ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শেষ হচ্ছে না ‘গোপাল ভাঁড়’, আসছে টানা ৬ ঘণ্টার নতুন পর্ব


শেষ হচ্ছে না ‘গোপাল ভাঁড়’, আসছে টানা ৬ ঘণ্টার নতুন পর্ব

জনপ্রিয় বাংলা অ্যানিমেশন সিরিজ ‘গোপাল ভাঁড়’ শেষ হচ্ছে না। বরং ভক্তদের জন্য আসছে নতুন পর্ব। নতুন পর্বটি এক্সক্লুসিভ নয়, বরং ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে একটি বিশেষ আয়োজনে টানা ছয় ঘণ্টা প্রচারিত হবে সিরিজটি। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ‘গোপাল ভাঁড়’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার গুজবে আপাতত ইতি পড়ল।

বেশ কয়েক দিন যাবৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব চলছিল, যে আট থেকে আশির পছন্দের এই বাংলা অ্যানিমেশন সিরিজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই নতুন সংস্করণটি টেলিভিশনের জন্য নির্মিত এবং কৃষ্ণনগরের লোককথার জনপ্রিয় চরিত্র গোপাল ভাঁড়কে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে। ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল সনি আটে প্রচারের পর থেকেই এটি সমস্ত বয়সের দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

যখন সিরিজটি বন্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে, তখন বিভিন্ন ভক্তরা হতাশ হয়ে পড়েন। তবে অবশেষে জানা গেল, খবরটি সামান্য মিথ্যা। বরং নতুন পর্ব নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছে ‘গোপাল ভাঁড়’।

আরও পড়ুন: আসামে মুসলিমদের ১১০০ ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নিন্দা নাহিদ ইসলামের

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিশেষ প্রচারণামূলক পোস্ট প্রকাশ করে সনি আট কর্তৃপক্ষ। তারা নতুন পর্ব প্রচারের ঘোষণা দিয়ে লেখে, ‘হাসি, বুদ্ধি আর মশকরায় গোপাল ভার-এর নতুন পর্ব আসছে ১৫ আগস্ট সকাল ১১টায় শুধু সনি আট-এ!’

প্রকাশিত পোস্টারে গোপাল ভাঁড় হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে দেখা গেছে, এবং পোস্টারজুড়ে ভারতের স্বাধীনতা দিবসের আবহ রয়েছে। এরপর নতুন পর্বের একটি প্রচারণামূলক ভিডিও প্রকাশ করে চ্যানেলটি। সেখানে আরও চমক দিয়ে জানানো হয়, স্বাধীনতা দিবসে বিশেষ আয়োজন হিসেবে টানা ছয় ঘণ্টা চলবে গোপাল ভাঁড়ের নতুন পর্ব।

প্রচারণামূলক ভিডিওতে বলা হয়েছে, ‘স্বাধীনতা দিবসে স্বদেশ প্রেমে মজবে গোপাল… বুদ্ধির প্যাঁচে শত্রুকে করবে নাকাল… হাসির জোয়ারে ফুরফুরে হবে শনিবার সকাল, টানা ৬ ঘণ্টা।’ চ্যানেল কর্তৃপক্ষের এই ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘গোপাল ভাঁড়’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরটি মিথ্যা। যারা বিভ্রান্ত এবং হতাশ হয়েছিল, তাদের জন্য নতুন পর্বের ঘোষণায় এসেছে স্বস্তির খবর। এখন ১৫ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে টানা ছয় ঘণ্টা ‘গোপাল ভাঁড়’-এর নতুন পর্বে আবারও হাসি, বুদ্ধি আর মজার গল্পে মাতবেন দর্শকরা।

আরও পড়ুন: ঢাকা-সৌদি আরব রুটে ১৩৪ ফ্লাইট বাতিল, ২০ হাজার যাত্রী আটকে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লোকসভার আসন নিয়ে মোদির কাছে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের ৩ দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ পি.এম


লোকসভার আসন নিয়ে মোদির কাছে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের ৩ দাবি

ভারতের লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়) প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনটি দাবি পেশ করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী বিজয় লোকসভার মোট আসনসংখ্যার বিষয়টি এবং রাজ্যভিত্তিক আসন বণ্টন অপরিবর্তিত রাখার আহ্বান জানান। একইসাথে তিনি আসন্ন নির্বাচনে নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন নিশ্চিত করার কথাও বলেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো একটি চিঠিতে এসব দাবি জানিয়েছেন তিনি।

চিঠির সঙ্গে তামিলনাড়ু বিধানসভায় যে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, তার অনুলিপিও সংযুক্ত করা হয়। বিধানসভার প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, নতুন করে জনসংখ্যাভিত্তিক সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো রাজনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে। বিশেষ করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলোর জন্য এটি অন্যায় হবে।

বিজয় চিঠিতে উল্লেখ করেন যে, লোকসভার মোট সদস্যসংখ্যা স্থায়ীভাবে ৫৪৩টি রাখা প্রয়োজন। তিনি আরও জানান যে, প্রতি রাজ্যের নির্ধারিত আসন সংখ্যাও অপরিবর্তিত রাখতে হবে এবং এজন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনী আনার অনুরোধ জানিয়েছেন।

তামিলনাড়ু বিধানসভায় আলোচনায় বলা হয়, সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর আসন কমতে পারে, একইসাথে জনসংখ্যা বেশি থাকা উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পাবে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, সীমানা পুনর্নির্ধারণের কারণে ১৯৬৭ সালে তামিলনাড়ুর লোকসভা আসন ৪১ থেকে ৩৯ এ কমে গিয়েছিল।

তামিলনাড়ুর সরকার জানায় যে, ১৯৭১ সালের পর জনসংখ্যাকে ভিত্তি ধরে আসন পুনর্নির্ধারণ করা হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই রাজ্যগুলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য তালিকাভুক্ত করেছে।

এছাড়া, বিধানসভায় প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয় যে, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই ন্যায্য হবে না। আসন পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের নীতি বাস্তবায়ন করার দাবি জানান তিনি।

এখন সবার নজর কেন্দ্রীয় সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর রয়েছে। কারণ লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস কেবল সীমানা পরিবর্তনের বিষয় নয়, এটি জাতীয় রাজনীতিতে আঞ্চলিক ভারসাম্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামালপুরে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ২ নেতাকর্মী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০৮ পি.এম


জামালপুরে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ২ নেতাকর্মী আটক

 

জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের একাডেমিক ভবনের প্রবেশপথের পাশের দেয়ালে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে শোক ব্যানার টাঙানোর অভিযোগে পুলিশ নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের দুই নেতাকর্মীকে আটক করেছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাতের পর কলেজের মূল ফটকের পাশের দেয়ালে ওই শোক ব্যানারটি টাঙানো হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ শুক্রবার দুপুরে ওই দুজনকে আটক করে।

আটককৃতরা হলেন মারুফ হাসান জিহান (২০) ও মোহাম্মদ সীমান্ত শেখ (১৯)। জামালপুর শহরের পাথালিয়া এলাকার আহসান হাবিবের ছেলে জিহান। তিনি সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সীমান্ত একই এলাকার আব্দুল মমিনের ছেলে এবং ছাত্রলীগের কর্মী বলেও জানা গেছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শোক ব্যানার টাঙিয়েছে। উক্ত ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি রয়েছে এবং ‘শোক থেকে জাগরণ, জাগরণ থেকে প্রত্যাবর্তন’ লেখা রয়েছে।

ব্যানারের নিচে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ শাখার নাম উল্লেখ করা রয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, ‘ঘটনায় জড়িত জিহান ও সীমান্তকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৈঠাকাটা ভাসমান বাজারে জমজমাট ভেলা বাইচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হুমায়ুন কবির, বানারীপাড়া প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০৯ পি.এম


বৈঠাকাটা ভাসমান বাজারে জমজমাট ভেলা বাইচ

বরিশালের বানারীপাড়া এবং পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলার মিলনস্থল নাজিরপুরের বেলুয়া নদীর বৈঠাকাটা ভাসমান বাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে জমজমাট ভেলা বাইচ-২০২৬। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে নদীর বুকে আয়োজিত এ ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতাটি দেখতে নদীর দুই তীর ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর ভিড় জমে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া ভেলা বাইচের আয়োজন ঘিরে সকাল থেকেই বৈঠাকাটা এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজমান ছিল। ছোট ছোট ভেলায় প্রতিযোগীরা বৈঠা হাতে নদীর পানিতে অবতীর্ণ হন। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন ভেলাগুলোকে নানা রঙ ও বাহারি উপকরণ দিয়ে সাজানো হয়।

বাইচকে কেন্দ্র করে নদীর দুই তীর, বিভিন্ন নৌযান ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। নানা বয়সী মানুষ নৌকায় এবং নদীর তীরে অবস্থান নিয়ে প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করেন। ঢাক-ঢোলের শব্দ, দর্শকদের উল্লাস এবং প্রতিযোগীদের বৈঠার ছন্দে পুরো নদীজুড়ে সৃষ্টি হয় প্রাণচাঞ্চল্য।

দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা ঐতিহ্যবাহী ভেলা বাইচটি উপভোগ করেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন মুহূর্ত ধারণ করেন। নদীর বুকে একের পর এক ভেলার দৌড় আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসের মাধ্যমে বৈঠাকাটা ভাসমান বাজার এলাকা উৎসবের রূপ নেয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানান হয়, স্থানীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতিকে তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশীয় নৌক্রীড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ভেলা বাইচের আয়োজকদের মধ্যে ছিলেন শাহারিয়া পারভেজ, সজিব আহমেদ, নাইমুল ইসলাম মিঠু, রিয়াজ (রেকি), মেহেদী হাসান এবং মো. আরিফ।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের জন্য পুরস্কার হিসেবে প্রথম পুরস্কার ছিল LED টিভি, দ্বিতীয় পুরস্কার সাউন্ড বক্স এবং তৃতীয় পুরস্কার বাটন ফোন নির্ধারণ করা হয়।

ঐতিহ্যবাহী ভেলা বাইচকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। আয়োজক ও স্থানীয়রা প্রত্যাশা করেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী নৌক্রীড়াগুলো সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জানাজা শেষে বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান রফিকুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১০ পি.এম


জানাজা শেষে বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান রফিকুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন

নামাজে জানাজা এবং ফিউনারেল প্যারেডের শেষে সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারে অবস্থিত শাহীন কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এর তথ্য মতে, শুক্রবার ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারের প্যারেড গ্রাউন্ডে জানাজা এবং ফিউনারেল প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তারা মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানায়।

এছাড়া, অনুষ্ঠানে সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের পরিবারের সদস্য, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অন্য পদবীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে মরহুমের সম্মানার্থে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হয়। ফিউনারেল প্যারেড সম্পন্ন হওয়ার পর সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারের শাহীন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭৪ বছর ০৬ মাস ১৩ দিন। তিনি স্ত্রী, এক কন্যা, এক পুত্র ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ১৯৫২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর জেলার মতলব থানাধীন বাইশপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম আব্দুল আউয়াল এবং মাতার নাম হোসনে আরা বেগম। তিনি ১৯৬৭ সালে পিএএফ কলেজ, সারগোদা থেকে সিনিয়র ক্যামব্রিজ সম্পন্ন করেন। ০২ আগস্ট ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনী একাডেমিতে তিনি যোগদান করেন এবং ১৩ মার্চ ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে জিডি(পি) শাখায় কমিশন লাভ করেন। ১৯৭১ সালে পেশওয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি একজন চৌকস বৈমানিক ছিলেন। বিমান বাহিনীতে তাঁর সুদীর্ঘ কর্মজীবনে, তিনি PT-6, T-6G, Air Tourer, AN-24/26, Bell-206, FOUGA, SF-25C ও AN-32 বিমানসহ সফলতার সঙ্গে ৫০০০ ঘণ্টার অধিক উড্ডয়ন করেছেন। তিনি বিমান বাহিনীতে পেশাগত জীবনে, দেশ বিদেশে বিভিন্ন কোর্সে অংশগ্রহণ করেন এবং সফলতার সঙ্গে তা সম্পন্ন করেন। তিনি ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টর্স কোর্স, জুনিয়র কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কোর্স ও এয়ার স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। এছাড়া, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে তিনি ফ্লাইং কনভারশন কোর্স অন এএন-২৪/২৬ ও ফেমিলিয়ারাইজেশন কোর্স অন এন-৩২ বিমান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইন্টারন্যাশনাল ডিফেন্স ম্যানেজমেন্ট কোর্স ও চায়না থেকে এনডিইউ কোর্স কৃতিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করেন।

স্বাধীনতার পর দেশমাতৃকার সেবায় এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ২৯ মে ১৯৭২ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনী থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি ৩ নং স্কোয়াড্রনের অধিনায়ক, এফআইএস-এর অধিনায়ক, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির প্রধান প্রশিক্ষক, ডেপুটি কমান্ড্যান্ট ও কমান্ড্যান্ট, বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ও বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারের এয়ার অধিনায়ক, বিমান প্রশিক্ষণ পরিদপ্তর ও বিমান পরিচালন পরিদপ্তরের পরিচালক, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ, মিরপুর-এর এয়ার ডিএস, বাংলাদেশ বিমানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডিফেন্স অ্যাটাশে হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে, তিনি ২০০১ সালের ০৩ জুন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। দীর্ঘ ৩১ বছর ২৫ দিন কর্মজীবন শেষে বিমান বাহিনী প্রধান হিসেবে তিনি ২০০২ সালের ০৮ এপ্রিল বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম পেশাগত জীবনে ছিলেন একজন দক্ষ, মেধাবী ও অনুসরণীয় বৈমানিক। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রতি তাঁর নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ ছিল অনুকরণীয়। তিনি সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তথা দেশের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী, নিরহংকারী, সদালাপী ও পরোপকারী। তাঁর কর্মময় জীবন ও অবদান বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%