প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গত পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি শিক্ষাঋণ ও অনুদান থেকে লাখ লাখ ডলার চুরি করেছে প্রতারকেরা। তারা কলেজশিক্ষার্থীর পরিচয় চুরি করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে এসব অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবার এই প্রতারণা বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কেনিয়ার পাঁচ নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা সরকারি শিক্ষাসহায়তা থেকে ২০ লাখ ডলার অবৈধভাবে নিয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, অভিযুক্তরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পরিচয় চুরি করে বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হন এবং এর পর সরকারি শিক্ষাঋণ ও অনুদানের জন্য আবেদন করেন।
নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঋণের একটি অংশ কলেজের টিউশন ফি ও অন্যান্য খরচ মেটাতে দেওয়া হয়। বাকি অর্থ শিক্ষার্থীদের হাতে চলে যায়। অভিযুক্তরা এই অর্থ নিজেদের কাছে রেখে কেনিয়ায় থাকা সহযোগীদের একটি চক্রের মধ্যে ভাগ করে দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে ‘ভূত শিক্ষার্থী’ নামে পরিচিত প্রতারণা ঠেকাতে নেওয়া বড় অভিযানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের প্রতারকেরা অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে অনলাইনে কলেজে ভর্তি হয় এবং সরকারি আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করে। টাকা পাওয়ার পর তারা উধাও হয়ে যায়।
এই প্রতারণার ফলে সরকারের অর্থের ক্ষতি হচ্ছে এবং পরিচয় চুরি হওয়া সাধারণ মানুষও বিপদে পড়ছেন। প্রতারকেরা তাদের নামে ঋণ নিচ্ছে, ফলে এসব ঋণ পরিশোধের দায়ও পরিচয় চুরি হওয়া ব্যক্তিদের ওপর পড়ছে।
বিচার বিভাগের জাতীয় প্রতারণা দমন বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন এম. ম্যাকডোনাল্ড বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো ভুল নয়। এটি বড় পরিসরে পরিচালিত একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা।" তিনি আরো বলেন, প্রতারকেরা ভুয়া শিক্ষার্থীদের যতদিন সম্ভব কলেজে ভর্তি রাখার চেষ্টা করে, যার মূল উদ্দেশ্য সরকারি অর্থ, অর্থাৎ করদাতাদের টাকা চুরি করা। ম্যাকডোনাল্ড জানান, তদন্তকারীদের ধারণা, অন্তত ২০২১ সাল থেকে এই প্রতারণা চলছে এবং এতে চুরি হওয়া অর্থের পরিমাণ কয়েক শ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।
শিক্ষাসহায়তা নিয়ে প্রতারণা বন্ধ করতে বিচার বিভাগ দেশটির শিক্ষা বিভাগ ও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সঙ্গে কাজ করছে। এফবিআইয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সহকারী পরিচালক হেইথ জানকে জানান, সংস্থাটির ২৬টি আঞ্চলিক কার্যালয়ে ভুয়া শিক্ষার্থী নিয়ে ৪৫টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।
তদন্তে এখন পর্যন্ত প্রতারকদের খোলা ৮ লাখ ৩০ হাজারের বেশি ভুয়া শিক্ষাসহায়তা হিসাবের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব হিসাব খুলতে চুরি করা পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছিল। এসব হিসাবের কারণে অন্তত ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের শিক্ষাসহায়তা ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। তবে জানকে মনে করেন, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের আন্ডারসেক্রেটারি নিকোলাস কেন্ট এই প্রতারণা বেড়ে যাওয়ার জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনকে দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ, আগের প্রশাসন পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম শিথিল করায় প্রতারকেরা সহজে সরকারি শিক্ষাসহায়তা নিতে পেরেছে।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় বাইডেন প্রশাসন পরিচয় ও তথ্য যাচাইয়ের কিছু শর্ত শিথিল করেছিল। এর ফলে নিম্ন আয়ের পরিবারের অনেক কলেজশিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তার আবেদনে দেওয়া তথ্যের সত্যতা প্রমাণ করতে অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হতো না।
তখন বাইডেন প্রশাসন বলেছিল, পরিচয় চুরি ও প্রতারণা শনাক্ত করার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে। তবে এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন কেন্ট। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আবারও প্রতারণা শনাক্ত করার উদ্যোগ জোরদার করেছে। পাশাপাশি শিক্ষাসহায়তার আবেদনকারীদের পরিচয় যাচাইয়ে নতুন নিয়ম চালু করেছে।
২০২৫ সালের জুনে শিক্ষা বিভাগ নতুন নিয়ম কার্যকর করবে। এই নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের নিজেদের পরিচয় প্রমাণ করতে সরকার থেকে দেওয়া পরিচয়পত্র কলেজে দেখাতে হবে। তবে নতুন নিয়ম নিয়ে উচ্চশিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় শিক্ষার্থী আর্থিক সহায়তা প্রশাসক সমিতির নীতিবিশ্লেষণ বিভাগের পরিচালক জিল দেজঁ বলেন, কিছু আর্থিক সহায়তা কর্মকর্তা মনে করছেন, এখনো অনেক প্রতারক যাচাইয়ের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, যথেষ্ট কারণ ছাড়াই অনেক মানুষকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।
দেজঁ বলেন, নতুন উদ্যোগগুলো সঠিক ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে নেওয়া হচ্ছে কি না এবং এ ধরনের বড় প্রতারণা বন্ধে কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি আরো বলেন, গত কয়েক বছরে শিক্ষাসহায়তা নিয়ে প্রতারণা বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে।
কলেজগুলো অভিযোগ করেছে, শিক্ষার্থীদের পরিচয় ব্যবহার করে আর্থিক সহায়তার অর্থ চুরি করতে আসা প্রতারকদের কারণে তারা সমস্যায় পড়ছে। প্রতারকের সংখ্যা এত বেড়েছে যে তাদের সামাল দিতে কলেজগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, প্রতারকদের প্রধান লক্ষ্য কমিউনিটি কলেজগুলো। এসব কলেজে পড়াশোনার খরচ তুলনামূলক কম। ফলে টিউশন ফি ও অন্যান্য খরচ মেটানোর পর শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষাঋণ বা অনুদানের বেশি অর্থ থাকে। প্রতারকেরা মূলত এই অর্থই হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন