শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:০৩ এম
ইরান অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল জাতিসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে হামলা চালানোর ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থা ইরানবিষয়ক আগ্রাসন, নৃশংসতা এবং একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো আড়াল করতে চেষ্টা করছে।
বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক মাই সাতোর দায়িত্ব পালনের বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার মতে, যুক্তরাজ্য এই দায়িত্ব জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অপরাধের জন্য তেহরানকে দায়ী করতে জাতিসংঘের এই বিশেষ প্রতিবেদকের ভূমিকা ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর এবং অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মাই সাতোর একটি প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর ইরানের পক্ষ থেকে এই মন্তব্য করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান ইরানিদের দুর্ভোগকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাতকে কাজে লাগিয়ে ভিন্নমত দমনে অভিযান জোরদার করেছে তেহরান সরকার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময় ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপ ইরানের মানুষের দুর্ভোগ বাড়ালেও, দেশটির কর্তৃপক্ষ সেই সংঘাতকে অভ্যন্তরীণ বিরোধীদের দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার তিনটি উপজেলা থেকে পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সদর উপজেলার দুটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের রামরাইল বাজারে রামরাইল ইউনিয়নের লোকজন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একই সময়ে সুলতানপুর ইউনিয়নবাসীও এ ধরনের কর্মসূচি পালন করেন। তাদের অবরোধের ফলে ব্যস্ততম মহাসড়কটির দুপাশে ঘণ্টাখানেক যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়।
রামরাইল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কয়েকশ বাসিন্দা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে রামরাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হন। তারা মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল, সুলতানপুর, বাসুদেব; বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল এবং আখাউড়া উপজেলার নবগঠিত বরিশল ইউনিয়নকে নিয়ে ‘বরিশল’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের পাঁয়তারা শুরু করেছেন জেলা বিএনপির সদস্য ও ভূঞা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কবীর আহমেদ ভূঞা। তিনি গত ৮ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগে লিখিত আবেদন করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কবীর আহমেদ ভূঞার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব হেলেনা পারভীনের সই করা একটি চিঠি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বিষয়টি নিয়ে মতামতসহ স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিবেদনে জমা দেওয়ার নির্দেশনা এসেছে।
জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শরীফুল ইসলাম চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের মতামতসহ জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সড়ক অবরোধকারীরা নতুন উপজেলা গঠনের এই উদ্যোগকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে সরকারের কাছে দাবি জানান যে, তারা যেন এই বিষয়টি থেকে সরে আসেন। রামরাইল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান সোহাগ বলেন, ‘বাসুদেব, রামরাইল ও সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন নিয়ে একটি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাণকেন্দ্র হলো রামরাইল ইউনিয়ন। আমি কবীর আহমেদ ভূঞাকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই, আপনি পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে যে ষড়যন্ত্রে নেমেছেন, তা সফল হবে না। সর্বস্তরের জনগণ আজ মাঠে নেমে গেছে। আমাদের দাবি একটাই, আমরা কখনও এই বরিশল উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হব না।’
তরুণ আইনজীবী মুকুল চৌধুরী বলেন, তিনটি উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন নিয়ে নতুন যে উপজেলা করার চেষ্টা চলছে, তার প্রতিবাদে এই আন্দোলন। তিনি জানান, এই কর্মসূচি লাগাতার চলবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা না হবে, ততক্ষণ প্রতিবাদ চলবে। পাঁচটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা যে কোনো মূল্যে এই উদ্যোগ প্রতিহত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে স্থানীয় বাসিন্দা ইমন হাজারী অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল ও একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক অভিলাষ বাস্তবায়নের জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি প্রভাবশালী মহল স্থানীয় প্রশাসনকে নানাভাবে চাপে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলাকে ভেঙে দিতে চাচ্ছে। এলাকায় নানা অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। রামরাইল ও সুলতানপুরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থেকে অন্য কোনো উপজেলার অধীনে নেওয়ার প্রস্তাব তারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে আরও বক্তব্য দেন রামরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান সেলিম, বিএনপি নেতা সাদেকুর রহমান, বিএনপি নেতা আল আমিন, শাহগীর আলম, বাবুল খন্দকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জে পুলিশের টহল গাড়ির সামনে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, টহলরত পুলিশ সদস্যরা মিছিল থেকে হুমকি পাওয়ার পর সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন। এই ঘটনার পর যমুনা সেতু পশ্চিম থানার চার পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলাম সানতু এবং যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ক্লোজড হওয়া পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন— যমুনা সেতু পশ্চিম থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আরিফুর রহমান, কনস্টেবল নাসিমুজ্জামান, মোরশেদুল ইসলাম এবং চালক আব্দুল গফুর।
জানা গেছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের একটি এলাকায় জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. একরামুল হকের নেতৃত্বে ওই বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে একরামুল হককে মিছিলে সরাসরি উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। মিছিলের সামনে একটি পুলিশের টহল গাড়ি ছিল, যেখানে পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মিছিল থেকে লোকজনকে ‘একবারে মাইরা ফালামু’ বলতে শোনা যায়। একপর্যায়ে গাড়ির দরজা খোলা হলেও পরে দরজা বন্ধ করে টহল গাড়িটি চলে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার ফুটপাতকে পথচারীদের চলাচলের জন্য উপযোগী করে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হকারদের জীবিকা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ওয়ার্ডভিত্তিক হকার ব্যবস্থাপনা মডেল চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদ করলেই সমস্যা সমাধান হবে না; বরং চাঁদাবাজির অর্থনীতি বন্ধ করা এবং হকারদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার ফুটপাতের চারপাশে একটি বিশাল চাঁদাবাজির অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। ২০১৬ সালে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)-এর গবেষণায় ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির বার্ষিক পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা হিসেবে অনুমান করা হয়েছিল। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে হকার্স ফেডারেশনের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা হবে।
পাটওয়ারী বলেন, ফুটপাতের মালিক রাষ্ট্র, যেখানে ব্যবসা করেন হকাররা, কিন্তু ভাড়া আদায় করে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও চাঁদাবাজ চক্র। ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদা আদায়ের নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তন ঘটলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের চাঁদাবাজ ও দখলদারদের তালিকা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্যও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, অপরাধের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে চিহ্নিত ২৭৮ জনের মধ্যে ২৩০ জন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বর্তমান বা সাবেক নেতাকর্মী। তবে এ ধরনের তালিকার তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
পাটওয়ারী আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী চক্রকে নিয়ন্ত্রণ না করে শুধু হকার উচ্ছেদ করা হলে কিছুদিন পর আবার ফুটপাত দখল হয়ে যাবে। তখন আগের চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের মাধ্যমে একই ব্যবসা চালু হতে পারে। ফলে উচ্ছেদ, পুনর্দখল ও চাঁদা আদায়ের চক্র অব্যাহত থাকবে।
হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকায় হকার ও তাঁদের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবিকা এই খাতের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। বিকল্প কর্মসংস্থান কিংবা ব্যবসার উপযুক্ত জায়গা নিশ্চিত না করে তাঁদের উচ্ছেদ করা হলে তাঁরা আবারও ফুটপাতে ফিরে আসতে বাধ্য হবেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ডিজিটাল কার্ড ও নির্ধারিত বিক্রয় এলাকার উদ্যোগ থাকলেও কতজন হকার নিবন্ধিত হয়েছেন, কতজন বাস্তবে ব্যবসার জায়গা পেয়েছেন এবং সরকারি কোষাগারে কত টাকা জমা হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা প্রয়োজন।
সমাধান হিসেবে তিনি ওয়ার্ডভিত্তিক হকার ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি ওয়ার্ডে হকারদের নির্বাচিত প্রতিনিধি, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এসব কমিটি গঠন করা যেতে পারে।
কমিটির মাধ্যমে কোন এলাকায় কতজন হকার ব্যবসা করতে পারবেন, কোন সময়ে বসতে পারবেন এবং কী পরিমাণ ফি দিতে হবে, তা নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে পথচারীদের চলাচল, ক্রেতার উপস্থিতি ও হকারদের আয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় রাখার কথা বলেন তিনি।
এ ছাড়া প্রতিটি বরাদ্দ প্রকাশ্য ডিজিটাল তালিকায় রাখার, সরকারি ফি সরাসরি নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে জমা নেওয়ার এবং প্রতিটি লেনদেনের বিপরীতে রসিদ দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি। চাঁদাবাজির অভিযোগ জানানোর জন্য স্বাধীন অভিযোগ ব্যবস্থাও চালুর কথা বলেন।
পাটওয়ারীর প্রস্তাব, প্রথমে ঢাকার কয়েকটি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে এই মডেল চালু করে ফলাফল মূল্যায়ন করতে হবে। এরপর কার্যকারিতা বিবেচনায় পুরো ঢাকায় তা সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি বিকল্প স্থানে হকারদের ব্যবসা চালু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ফুটপাত দখলমুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, যেখানে ক্রেতা নেই, সেখানে দোকান বরাদ্দ দেওয়া পুনর্বাসন নয়। আবার জীবিকার বিকল্প নিশ্চিত না করে উচ্ছেদ করাও স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। পথচারীদের চলাচলের অধিকার, হকারদের জীবিকা এবং সিটি করপোরেশনের বৈধ রাজস্ব—এই তিনটি বিষয়কে একই ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে।
তাঁর মতে, ফুটপাত পরিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির অর্থনীতিও বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় উচ্ছেদ ও পুনর্দখলের ঘটনা চলতেই থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি শিক্ষাঋণ ও অনুদান থেকে লাখ লাখ ডলার চুরি করেছে প্রতারকেরা। তারা কলেজশিক্ষার্থীর পরিচয় চুরি করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে এসব অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবার এই প্রতারণা বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কেনিয়ার পাঁচ নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা সরকারি শিক্ষাসহায়তা থেকে ২০ লাখ ডলার অবৈধভাবে নিয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, অভিযুক্তরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পরিচয় চুরি করে বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হন এবং এর পর সরকারি শিক্ষাঋণ ও অনুদানের জন্য আবেদন করেন।
নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঋণের একটি অংশ কলেজের টিউশন ফি ও অন্যান্য খরচ মেটাতে দেওয়া হয়। বাকি অর্থ শিক্ষার্থীদের হাতে চলে যায়। অভিযুক্তরা এই অর্থ নিজেদের কাছে রেখে কেনিয়ায় থাকা সহযোগীদের একটি চক্রের মধ্যে ভাগ করে দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে ‘ভূত শিক্ষার্থী’ নামে পরিচিত প্রতারণা ঠেকাতে নেওয়া বড় অভিযানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের প্রতারকেরা অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে অনলাইনে কলেজে ভর্তি হয় এবং সরকারি আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করে। টাকা পাওয়ার পর তারা উধাও হয়ে যায়।
এই প্রতারণার ফলে সরকারের অর্থের ক্ষতি হচ্ছে এবং পরিচয় চুরি হওয়া সাধারণ মানুষও বিপদে পড়ছেন। প্রতারকেরা তাদের নামে ঋণ নিচ্ছে, ফলে এসব ঋণ পরিশোধের দায়ও পরিচয় চুরি হওয়া ব্যক্তিদের ওপর পড়ছে।
বিচার বিভাগের জাতীয় প্রতারণা দমন বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন এম. ম্যাকডোনাল্ড বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো ভুল নয়। এটি বড় পরিসরে পরিচালিত একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা।" তিনি আরো বলেন, প্রতারকেরা ভুয়া শিক্ষার্থীদের যতদিন সম্ভব কলেজে ভর্তি রাখার চেষ্টা করে, যার মূল উদ্দেশ্য সরকারি অর্থ, অর্থাৎ করদাতাদের টাকা চুরি করা। ম্যাকডোনাল্ড জানান, তদন্তকারীদের ধারণা, অন্তত ২০২১ সাল থেকে এই প্রতারণা চলছে এবং এতে চুরি হওয়া অর্থের পরিমাণ কয়েক শ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।
শিক্ষাসহায়তা নিয়ে প্রতারণা বন্ধ করতে বিচার বিভাগ দেশটির শিক্ষা বিভাগ ও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সঙ্গে কাজ করছে। এফবিআইয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সহকারী পরিচালক হেইথ জানকে জানান, সংস্থাটির ২৬টি আঞ্চলিক কার্যালয়ে ভুয়া শিক্ষার্থী নিয়ে ৪৫টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।
তদন্তে এখন পর্যন্ত প্রতারকদের খোলা ৮ লাখ ৩০ হাজারের বেশি ভুয়া শিক্ষাসহায়তা হিসাবের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব হিসাব খুলতে চুরি করা পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছিল। এসব হিসাবের কারণে অন্তত ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের শিক্ষাসহায়তা ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। তবে জানকে মনে করেন, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের আন্ডারসেক্রেটারি নিকোলাস কেন্ট এই প্রতারণা বেড়ে যাওয়ার জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনকে দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ, আগের প্রশাসন পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম শিথিল করায় প্রতারকেরা সহজে সরকারি শিক্ষাসহায়তা নিতে পেরেছে।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় বাইডেন প্রশাসন পরিচয় ও তথ্য যাচাইয়ের কিছু শর্ত শিথিল করেছিল। এর ফলে নিম্ন আয়ের পরিবারের অনেক কলেজশিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তার আবেদনে দেওয়া তথ্যের সত্যতা প্রমাণ করতে অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হতো না।
তখন বাইডেন প্রশাসন বলেছিল, পরিচয় চুরি ও প্রতারণা শনাক্ত করার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে। তবে এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন কেন্ট। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আবারও প্রতারণা শনাক্ত করার উদ্যোগ জোরদার করেছে। পাশাপাশি শিক্ষাসহায়তার আবেদনকারীদের পরিচয় যাচাইয়ে নতুন নিয়ম চালু করেছে।
২০২৫ সালের জুনে শিক্ষা বিভাগ নতুন নিয়ম কার্যকর করবে। এই নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের নিজেদের পরিচয় প্রমাণ করতে সরকার থেকে দেওয়া পরিচয়পত্র কলেজে দেখাতে হবে। তবে নতুন নিয়ম নিয়ে উচ্চশিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় শিক্ষার্থী আর্থিক সহায়তা প্রশাসক সমিতির নীতিবিশ্লেষণ বিভাগের পরিচালক জিল দেজঁ বলেন, কিছু আর্থিক সহায়তা কর্মকর্তা মনে করছেন, এখনো অনেক প্রতারক যাচাইয়ের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, যথেষ্ট কারণ ছাড়াই অনেক মানুষকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।
দেজঁ বলেন, নতুন উদ্যোগগুলো সঠিক ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে নেওয়া হচ্ছে কি না এবং এ ধরনের বড় প্রতারণা বন্ধে কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি আরো বলেন, গত কয়েক বছরে শিক্ষাসহায়তা নিয়ে প্রতারণা বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে।
কলেজগুলো অভিযোগ করেছে, শিক্ষার্থীদের পরিচয় ব্যবহার করে আর্থিক সহায়তার অর্থ চুরি করতে আসা প্রতারকদের কারণে তারা সমস্যায় পড়ছে। প্রতারকের সংখ্যা এত বেড়েছে যে তাদের সামাল দিতে কলেজগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, প্রতারকদের প্রধান লক্ষ্য কমিউনিটি কলেজগুলো। এসব কলেজে পড়াশোনার খরচ তুলনামূলক কম। ফলে টিউশন ফি ও অন্যান্য খরচ মেটানোর পর শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষাঋণ বা অনুদানের বেশি অর্থ থাকে। প্রতারকেরা মূলত এই অর্থই হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ