০২:৫০ এম
বিয়ের শেরওয়ানি বাসায় ফেলে আসার কারণে ক্ষমতার অপব্যবহার করে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নেওয়া একটি যাত্রীবাহী বিমান মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে আনার একটি নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা ঘটে গত শুক্রবার (৩ জুলাই) ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী বেসরকারি এয়ারলাইন্স ‘এয়ার অ্যাস্ট্রা’র একটি ফ্লাইটে। জেটসমূহের মধ্যে এই ঘটনার প্রভাব বেশ গুরুতর ছিল। এতে ফ্লাইটে থাকা শিশু ও বৃদ্ধসহ প্রায় ১০০ যাত্রী চরম ভোগান্তি ও দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টার বিলম্বের মুখে পড়তে বাধ্য হন।
এয়ার অ্যাস্ট্রার ফ্লাইটে যাত্রী হিসেবে থাকা গোলাম রাব্বি প্রিন্স নামক ওই যাত্রীর কারণে এ ধরনের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইन्स’-এর একজন ফার্স্ট অফিসার (পাইলট) হিসেবে পরিচিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাস্ট্রার ফ্লাইট ২এ-৪১৫ চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের কথা ছিল। বোর্ডিং সম্পন্ন হওয়ার পর যখন বিমানটি ট্যাক্সিওয়েতে অবস্থান করছিল, ঠিক তখনই ফার্স্ট অফিসার গোলাম রাব্বি প্রিন্স বিমান থেকে নেমে যাওয়ার জন্য হট্টগোল শুরু করেন।
কেবিন ক্রু তাকে জানিয়ে দেয় যে, গুরুতর চিকিৎসা বা নিরাপত্তাজনিত জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া ট্যাক্সিওয়ে থেকে বিমান ফিরিয়ে আনার নিয়ম নেই। কিন্তু তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের অফিসিয়াল আইডি কার্ড বের করে চাপ সৃষ্টি করেন এবং একপর্যায়ে ককপিটে গিয়ে নিজের পরিচয় দেন। অভিযোগ রয়েছে যে, এয়ার অ্যাস্ট্রার দায়িত্বে থাকা পাইলট তার পূর্বপরিচিত হওয়ায় সব নিয়ম নীতি ও যাত্রীদের ভোগান্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিমানটি পুনরায় টার্মিনালে ফিরিয়ে আনেন।
আরও পড়ুন: বিজেপি অফিসের সামনে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার হুমকি পশ্চিমবঙ্গের বিধায়কের
জানা গেছে, ফার্স্ট অফিসার গোলাম রাব্বি প্রিন্স তার পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে চট্টগ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তাড়াহুড়োর কারণে নিজের শেরওয়ানি বাসায় ফেলে আসেন। সেটি সংগ্রহ করতেই তিনি এমন খামখেয়ালি আচরণ করেন। পরে তিনি শেরওয়ানিটি এনে বিমানবন্দরে ফেরার পর দুপুর ১টার দিকে ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এই দীর্ঘ সময় যাত্রীদের বসিয়ে রাখার পরও এয়ার অ্যাস্ট্রা কর্তৃপক্ষ ন্যূনতম খাবার বা পানীয়ের ব্যবস্থাও করেনি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) বিধি অনুযায়ী, গুরুতর জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া ট্যাক্সিওয়ে থেকে বিমান ঘোরানোর সুযোগ নেই। এমনকি কোনো যাত্রী নেমে গেলে নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁর সমস্ত লাগেজ অফলোড করে পুনরায় সিকিউরিটি চেকের নিয়ম থাকলেও, এয়ার অ্যাস্ট্রা এই নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন