ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে সাড়ে ২৪ কোটি টাকা দিল গ্রামীণফোন


শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে সাড়ে ২৪ কোটি টাকা দিল গ্রামীণফোন

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিলে ২৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা জমা করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) শ্রমিক কল্যাণ ও দায়িত্বশীল করপোরেট কার্যক্রম অনুসরণে নিজেদের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি এ অর্থ জমা করেছে।

এদিন রাজধানীতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার (সিএইচআরও) সৈয়দা তাহিয়া হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর হাতে চেক হস্তান্তর করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার। জমাকৃত অর্থ প্রতিষ্ঠানটির ২০২৫ সালের শ্রমিকদের লভ্যাংশ অংশগ্রহণ তহবিলের (ডব্লিউপিপিএফ) ১০ শতাংশ।

আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার গুঞ্জন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য

এ সময় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মন্তব্য করে বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধিতে শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য।

শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গ্রামীণফোনের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়মিতভাবে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এটি কেবল আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা নয়, বরং দায়িত্বশীল কর্পোরেট আচরণের একটি অনন্য উদাহরণ।’

মন্ত্রী এ সময় আরো আশাব্যক্ত করেন যে, অন্যান্য দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানও গ্রামীণফোনকে অনুসরণ করে শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষায় এগিয়ে আসবে।

গ্রামীণফোনের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার সৈয়দা তাহিয়া হোসেন বলেন, ‘দায়িত্বশীল করপোরেট নাগরিক হওয়ার বিষয়টি গ্রামীণফোনের সার্বিক পরিচালন প্রক্রিয়ারই অংশ। আমাদের প্রতিশ্রুতি শুধু কানেক্টিভিটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আমরা একটি নিরাপদ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেখানে আমাদের কর্মীরা প্রতিনিয়ত নতুন বিষয় শিখতে, অভ্যস্ত হতে এবং ভবিষ্যৎ-উপযোগী ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।’

আরও পড়ুন: মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপন করবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট

তিনি বলেন, ‘এই প্রদানকৃত অর্থ কর্মী কল্যাণের প্রতি আমাদের দায়িত্ব এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা ওপর গ্রামীণফোনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এই যৌথ পথচলার মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য হলো দক্ষ জনবল গড়ে তোলা, যারা এই পরিবর্তনশীল ডিজিটাল পরিবেশে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারবে এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

বাংলাদেশ শ্রম আইনের অধীনে স্থানীয় ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বছর শেষে তাদের মুনাফার ৫ শতাংশের এক-দশমাংশ শ্রম কল্যাণ তহবিলে জমা দেয়। যাত্রা শুরুর পর থেকে গ্রামীণফোন একটি দায়িত্বশীল করপোরেট কম্পানি এবং এই তহবিলের অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী হিসেবে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে ২০২৪ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ৩২৯ কোটি ৮৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৪৭ টাকা জমা দিয়েছে। আর ২০২৫ অর্থবছর এ তহবিলে আরো ২৪ কোটি ৬০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৬৫ টাকা তহবিলে জমা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ সময় গ্রামীণফোনের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হেড অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস অ্যান্ড কালচার মোহাম্মদ আওলাদ হোসোন, হেড অব কমপেনসেশন, বেনিফিটস অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স মোহাম্মদ খালেদ মৃধা, সিনিয়র ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস এক্সপার্ট মুহাম্মদ তাওহীদুল ইসলাম এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস এক্সপার্ট মো. হারুন অর রশিদ।

আরও পড়ুন: সরকারের ব্যর্থতা বিরোধীদের ওপর চাপাবেন না: ডা. শফিকুর রহমান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে চেক বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০৯ পি.এম


মুন্সীগঞ্জে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে চেক বিতরণ

মুন্সীগঞ্জ, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ : জেলায় অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণোত্তর মোট ২৪ জন প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে এককালীন আর্থিক অনুদানের এই চেক বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জুবায়ের হোসেন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আলল উদ্দিন ও অন্যান্য উৎসাহজনক ব্যক্তিবর্গ।

এ দিন ২৪ জন বেসিক কম্পিউটার এপ্লিকেশনের ওপর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার অনুদানসহ চেক প্রদান করা হয়।

জেলা প্রশাসক অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের নিজেদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার এবং নিজেদের জীবনমান উন্নয়নে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, সরকারের এই ধরনের আর্থিক অনুদান অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর আর্থ সামাজিক উন্নয়নে এবং স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধুনটে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


ধুনটে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা গ্রেপ্তার

বগুড়ার ধুনটে পুলিশ একাধিক মামলার মধ্যে থাকা একজন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম রানা (৪৭) কে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ জানায়, রবিবার (১৭ আগস্ট) রাতে ধুনট থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে গোসাইবাড়ী সাতমাথা মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করে। আমিনুল ইসলাম রানা, যিনি গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের চিথুলিয়া গ্রামের ইসলাইল হোসেনের ছেলে, গোসাইবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

পুলিশের তথ্যে পাওয়া যায়, ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের গাড়িবহরে হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ২০২৪ সালে রানার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

এর সাথে, ২০২২ সালের ৩০ মে শহরের আরাফাত হোটেলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্য আয়োজিত দোয়া মাহফিলে হামলা, মারধর ও ব্যানারে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলাতেও তিনি আসামি।

এছাড়া, ২০২৩ সালের ৭ জুন সন্ধ্যায় ধুনট পৌর এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে কর্মীসভা চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণ, নেতাকর্মীদের মারধর এবং কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায়ও আমিনুল ইসলাম রানাকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনটি মামলার আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেছেন, মামলার তদন্তে আমিনুল ইসলাম রানার সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে ৫৮ জনকে গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে ৫৮ জনকে গ্রেফতার

ঢাকা, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ : রাজধানীর তেজগাঁও বিভাগের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৫৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অত্র বিভাগের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

আজ ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ৩০ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ সাত জন, হাতিরঝিল থানা পুলিশ সাত জন, শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ছয় জন, তেজগাঁও থানা পুলিশ পাঁচ জন এবং আদাবর থানা পুলিশ তিন জনকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- নয়ন (১৮), মোসা. শাহিনুর বেগম (২০), মো. জুনায়েদ হোসেন ওরফে জুনাইদ (১৯), জেসমিন (২২), মো. শাহনেওয়াজ, জালাল উদ্দিন হিরা (৩২), মো. আসিফ তারেক (৩৪), মো. কোরবান (৩১), মো. বেলাল হোসেন (১৮), মনিরুল ислам (৪০), মো. রবিন (২০), মো. সাইদুর রহমান সাঈদ (৩৭), মো. রুবেল হোসেন ভাতিজা রুবেল (৩৫), মো. শাওন (৪০), মো. শরীফ হাওলাদার (৩০), মো. আফ্রিদি (২৭), মো. হোসেন (২৬), মো. জামাল, মো. হোসেন ভূঁইয়া (২১), মো. হোসেন, মো. জাকির হোসেন (৩২), মো. জয়নাল আবেদীন (৩২), মো. তানভীর হোসেন মাউরা রাকিব (২৬), মো. সাদ্দাম হোসেন (৪৭), মো. নয়ন (২০), মো. স্বপন সরদার (৩৮), মো. রাসেল (২৮), মো. মেহেদী হাসান (২৫), মো. ইমরুল হাসান (৩৯), মো. রাশেদ ইসলাম (১৯), মো. রাকিব (১৮), মো. সাগর হৃদয় (১৯), মো. জনী (২১), নূর ইসলাম (২০), মো. আল আমিন (২০), মো. সাগর (১৯), মো. পলাশ (২২), গোলাম রাব্বি (২৪), শাহরিয়ার সরদার (২২), মোস্তাফিজুর রহমান (২০), আব্দুল মোমেন (৩০), মো. জাকারিয়া (২৫), মো. মিরাজ (২২), সানিমুল হাসান শাওন (১৯), মো. আশরাফুল ইসলাম (৩০), জাহাঙ্গীর (২২), কামরুল (৩৭), জুম্মন (৩৫), মো. আমির হোসেন (৪০), মো. ইলিয়াস মিয়া (৫২), মোসা. বিলকিস (৪০), মো. রাকিব হোসেন (২৪), মো. আনোয়ার (৪০), মো. মাসুম (৩৫), মো. খাইরুল (৫২), মো. মেহেদী হাসান (২৫), মো. আব্দুল হাকিম (২৮) ও মোয়াজ্জেম হোসেন মারুফ (৩৩)।

গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টকশোতে বাগযুদ্ধের পর এবার রাশেদ-তুষারের পাল্টাপাল্টি পোস্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১২ পি.এম


টকশোতে বাগযুদ্ধের পর এবার রাশেদ-তুষারের পাল্টাপাল্টি পোস্ট

দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশো ‘স্বাধীন সংলাপ’-এ তুমুল বাগযুদ্ধে জড়ানোর পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মোহাম্মদ রাশেদ খাঁন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পৃথক ফেসবুক পোস্টে দুই রাজনীতিক একে অপরকে ইঙ্গিত করে নানা মন্তব্য করেন।

এর আগে, সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে এটিএন নিউজের নিয়মিত আয়োজন ‘স্বাধীন সংলাপ’-এর সাম্প্রতিক পর্বে বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রমের মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তর্কে জড়ান রাশেদ খান ও সারোয়ার তুষার।

৪২ মিনিটের ওই আলোচনার শেষ দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপস্থাপিকা রাশেদকে উদ্ধৃত করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে একটি প্রসঙ্গে যেতে চাইলে তুষার রাশেদের বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

একপর্যায়ে রাশেদকে উদ্দেশ করে তুষার বলেন, ‘উনি (রাশেদ) শতভাগ চ্যালেঞ্জ করে এমন অনেক কথাই বলেন। মিথ্যা কথা বলায় ওনার বিরাট… আছে।’ এরপর থেকে মূলত টকশো আর এগোতেই পারেনি। জুলাই আন্দোলনে কার ভূমিকা কেমন ছিল, কে মামলা খেয়েছে আর কে খায়নি- সেসব নিয়ে তর্কে জড়ান দুই বক্তা।

এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে সারোয়ার তুষারের বক্তব্যের জবাব দেন রাশেদ খাঁন।

তিনি বলেন, ‘গতকাল এটিএন নিউজ টকশোতে আমি পুরোটাই গঠনমূলক কথা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সারোয়ার তুষার শেষ পার্টে এসে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে অ্যাটাক করে বলেছে, মিডিয়া দেখলে সবার আগে, আর পুলিশ দেখলে সবার পরে থাকি! এটা নাকি তাকে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা বলেছে! কোন নেতারা? যারা গণঅভ্যুত্থানের পরপর এনসিপিতে যুক্ত হয়েছে! অথচ আমি ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনাকে কটুক্তির মামলায় জেল খেটেছি, ১৫ দিন রিমান্ডের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এ প্রসঙ্গে সে আমাকে বলেছে, জেল তো চুরির মামলায়ও হয়! তার কাছে জেল-জুলুমের কোন মূল্য নাই! অথচ আমি ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে থেকে ভূমিকা রেখেছি। সে সময় তাকে কখনো রাজপথে দেখি নাই।’

২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে নিজের ভূমিকার প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আর ২০২৪ এর আন্দোলনে আমি তো ছাত্র না যে নেতৃত্ব দেবো। শেখ হাসিনা মানুষ হত্যা শুরু করলে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের সাথে রাজনৈতিক সমন্বয় করেছি।’

রাশেদের দাবি, গণঅভ্যুত্থানের সময় নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আখতার হোসেনদের সঙ্গে জাতিসংঘের বাংলাদেশ প্রতিনিধির বৈঠক তার মাধ্যমে হয়েছিল।

১৮ জুলাই তিনি সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ ও আহনাফ সাঈদ খানকে আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান এবং এ নিয়ে সমন্বয়ের কাজ শুরু করেন বলেও দাবি করেন। পাশাপাশি আহনাফ সাঈদ খানের কাছে কর্মসূচি বাস্তবায়নে লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রাশেদ আরও বলেন, ‘১৯ জুলাই নুরুল হক নুরকে গ্রেপ্তার করার পরে আমার বাসায় ২ বার অভিযান চালায়। এরপর আমি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (সালাহউদ্দিন আহমদ) নেতৃত্বে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন সফল করতে রাজনৈতিক কর্মপন্থা নির্ধারণে কাজ করেছি। না কি সেসময় আন্দোলন নিয়ে কাজ না করে এরেস্ট হলে এরা (নব্য বিপ্লবীরা) খুশি হতো? ভুলে যেয়েন না, সমন্বয়করাও আত্মগোপনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে।’

আন্দোলনের শেষ পর্যায়ের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, ‘এছাড়া যখন আন্দোলন প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো, নতুনভাবে আন্দোলন শুরু করার জন্য ৩১ জুলাই বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও আইনজীবীরা যে হাইকোর্টের সামনে নামলো, সেটাও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমি পরামর্শের ভিত্তিতে ঠিক করেছিলাম। ৩ আগস্ট আমি গ্রেপ্তার ঝুঁকি নিয়ে শহীদ মিনারে গিয়েছি এবং সমন্বয়কদের সঙ্গে কথা বলেছি, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনে সম্পৃক্ত থেকেছি। তখনও আমাকে গ্রেপ্তার করার জন্য তন্নতন্ন করে খুঁজেছে।’

টকশোতে সারোয়ার তুষারের সঙ্গে বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘যাইহোক, গতকালের টকশোতে সারোয়ার তুষার আমাকে জিজ্ঞেস করেছে প্রধানমন্ত্রী কোথায় ছিলো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোথায় ছিলো। আমি উত্তর দিয়েছি, তারা নির্বাসিত ছিলো, সেখান থেকে কাজ করেছে। আমি এর প্রেক্ষিতে তাকে প্রশ্ন করেছি, আপনি কোথায় ছিলেন? সে উত্তরে বলেছে, ১৯ জুলাই মাঠে ছিলো। আমি বলেছি, আগে পরে কোথায় ছিলেন, সে উত্তর না দিয়ে আমাকে আক্রমণ করতেই থাকে এবং বেয়াদব ও মিথ্যুক বলে। আমি প্রথমবার তাকে কিছু বলি নাই, কিন্তু ২য় বার আবারও বেয়াদব বলাতে আমি পাল্টা জবাব বলেছি।’

এ প্রসঙ্গে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ইমতিয়াজ মির্জার একটি ফেসবুক পোস্টের কথাও তুলে ধরেন রাশেদ। এ প্রসঙ্গে তিনি পোস্টে বলেন, ‘ইমতিয়াজ মির্জা ভাই লিখেছেন, ‘‘সারোয়ার তুষারকে ২০২৪ জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির দিকে আমাদের ‘প্রগ্রেসিভ বিএএফ’ গ্রুপে যুক্ত করি। জুলাইয়ে আমাদের সব এক্টিভিটির হাব ছিলো প্রগ্রেসিভ বিএএফ, কারন ইয়াং ক্রাউড ছিলো আর দ্রুত এ্যাকশন নেয়া যেতো। ঠিক আগস্টের ২-৩ তারিখে আওয়ামী লীগ গুজব ছড়িয়ে দেয়, হোয়াটসএ্যাপ গ্রুপ গুলোতে যারা থাকবে তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে। যে শোনা সেই কাজ, সারোয়ার তুষার এর মত বিশাল বিশাল বিপ্লবীরা গ্রুপ থেকে চম্পট দেয়’’।’

সবশেষে সারোয়ার তুষারের সঙ্গে বিতর্কের বিষয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আমাকে কেউ ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করবে, আর আমি তাকে চুমু দিবো! এমন সুশীল ব্যক্তি আমি না। আপনারা শব্দের রাজনীতি করতে চান, আবার এতো চেতেন কেন? নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে ভণ্ডবস্তের রাজনীতির সূচনা করেছেন। এগুলো পরিহার করুন, নতুবা ইতরের সঙ্গে ভদ্রতা দেখানোর রাজনীতি বাংলাদেশের বাস্তবতায় কারও পক্ষে সম্ভবপর হবে না। ভদ্রতা আপনার পক্ষ থেকে আসলে, আমার পক্ষ থেকে আরও বেশি আসবে।’

রাশেদের ওই পোস্টের পর তাকে ইঙ্গিত করে পাল্টা জবাব দেন সারোয়ার তুষারও। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুক পোস্টে এনসিপির এ নেতা দাবি করেন, দেনদরবার বা লবিং করে তিনি টকশোতে যান না। তাকে টকশোতে ডাকতে কারও মাধ্যমে অনুষ্ঠান প্রযোজকদের তদবিরও করান না।

সারোয়ার তুষার লিখেছেন, ‘আমি দেনদরবার কিংবা লবিং করে টকশোতে যাই না। আমাকে টকশোতে যেন ডাকে সে জন্য অমুক-তমুককে দিয়ে টকশো প্রডিউসারদের তদ্বিরও করাই না। সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে টেলিভিশন হাউজগুলোকে চাপ দিয়ে নিজেকে টকশো আলোচক বানাই নাই।’

‘এমন দলছুট ভ্যাগাবন্ড কারো কারো কথা জানি, যারা হাউজগুলোতে সরকারি ক্ষমতার জোরে চাপ সৃষ্টি করে টকশোতে যায়৷ কারণ সরকারের কাছ থেকে যে খুদকুঁড়া পায়, তা হালাল করতে হবে তো! আমি কারো নাম নেই নাই, কিন্তু দেখবেন ঠিকই জায়গামতো গিয়ে ঢিলটা পড়বে!’ যোগ করেন তিনি।

‘মিডিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক শতভাগ অর্গানিক’ উল্লেখ করে তুষার বলেন, ‘বিভিন্ন নিউজের জন্য বাইট দেয়া, টকশোতে যাওয়া, কোথাও কথা বললে সেটা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা— আমার প্রতি মিডিয়ার এই মনোযোগের জন্য আমি এতটুকু দেনদরবার, তদ্বির করি নাই। এর সবচেয়ে বড় সাক্ষী হাউজগুলোর সিইও, সিএনই ও প্রডিউসাররা।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%