ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বন্যার উন্নতি পাঁচ জেলায়, রংপুরে পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা


বন্যার উন্নতি পাঁচ জেলায়, রংপুরে পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা

দেশের পাঁচটি জেলায় চলমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা তথ্য কেন্দ্র। একই সঙ্গে রংপুর বিভাগে তিনটি জেলায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আজ মঙ্গলবার, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী (দায়িত্বরত কর্মকর্তা) নুসরাত জাহান জেরিন স্বাক্ষরিত ‘বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাস'-এ এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বন্যার পূর্বাভাসে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থেকে ধীরে ধীরে উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলীয় নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার তিস্তা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট জব্দ, মূল্য ২৭ লাখ টাকা

তবে রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা রয়েছে।

আজকের বন্যা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে যে, রংপুর জেলায় তিস্তা নদীর কাউনিয়া স্টেশনে সাময়িকভাবে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এ কারণে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।

এ ছাড়া গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এ কারণে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

বিপৎসীমার ওপরে নদ-নদীর পানি দেশের নদ-নদীর পাঁচটি স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, তিস্তা নদীর ডালিয়া (নীলফামারী); সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জ); কুশিয়ারা নদীর মারকুলি (সুনামগঞ্জ); ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে সেলুনে ঢুকে নরসুন্দরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্ত্রী অভিযুক্ত

বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে বন্যা তথ্য কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে এবং উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয়, অরুনাচল এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উত্তরাংশে সক্রিয় এবং দেশের অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজমান রয়েছে। এমন অবস্থায় দেশের সব বিভাগে আগামী ২৪ ঘণ্টায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া কোথাও ভারি বর্ষণ হওয়ার আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সেই সঙ্গে দেশজুড়ে তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

এখন পর্যন্ত বন্যা আক্রান্ত ৮ জেলায় ৫৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এক সংবাদ সম্মেলনে আজ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬ লাখের বেশি মানুষ।

আরও পড়ুন: বাংলা একাডেমিতে বৌদ্ধ ঐতিহ্য বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করবে সরকার: মিলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০২ পি.এম


বন্যার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করবে সরকার: মিলন

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, চলমান মৌসুমি বৃষ্টিজনিত বন্যার কারণে যদি কোনো এইচএসসি পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারে, সেক্ষেত্রে সরকারের তরফ থেকে তাদের জন্য পুনঃপরীক্ষার আয়োজন করা হবে।

আজ সংসদে পটুয়াখালী-২ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. শফিকুল ইসলামের একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, বর্ষা মৌসুম জুড়ে দেশের সব পরীক্ষাকেন্দ্রকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

মন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, যদি কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে বন্যার পানি প্রবেশ করে, তাহলে পরীক্ষার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পারে, সে কারণে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অতি দ্রুত কেন্দ্র অন্যত্র সরিয়ে নিতে।

তিনি উল্লেখ করেন, 'এ পর্যন্ত কুমিল্লা সরকারি কলেজেই উল্লেখযোগ্য সমস্যা দেখা দিয়েছে। কলেজের প্রাঙ্গণ প্লাবিত হওয়ায় সেখানে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।' তিনি বলেন, যদি কিছু কেন্দ্রে পানি প্রবেশ করে, তবুও কর্তৃপক্ষ দ্রুত কেন্দ্র স্থানান্তর করে পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রী মিলন বলেন, সরকার পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যাতে কোনো শিক্ষার্থী বঞ্চিত না হয়, সেজন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশের পর প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারে, তখন সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজন হলে পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি আরও বলেন, 'চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আমরা ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা নিয়েছি এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সেই সুযোগ অব্যাহত থাকবে।' শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের পরীক্ষার আয়োজনের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ওপরেও বেশি উদ্বিগ্ন।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, কোনো ভুল বা ঘাটতির কারণে যদি পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারে, তাহলে তাদের জন্য পুনঃপরীক্ষার বিধান বিদ्यमান। মন্ত্রী বলেন, 'এই শিক্ষার্থীরা আমাদের ভবিষ্যৎ। কোনো অবস্থায়ই আমরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারি না এবং করবও না।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন মামলার ১৪ আসামি আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৩ পি.এম


সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন মামলার ১৪ আসামি আটক

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিশেষ অভিযানে জুয়া ও মাদকসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৪ জনকে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে আছেন জিন্নাহ মণ্ডল (৪২), হযরত আলী (৩৮), জামাল মিয়া (৩০), আবিজ হোসেন (২৫), শরীফুল ইসলাম (৩৫), সোহেল (৩০), জাবেদ হোসেন (২২), রুবেল হোসেন (৩৬), দুধু মিয়া (৪০), রাশিদুল ইসলাম (৩৫), রাকিব (২৪), সেলিম (৪৫), সাথী আক্তার (৩৫) এবং রিতা আক্তার (৩৫)।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ৩ আসামির কাছ থেকে ৭৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া পৃথক অভিযানে, জুয়া আইনে ৮ জন এবং পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোট ১৪ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানিয়েছেন, ‘মাদক, জুয়া ও অন্যান্য অপরাধ দমনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি শিগগিরই দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৩ পি.এম


প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি শিগগিরই দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন যে, হাইকোর্টে দায়ের করা একটি রিট পিটিশন নিষ্পত্তি হওয়ার পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির কার্যক্রম খুব শিগগিরই শুরু হবে।

তিনি আজ জাতীয় সংসদে নরসিংদী-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য খায়রুল কবির খোকনের লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানায়, প্রধানমন্ত্রী পদে পদোন্নতি সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন সম্প্রতি নিষ্পত্তি হাওয়ার কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, আগের নিয়োগ বিধিমালার আওতায় প্রধান শিক্ষক পদের ৬৫ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হতো। তবে এখন নতুন নিয়োগ বিধিমালায় এই হার বাড়িয়ে ৮০ শতাংশ করা হয়েছে।

ড. মিলন বলেন, নতুন নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন করা হলেও হাইকোর্টে বিচারাধীন মামলার কারণে পদোন্নতির কার্যক্রম স্থগিত ছিল। এখন মামলার নিষ্পত্তি হওয়ায় নতুন বিধিমালা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদের ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবল স্রোতে তিস্তার তীর সংরক্ষণকাজে ধস, দুর্ভোগে ৫০০ পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৫ পি.এম


প্রবল স্রোতে তিস্তার তীর সংরক্ষণকাজে ধস, দুর্ভোগে ৫০০ পরিবার

তিস্তা নদীর তীব্র স্রোতে রংপুরের গঙ্গাচড়া ও লালমনিরহাট সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন নির্মিত তীর সংরক্ষণকাজের প্রায় ২০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

এর ফলে কয়েকটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে এবং প্রায় ৫০০টি পরিবার পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে, সাথেই আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে যায়।

দিন কাটছে আতঙ্কে নতুন করে ঘরবাড়ি হারানোর ভয় নিয়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ পরিবারের।

স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, গত কয়েক বছর ধরে তিস্তার ভাঙনের কারণে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের নরশিং ও তালপট্টি এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলার হরিণচড়া এলাকার হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও জীবিকার শেষ সম্বল হারিয়েছে। চলতি বছর ত্রাণ উপদেষ্টা আসাদুল হাবিব দুলুর উদ্যোগে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ওই এলাকায় তীর সংরক্ষণকাজ বাস্তবায়ন করে। কিন্তু নতুন বাঁধ নির্মাণের পর নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে যে স্বস্তি এসেছিল, তা স্থায়ী হয়নি।

মঙ্গলবার রাতে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

নদীর তীব্র স্রোতে নতুন নির্মিত তীর সংরক্ষণকাজের প্রায় ২০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। একইসাথে নদীর পানিতে কয়েকটি বসতবাড়ি ভেঙে যায় এবং প্রায় ৫০০টি বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে যায়।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, লালমনিরহাটের আদর্শপাড়া থেকে গঙ্গাচড়ার তালপট্টি হয়ে নরশিং পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় তীর সংরক্ষণকাজ করা হয়েছিল।

গত কয়েক দিন ধরে তীব্র স্রোতের কারণে বাঁধটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সোমবার রাতের পানি বৃদ্ধির পর পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। ইতিমধ্যে প্রায় ২০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন স্থানে ধস দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, গত কিছুদিন ধরে তিস্তার পানি দ্রুত ওঠানামা করছে।

আকস্মিক বন্যা, তীব্র স্রোত এবং হঠাৎ পানি কমে যাওয়ার কারণে নদীতীরজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ পরিবারের বসতভিটা, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে।

তালপট্টি গ্রামের আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। ভেবেছিলাম এবার আর ভাঙন হবে না। কিন্তু কয়েক মাসও টিকল না। চোখের সামনে নতুন বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এখন আবার ঘরবাড়ি সরানোর চিন্তায় আছি।’

নরশিং এলাকার কৃষক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘সরকার অনেক টাকা খরচ করে বাঁধ নির্মাণ করেছে। কিন্তু এত দ্রুত যদি ভেঙে যায়, তাহলে এই বাঁধ দিয়ে আমাদের কী লাভ হলো? এখন আবার বাড়িঘর ও জমিজমা হারানোর ভয় রয়েছে।’

হরিণচড়া গ্রামের সাইদুল বলেন, ‘বাঁধ হওয়ার পর মনে হয়েছিল ভয় কেটে গেছে। এখন দেখি বাঁধও নদীতে চলে যাচ্ছে। রাতে ঘুমাতে পারি না। মনে হয় কখন ঘরটাও নদীতে ভেঙে পড়ে। ভাঙন শুরুর পর দ্রুত ব্যবস্থা নিলে হয়তো এতটা ক্ষতি হতো না। এখন জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও ব্লক না ফেললে পুরো বাঁধই নদীগর্ভে চলে যাবে।’

এ বিষয়ে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে সেখানে ভাঙন শুরু হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের কাজ চলছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও জিও ব্যাগ ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%