প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের বানারীপাড়া এবং পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলার মিলনস্থল নাজিরপুরের বেলুয়া নদীর বৈঠাকাটা ভাসমান বাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে জমজমাট ভেলা বাইচ-২০২৬। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে নদীর বুকে আয়োজিত এ ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতাটি দেখতে নদীর দুই তীর ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর ভিড় জমে।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া ভেলা বাইচের আয়োজন ঘিরে সকাল থেকেই বৈঠাকাটা এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজমান ছিল। ছোট ছোট ভেলায় প্রতিযোগীরা বৈঠা হাতে নদীর পানিতে অবতীর্ণ হন। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন ভেলাগুলোকে নানা রঙ ও বাহারি উপকরণ দিয়ে সাজানো হয়।
বাইচকে কেন্দ্র করে নদীর দুই তীর, বিভিন্ন নৌযান ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। নানা বয়সী মানুষ নৌকায় এবং নদীর তীরে অবস্থান নিয়ে প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করেন। ঢাক-ঢোলের শব্দ, দর্শকদের উল্লাস এবং প্রতিযোগীদের বৈঠার ছন্দে পুরো নদীজুড়ে সৃষ্টি হয় প্রাণচাঞ্চল্য।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা ঐতিহ্যবাহী ভেলা বাইচটি উপভোগ করেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন মুহূর্ত ধারণ করেন। নদীর বুকে একের পর এক ভেলার দৌড় আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসের মাধ্যমে বৈঠাকাটা ভাসমান বাজার এলাকা উৎসবের রূপ নেয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানান হয়, স্থানীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতিকে তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশীয় নৌক্রীড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
ভেলা বাইচের আয়োজকদের মধ্যে ছিলেন শাহারিয়া পারভেজ, সজিব আহমেদ, নাইমুল ইসলাম মিঠু, রিয়াজ (রেকি), মেহেদী হাসান এবং মো. আরিফ।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের জন্য পুরস্কার হিসেবে প্রথম পুরস্কার ছিল LED টিভি, দ্বিতীয় পুরস্কার সাউন্ড বক্স এবং তৃতীয় পুরস্কার বাটন ফোন নির্ধারণ করা হয়।
ঐতিহ্যবাহী ভেলা বাইচকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। আয়োজক ও স্থানীয়রা প্রত্যাশা করেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী নৌক্রীড়াগুলো সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন