০৫:৫৪ পি.এম
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান মন্তব্য করেছেন, দেশের সমৃদ্ধি এবং জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে একাত্তরে যাদের ভূমিকা বিতর্কিত ছিল, তাদের অকপটে সেই দায় স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
মন্ত্রী শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গাল রেজিমেন্টের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দিতে গিয়ে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে যারা অবস্থান নিয়েছিল, তাদের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে মুক্তিযোদ্ধা এবং জাতির জন্য বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া কঠিন। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ এবং গণতন্ত্রকে ধারণ করতে হবে।
আরও পড়ুন: দেশের অর্থনীতি তিন কাঠামোগত ফাঁদে আটকে, দারিদ্র্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতা
মন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় অনুষ্ঠিত সভায় জেনারেল এম এ জি ওসমানীর সভাপতিত্বে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই সভায় তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান যুদ্ধের নাম ‘মুক্তিযুদ্ধ’ রাখার এবং যুদ্ধের নেতৃত্ব জেনারেল ওসমানীর হাতে অর্পণের প্রস্তাব প্রদান করেন। সেই ঐতিহাসিক সভার স্মৃতি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে নামফলক স্থাপনের কাজ চলছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনকারী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অবদানের কথা উল্লেখ করে আহমদ আযম খান বলেন, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামের অখণ্ডতা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদেরও যথাযথ সম্মান জানাতে মন্ত্রণালয় কাজ করবে। ‘সম্মানটাই বড় বিষয়, টাকা নয়’—যোগ করেন তিনি।
মন্ত্রী ইস্ট বেঙ্গাল রেজিমেন্টের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রশংসা করে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ গঠনে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষের বিভাজন ভুলে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।
আরও পড়ুন: আলীকদমের ৩৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের মুখে যখন জাতি দিশেহারা এবং অবদমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখনই ইষ্ট বেঙ্গাল রেজিমেন্ট সাহসের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই সংকটময় মুহূর্তে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত এবং অনুপ্রাণিত করেছিল। এটিই হলো প্রকৃত সত্য।
অনুষ্ঠানে রাওযা ক্লাবের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল হকের সভাপতিত্বে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং অফিসাররা বক্তব্য দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন