর মূল্যায়ন আগের মতো নাও করতে পারে। ইতিমধ্যে তেমন রাষ্ট্রগুলো বিকল্প হিসেবে চীন, রাশিয়া, ইরানের সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। এর মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের আধিপত্য অর্ধেক হারিয়ে ফেলেছে এমন কথা খুব বেশি বলা হবে না।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বৈশ্বিক জনমত। বিশ্বের অনেক দেশ ক্রমেই বড় শক্তিগুলোর একতরফা সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান যদি আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামো, জাতিসংঘের প্রক্রিয়া বা কূটনৈতিক সমাধানের পথকে দুর্বল করে, তাহলে তা বৈশ্বিক ব্যবস্থায় আস্থার সংকট সৃষ্টি করে এবং অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো মনে করে এমন আধিপত্যবাদী শক্তি যেকোনো সময় তাদের নিজ দেশে হামলে পড়তে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভক্তি আরও গভীর হয় এবং নতুন ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়।
ইরানের পাল্টা প্রতিরোধের প্রশ্নটিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। গত কয়েক বছরে দেশটি তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, ড্রোন সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় ইরানকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে গেছে, যেখানে কোনো সংঘাত শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা কম। বরং তা দ্রুত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যদি এতে ভুল করেও ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো কিংবা ন্যাটো ভুক্ত কোন দেশ সামান্যতম ভুল করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের স্বার্থের পক্ষে জড়িয়ে যায় তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে স্বার্থ থাকা রাশিয়া ও চীন সহ উত্তর কোরিয়া ও তাদের বলয়ের শক্তিগুলো আর গোপন থেকে লড়াই না করে প্রকাশ্য মাঠে নামতে পারে যা বিশ্বে এক ভয়াবহ ধ্বংসলীলার যুদ্ধ শুরু করতে পারে এমন আশঙ্কা করাও অমূলক নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) আজ পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রম-সংক্রান্ত বিষয়ে দেশের বিভিন্ন মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের (প্রেস) মালিকদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা।
মতবিনিময় সভায় প্রেস মালিকরা পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য সমাধান বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং উত্থাপিত বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
সভায় পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সরকার, এনসিটিবি এবং মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানসমূহের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে এনসিটিবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬'-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছে মন্ত্রিসভা।
দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা সহজ ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন এই আইনের আওতায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের (পিপিপিএ) কার্যক্রমগুলো সমন্বিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ১২তম বৈঠকে আজ বৃহস্পতিবার এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উত্থাপিত এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুমোদন, নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি, প্রণোদনা, শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন এবং সরকারি সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াগুলোকে আরও সুগম, দ্রুত এবং সমন্বিত করা হবে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যের সঙ্গে এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, অনুমোদন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
সরকারের অভিমত, নতুন আইন কার্যকর হলে বিনিয়োগ উন্নয়ন কার্যক্রমে বিদ্যমান নীতিগত অসামঞ্জস্যতা হ্রাস পাবে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের দ্বৈততা দূর হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও বাড়বে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে উঠবে।
আইনটির উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলসহ ঘোষিত শিল্পাঞ্চলকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনেছে, লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রদানের পদ্ধতি এবং সময়সীমা নির্ধারণ, ক্ষুদ্র পিপিপি প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে সহজ অনুমোদনের ব্যবস্থা এবং অব্যবহৃত সরকারি জমি, স্থাপনা, শেয়ার ও স্বত্ব উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করার সুযোগ।
এছাড়া বিনিয়োগ ও ব্যবসা-সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার বিধান রাখা হয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ এবং ‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২০২৯’-এর খসড়াও অনুমোদিত হয়েছে।
নতুন জ্বালানি কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে নতুন আমদানি নীতি আদেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিক পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ, অনলাইন অনুমোদন ব্যবস্থা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সুবিধার বিধান রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নে সুলতানপুর গ্রামে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতের অন্ধকারে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোট শিশুদের মধ্যে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে প্রথমে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে তা ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করে এবং রাতের বেলায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নারীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যদি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হয় তাহলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দাবি করেছেন যে তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনুক, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ কান্নায় এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম মহোদয় আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা ও সরফভাটা পুলিশ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে, তিনি থানা ও পুলিশ ক্যাম্পের সার্বিক কার্যক্রম, ব্যারাক, ডাইনিং, অস্ত্রাগার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখেন। তিনি ततজনিতে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম, সমস্যা ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। যৌক্তিক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাসও প্রদান করেন।
এছাড়াও, জনগণের জানমাল রক্ষায় তিনি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরবর্তীতে, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানাধীন ক্ষেত্র বাজার এলাকায় স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এলাকার বাসিন্দারা মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলাজনিত সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন এবং এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল ও অপরাধ দমনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার মহোদয় বলেন, অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। আইন নিজের গতিতেই চলবে এবং অপরাধে জড়িত যে-ই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের চলমান অভিযান আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, কার্যকর পুলিশিং নিশ্চিত করতে জনসাধারণের সহযোগিতাই সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই অপরাধ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য নির্ভয়ে পুলিশকে জানাতে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। পুলিশ সুপার আশ্বস্ত করেন, জনগণের জানমাল রক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বদা আন্তরিক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এ সময়, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ